ঢাকা, বুধবার ০৮, জুলাই ২০২৬ ১৭:২৪:২০ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

মিয়ানমারে ফিরে রাজসিক অভ্যর্থনা পেলেন সু চি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০২:৪২ পিএম, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ সোমবার

ছবি: ইন্টারনেট

ছবি: ইন্টারনেট

নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগ দায়ের করা গাম্বিয়ার মামলায় মিয়ানমারের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন সেদেশের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি। মিয়ানমারের পক্ষে সাফাই গেয়ে নিজ দেশে ফিরে রাজসিক অভ্যর্থনা পেলেন ‍সু চি। শনিবার যখন দেশটির রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা সু চি দেশে ফেরেন, তখন তার হাজার হাজার সমর্থক তাকে অভ্যর্থনা জানাতে রাস্তায় জড়ো হন।

এই সময় নোবেলজয়ী সু চিও জনতার উদ্দেশে হাত নাড়ান। আর জড়ো হওয়া ব্যক্তিরা মিয়ানমারের পতাকা নেড়ে, সু চির ছবি তুলে ধরে তাকে চিৎকার করে শুভেচ্ছা জানান।

স্থানীয় একজন কৃষক খিন মং সোয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, মা সু (অং সান সু চি) আমাদের দেশের পক্ষে আদালতে গিয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে অভিযোগ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। কিন্তু, তিনি জাতির একজন দায়িত্বশীল নেতার মতো প্রথম পদক্ষেপ নিয়েছেন।

একটি সেনা অভিযানে ৭ লাখ ৩০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসার পর ১৯৪৮ সালের গণহত্যা কনভেনশন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের করে গাম্বিয়া। আরো বড় ধরনের ক্ষতি ঠেকাতে ‘অন্তর্বর্তীকালীন পদক্ষেপ’ নিতে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের প্রতি আহ্বান জানান আফ্রিকার দেশটি।

দ্য হেগে ৩ দিনের ওই শুনানিতে অংশ নিয়ে সু চি কার্যত দেশটির সেনাবাহিনীর পক্ষেই সাফাই গান। গণহত্যার কথা অস্বীকার করে যুক্তি দেখিয়ে সু চি বলেন, তারা বিষয়টির আন্তর্জাতিকীকরণ চান না। দেশের সামরিক আদালতেই এ সংক্রান্ত বিচারের সুযোগ চান। এই বিচার করার এখতিয়ার জাতিসংঘের নেই।

শুনানির শেষ দিনে সু চি বলেন, আদালতের মামলার তালিকা থেকে এটি সরিয়ে ফেলতে অনুরোধ জানিয়েছে মিয়ানমার। একইসাথে গাম্বিয়ার অনুরোধ করা অন্তর্বর্তীকালীন পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করতেও আদালতের প্রতি আহ্বান জানান ‍সু চি।

সু চি’র দাবি, তাদের সরকার সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় কাজ করছেন এবং তারা তা চালিয়ে যেতে চান। তিনি বলেন, আদালতের কাছে আমরা সেই সুযোগ চাই।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি তল্লাশি চৌকিতে বিদ্রোহীদের হামলার পর রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত নিধন অভিযান শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। ব্যাপক হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ ও নির্যাতনের মুখে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। ওই ঘটনার দুই বছরের বেশি সময় পর গত ১১ নভেম্বর অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশনের (ওআইসি) সমর্থনে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ দায়ের করে গাম্বিয়া।

-জেডসি