ঢাকা, বুধবার ০৮, জুলাই ২০২৬ ১৫:০৪:২২ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

‘যারা ভোট দিলেন, তারাই নাগরিক নন!’ প্রশ্ন মমতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১০:৩৩ এএম, ২৮ ডিসেম্বর ২০১৯ শনিবার

নৈহাটি উৎসবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

নৈহাটি উৎসবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

যাদের ভোটে জিতে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে, এখন তাদের কাছেই নাগরিকত্বের প্রমাণ চাইছে—সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতায় এবার এই যুক্তিতেই কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রশ্ন করলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তার প্রশ্ন, ‘ভোট নেওয়ার সময় যারা ‘নাগরিক’ এখন তারা নাগরিক বলে স্বীকৃতি পাবেন না কেন? তাদের আবার নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে কোন যুক্তিতে?’

আজ শুক্রবার ‘নৈহাটি উৎসব’-এর উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, ‘কাউকে বাংলাছাড়া হতে দেব না, দেশছাড়া হতে দেব না। আপনাদের কোনও চিন্তা নেই। আপনাদের লড়াই আমি লড়ব। আপনাদের সব চিন্তা, সব দায় আমাকে দিন। দেখি কারা আপনাকে এ দেশ থেকে তাড়াতে পারে।’  

মুখ্যমন্ত্রী মমতা আরও জানান, এ রাজ্যের সব উদ্বাস্তু কলোনিকেই তার সরকার বৈধতা দিয়েছে। ফলে কোনও কলোনির বাসিন্দাকে কেউ তাড়াতে পারবে না। আজ না হলে কাল তাদের সকলেই জমির পাট্টা পাবেন।

উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়ার এই সীমান্ত শহরে দাঁড়িয়ে দুই জেলায় মতুয়া সম্প্রদায়ের বিপুল সংখ্যক মানুষকে নতুন নাগরিকত্ব আইন সম্পর্কে সতর্ক করে দেন তিনি।

এ সময় মমতা বলেন, ‘নয়া আইনে কিন্তু নিঃশর্ত নাগরিকত্ব দিচ্ছে না, যা তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল।’

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ‘উদ্বাস্তু মতুয়াদের অনেকেই ইতিমধ্যে নাগরিক হয়ে গিয়েছেন। প্রমাণাভাবে যদি তাদের নাম জাতীয় নাগরিক পঞ্জিতে না ওঠে, তা হলে তাদের ফের বিদেশী ঘোষণা করে পাঁচ বছর পরে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। তা হলে যারা চাকরি বা ব্যবসা করেন, যারা ঘরবাড়ি করেছেন তার কী হবে?’

বিজেপির নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘একটা দল লিফলেট বিলি করছে। ওদের বিশ্বাস করবেন না। যারা বোঝাতে আসবে তাদের প্রশ্ন করবেন। শুনেছি, নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলে লোকজনের কাছ থেকে টাকাও তুলছে।’

২০১১ সালে শুরু হলেও এবারই প্রথম ‘নৈহাটি উৎসব’-এ আসেন মুখ্যমন্ত্রী। গত লোকসভা ভোটে ব্যারাকপুর কেন্দ্রের পরাজয়ের পরে এই এলাকার বেশ কয়েকটি পুরসভা এবং পঞ্চায়েত তাদের হাতছাড়া হয়। এখন অবশ্য তার প্রায় সবই পুনর্দখল করেছে তৃণমূল। সে কথা মাথায় রেখে দলের ‘পুরনো সৈনিক’দের তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন।