প্রথম তিন বছর শিশুর জীবন গঠনের স্বর্ণ সময়: ইন্দিরা
অনলাইন ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১০:৩৬ পিএম, ৪ ডিসেম্বর ২০১৯ বুধবার
মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেছেন, একটি শিশুর জীবনের প্রথম তিন বছর অত্যন্ত গুরুত্বপূণ। এ সময় শিশুর জীবন গঠনের স্বর্ণ সময়।
ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা আজ বুধবার ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ের হোটেল মেলিয়াতে তিন দিনব্যাপি ‘এশিয়া প্যাসিফিক রিজিওনাল নেটওয়ার্ক ফর আরলি চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্ট কনফারেন্স-২০১৯’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।
প্রথম তিন বছর একটি শিশুর আশি ভাগ বুদ্ধির বিকাশ ঘটে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিশুর প্রারম্ভিক জীবনের জন্য এক টাকা বিনিয়োগ করলে তা পরিণত বয়সে তেরগুন রিটার্ন প্রদান করে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকার শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশেরর জন্য ২০১৩ সালে শিশুর প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশের সমন্বিত নীতি প্রণয়ন করেছে এবং তা বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ২০৩০ সালে এসডিজি অর্জন ও বিশেষ করে এসডিজি গোল ৪ দশমিক ২ শিশুর শিক্ষা ও প্রারম্ভিক বিকাশ অর্জনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
আজ ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।
এতে বলা হয়, ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা জানান, শিশু অধিকার সনদ ১৯৮৯ স্বাক্ষরকারী প্রথম ২২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ একটি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিশুর অধিকারকে গুরুত্ব দিয়ে জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদের ১৫ বছর পূর্বে শিশু আইন-১৯৭৪ প্রণয়ন করে।
বাংলাদেশের ১৫টি মন্ত্রণালয় শিশুকেন্দ্রিক বাজেট বাস্তবায়ন করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে। যা গর্ভাবস্থায় মা ও শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করবে ও শিশুর জীবনের প্রথম এক হাজার দিনের পরিপূর্ণ বিকাশে সাহায্য করবে।
ভিয়েতনামের উপ প্রধানমন্ত্রী ভু ডুক ড্যাম এ কনফারেন্সের উদ্বোধন করেন।
এশিয়া প্যাসিফিক রিজিওনাল নেটওয়ার্ক ফর আরলি চাইল্ডহুড (আরনেক) ও ভিয়েতনামের মিনিস্ট্রি অব লেবার,ইনভ্যালিডস এন্ড সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার (মলিসা) যৌথভাবে এ কনফারেন্সের আয়োজনে করেছে।
এবারে কনফারেন্সর প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘সম্মিলিত কাজের মাধ্যমে শিশুর বিকাশ ও পরিবেশ উন্নয়ন’।
প্রতমন্ত্রী এ সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেন, শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশের সাথে সমন্বয় করে বাংলাদেশ সরকার শিশুর ৪ বছর বয়স থেকে প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা চালু, প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুলে মিড ডে মিল ও মাসিক বৃত্তি প্রদান করছে।
মায়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত প্রায় এগার লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এদের অধিকাংশ নারী ও শিশু যারা তাদের নিজ দেশে নির্যাতনের স্বীকার হয়েছে ও মানবেতর অবস্থায় শরণার্থী ক্যাম্পে অবস্থান করছে।
তিনি বলেন এসব শিশুর নিরাপদ জীবন ও তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে কনফারেন্সে উপস্থিত এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী শিশুদের সুন্দর জীবনের শুরু ও বিকাশের জন্য সরকার, বেসরকারি সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগি ও সুশীল সমাজ সকলকে একসাথে কাজ করার আহবান জানান।
