স্বাধীনতার বিয়াল্লিস বছর কেটে গেছে৷ কিন্তু নারী মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতি মেলেনি৷ তাদের আত্নত্যাগের কোনো তালিকাও নেই স্বাধীন বাংলাদেশে৷ নেই বলিদানের কাগুজে প্রমানও৷ মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাসে ৩০ লাখ মানুষ গণহত্যার শিকার হয়, যার কমপক্ষে ২০ শতাংশ ছিল নারী৷ অসংখ্য নারী মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন সরাসরি৷ তবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য কিংবা নথিপত্র নেই৷ ত্যাগ ও বীরত্বের কোনো স্বীকৃতি পাননি নারী মুক্তিযোদ্ধারা৷ জোটেনি মর্যাদা, মেলেনি রাষ্ট্রীয় পদক, ভাতা৷ এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় নারীনেত্রীরা৷ কয়েকজন তাদের এ ক্ষোভের কথা বলেছেন৷ তাদের বক্তব্য তুলে ধরা হলো৷
মানবাধিকার নেত্রী হামিদা হোসেন বলেন, 'মুক্তিযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত নারীকে বীরাঙ্গনা না বলে মুক্তিযোদ্ধা বলা উচিত৷ নির্যাতিত নারীদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সম্মানিত করা উচিত৷ 'বীরাঙ্গনা' নন, তাঁরা মুক্তিযোদ্ধা৷ মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় তাঁদেরও নাম ওঠানোর দরকার এবং এটা সময়ের দাবি৷'
মুক্তিযোদ্ধা ও নারী নেত্রী আয়েশা খানম বলেন, 'শুধু মুক্তিযুদ্ধ নয়; সকল ক্ষেত্রেই নারীর স্বীকৃতি নেই৷ মুক্তিযোদ্ধা নারীর যেমনি স্বীকৃতি নেই তেমনি মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও নির্যাতিত নারীর সংখ্যা নিরূপণ করা হয়নি৷ বিষয়টি আমাদের জন্য দুর্ভাগ্য৷ একাত্তরে বিপুলসংখ্যক নারী ধর্ষিত ও নিহত হয়েছিলেন৷ যুদ্ধের পর প্রতিদিন অসংখ্য নারীকে গর্ভপাত করানো হতো৷ সামাজিকভাবেও নিগৃহীত হয়েছেন তাঁরা৷'
সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল বলেন, 'নারী মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো সরকারই খোঁজ নেয়নি৷ মানবেতর জীবনযাপন করছেন তাঁরা৷ সামাজিকভাবেই তাঁদের অবদান স্বীকৃত নয়৷ এটা অত্যন্ত দুঃখজনক৷ যোদ্ধা নারী, ধর্ষিতা নারী, শহীদ নারী কারোই স্বীকৃতি মেলেনি৷ নারী সমাজের পক্ষ থেকে তাদেও স্বীকৃতির এ দাবি অনেক আগে থেকেই করা হচ্ছে৷ কিন্তু কোনো সারা মিলছেনা ৷ বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক'
নারীনেত্রী ফরিদা আখতার বলেন, 'মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশ নেওয়া নারী মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো তালিকা সরকার করেনি৷ রাষ্ট্রীয় পদক, ভাতাও মেলেনি নারী মুক্তিযোদ্ধাদের৷ সামাজিক মর্যাদাও জোটেনি তাঁদের কপালে৷ সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে যুদ্ধ করা, আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিত্সাদান, ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধাদের খাওয়ানো, তথ্য সরবরাহ থেকে আশ্রয় দেওয়ার মতো অনেক কাজ করেছিলেন নারীরা৷ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রেও কর্মরত ছিলেন অনেক নারী৷ তাঁরা সবাই মুক্তিযোদ্ধা৷ স্বাধীনতাযুদ্ধে তাঁদের অবদান কোনো অংশে কম নয়৷'
১৬ ডিসেম্বর ২০১৩