ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৯, জুলাই ২০২৬ ২১:৪৩:০৯ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

বঙ্গবন্ধুর লাশ পড়ে থাকল কেন, উত্তর এখনো পাইনি: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:০২ পিএম, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯ মঙ্গলবার

বঙ্গবন্ধুর লাশ পড়ে থাকল কেন, উত্তর এখনো পাইনি: প্রধানমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধুর লাশ পড়ে থাকল কেন, উত্তর এখনো পাইনি: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ১৫ আগষ্টের বিয়োগান্তকব ঘটনা স্মরণ করে বলেছেন,‘এতবড় একটা ঘটনা বাংলাদেশে কি কোন লোক জানতে পারল না। কেউ কোন পদক্ষেপ নিল না। ঐ লাশ পড়ে থাকলো ৩২ নম্বরে,কেন? সেই উত্তর আমি এখনো পাইনি।’

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিজয় দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এতবড় সংগঠন, এত নেতা কোথায় ছিল? মাঝে মাঝে আমার বড় জানতে ইচ্ছে করে যে, কেউ সাহসে ভর করে আসতে পারল না! বাংলাদেশের সাধারণ মানুষতো বঙ্গবন্ধু মুজিবের সঙ্গে ছিল! হয়তো সেই ব্যর্থতার খেসারতই দিতে হয়েছে জাতিকে!’

এ সময় জাতির পিতা হত্যার পর এদেশে ১৯টি ক্যু, একের পর এক সামরিক সরকারের আগমন এবং ইতিহাস বিকৃত করে দেশকে পাকিস্তানী ভাবধারায় নিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টার জন্য দুঃখী জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন না হওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী ৪৯ তম বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে দেশবাসীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘এই বিজয় দিবস আজকে ব্যাপকভাবে উদযাপিত হয়েছে। সারাদেশ লাল-সবুজের রঙে রঙ্গিন হয়ে এ বিজয় উদযাপন করেছে। অনেকে চোখে বুকভাঙ্গা কান্না আর মুখে হাসি না নিয়ে উদযাপন করেছে। তাই, এদিনটি যেমন আনন্দের তেমনি স্বজন হারানোর বেদনারও।’

তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি ঠিক বিজয়ীর বেশে বাঙালি জাতি সারাবিশ্বে তাঁর মর্যাদা নিয়ে চলবে। বাংলাদেশ হবে উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ এবং জাতির পিতার স্বপ্ন আমরা পূরণ করবো-সেটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা।’

প্রধানমন্ত্রী সরকারের বিগত তিন মেয়াদে সাড়ে ১০ বছরের শাসনে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধলে বলেন, ‘শতবাধা বা ষড়যন্ত্র হলেও বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দারিদ্র ২০ ভাগে নামিয়ে এনেছি এবং প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১৫ ভাগে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছি। মাতৃ এবং শিশু মৃত্যুহার হ্রাস পেয়েছে এবং মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়ে আয়ুস্কাল বৃদ্ধি পেয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ার ফলে উন্নয়ন প্রকল্পের শতকরা ৯০ শতাংশ বাংলাদেশ এখন নিজস্ব অর্থায়নেই করতে পারে। পদ্মা সেতু নিজস্ব অর্থায়নে তৈরী করছে এবং ক্রমান্বয়ে বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার সক্ষমতা অর্জন করছে।

জনগণ পক্ষে থাকলেও বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের সময় বিরোধীতা করে পাকিস্তানের পক্ষাবলম্বনকারি তৎকালিন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রীর ‘বাংলাদেশ স্বাধীন হলে কি হবে, তলাবিহীন ঝুড়ি হবে’ সংক্রান্ত বিদেশি মিডিয়ায় করা মন্তব্য’র প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সে দেশটির থেকে অন্তত এক শতাংশ অধিক দারিদ্রের হার কমানোই তাঁর সরকারের লক্ষ্য হিসেবেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘যেদেশ বলেছিল বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে কি হবে একটা বাস্কেট কেস হবে’- সেই দেশের দারিদ্রের হার ১৮ শতাংশ। আমার লক্ষ্য হলো ঐ ১৮ শতাংশ থেকে এক শতাংশ হলেও দারিদ্রের হার কমানো।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘কাজেই আমি একটা অনুরোধ করবো সবাইকে- জীবনে কি পেলাম, পেলাম না, সে চিন্তা নয়, মানুষের জন্য কতটুকু করতে পারলাম, জনগণকে কতটুকু দিতে পারলাম সে চিন্তাটাই আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের থাকতে হবে।’

অপরিমিত অর্থ- সম্পদের দিকে ঝুঁকে পড়াদের তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘অর্থ সম্পদ কেউ কবরে নিয়ে যেতে পারে না। কিন্তু অর্থপ্রাপ্তি একটি নেশার মত হয়ে যায়। মানুষ অন্ধের মত ছুটতে থাকে। তাদের পরিবার ধ্বংস হয়, ছেলে-মেয়েরা বিপথে যায়, মাদকের পথে বা জঙ্গিবাদে জড়ায়।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে যদি কেউ মুক্ত হতে পারে আর দেশের জন্য নিবেদিত প্রান হতে পারে তাহলেই সে দেশের উন্নতি হবে।’