‘নির্ভয়া’ ধর্ষণকাণ্ড : চূড়ান্ত বিচারেও আসামিদের মৃত্যুদণ্ড
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০৬:৫১ পিএম, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯ বুধবার
‘নির্ভয়া’ ধর্ষণকাণ্ড : চূড়ান্ত বিচারেও আসামিদের মৃত্যুদণ্ড
ভারতের বহুল আলোচিত মেডিকেলছাত্রী ‘নির্ভয়া’কে ধর্ষণে অভিযুক্ত চার আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখেছেন দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। অক্ষয় ঠাকুর নামের অন্যতম আসামির করা রিভিউ আবেদন আজ বুধবার খারিজ হয়ে গেছে।
মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামিরা ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা করার সুযোগ পাবেন। সুযোগ না নিলে বা রাষ্ট্রপতি আবেদন খারিজ করে দিলে আসামিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে কোনো বাধা থাকবে না।
ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুকেশ সিংহ, বিনয় শর্মা ও পবন গুপ্ত নামের তিন আসামির রিভিউ আবেদন আগেই খারিজ হয়েছিল। বাকি ছিল অক্ষয়ের। আজ দেশটির সুপ্রিম কোর্টে তার রিভিউর শুনানি ছিল, যা তিন বিচারকের আপিল বেঞ্চ খারিজ করে দিয়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল করেন।
রায়ের পর অক্ষয়ের আইনজীবী তার প্রাণভিক্ষার আবেদনের জন্য তিন সপ্তাহ সময় চান। আপিল বেঞ্চ সেটি এক সপ্তাহের জন্য সময় দেন।
২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাতে বন্ধুর সঙ্গে সিনেমা দেখে বাড়ি ফেরার সময় চলন্ত বাসে ধর্ষণের শিকার হন প্যারামেডিকেলের ছাত্রী নির্ভয়া। মুকেশ, বিনয়, পবন, অক্ষয় ও বাসচালক রামসিংহসহ মোট ছয় যুবক বাসের ভেতর নির্ভয়ার বন্ধুকে মারধর করে তার হাত-পা বেঁধে ফেলে। গণধর্ষণের পর নির্ভয়া ও তার বন্ধুকে চলন্ত বাস থেকে ফেলে দেয় তারা।
ঘটনার দুই সপ্তাহ পর সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নির্ভয়া। পুরো ভারতজুড়ে এ ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে আন্দোলন শুরু করে ছাত্র-জনতা। ভুক্তভোগীর নাম অন্য হলেও ভারতীয় গণমাধ্যম তাকে ‘নির্ভয়া’ বিশেষণ দেয়।
মামলায় অভিযুক্ত ছয়জনের মধ্যে একজন ওই সময় ছিল অপ্রাপ্তবয়স্ক। তাই কিশোর অপরাধীদের জন্য প্রযোজ্য আইনে ২০১৫ সালে তিন বছরের জন্য তাকে সংশোধনাগারে পাঠান আদালত। আইন অনুযায়ী সেটাই ছিল অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সর্বোচ্চ সাজা। প্রধান আসামি বাসচালক রাম সিং কারাগারে মারা গেলে তার নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
২০১৫ সালে শাস্তির মেয়াদ কাটিয়ে ওই ‘কিশোর’ অপরাধী মুক্তি পেলে ফের ক্ষোভে ফেটে পরে ভারত। তারপর দেশটির সরকার ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সীদেরও ‘প্রাপ্তবয়স্ক’ বিবেচনা করে বিচারের আইন প্রয়োগ বাস্তবায়ন করে। ২০১৩ সালে ভারতের একটি দ্রুত বিচার আদালত ৪ আসামির ফাঁসির রায় দেয়। ২০১৪ সালে ভারতের হাইকোর্ট ও ২০১৮ সালে আপিল বিভাগ একই দণ্ড বহাল রাখে।
গত বছর জুলাইয়ে মুকেশ, পবন ও বিনয়ের রিভিউ আবেদন খারিজ হয়ে যায়। আরেক আসামি অক্ষয় গত ১০ ডিসেম্বর মৃত্যুদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করলে তার ওপর শুনানি শুরু হয়।
অক্ষয়ের আইনজীবী এপি সিং আদালতে বলেন, গণমাধ্যম ও জনতার চাপেই অক্ষয়কে মামলায় জড়ানো হয়েছে। মৃত্যুর আগে দেওয়া নির্ভয়ার জবানবন্দি ‘সন্দেহজনক’ এবং তার ওপর ‘নির্ভর করা যায় না’।
এর জবাবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তুষার মেহতা বলেন, ‘কোনো ক্ষমা অভিযুক্তের প্রাপ্য নয়। এ ধরনের দানব তৈরি করার জন্য ভগবানও লজ্জা পাবে। যে ধরনের অপরাধে ‘মানবতা কেঁদে ওঠে’ এটা সেই ধরনের মামলা।’
