ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৯, জুলাই ২০২৬ ২০:৪১:৪৭ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

রোহিঙ্গাদের ফেরাতে মিয়ানমার আন্তরিক নয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৩:১৩ পিএম, ২ জানুয়ারি ২০২০ বৃহস্পতিবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে বিশ্বের ১৩৪টি দেশ জাতিসংঘে বাংলাদেশকে সমর্থন দিয়েছে। তবে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত নিতে মিয়ানমার এখনও আন্তরিক নয় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

বৃহস্পতিবার (০২ জানুয়ারি) শিল্পকলা একাডেমিতে রোহিঙ্গা গণহত্যা নিয়ে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ চায় রোহিঙ্গারা নিজ দেশে নিরাপত্তা ও সম্মানের সঙ্গে ফিরে যাক। কিন্তু এ বিষয়ে মিয়ানমার সরকার আন্তরিক নয়। রোহিঙ্গা নিতে মিয়ানমার সিরিয়াস নয়। কারণ, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে শুরু থেকে বাংলাদেশ মিয়ানমারের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা করে যাচ্ছে। অথচ দেশটি রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে নানা টালবাহানা করছে। বাংলাদেশের সঙ্গে সই করা দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আলোকে দেশটি নিরাপদ প্রত্যাবাসন শুরু করার বিষয়ে একমত হলেও বাস্তবে সেটা প্রতিফলন হচ্ছে না। যার কারণে টানা দুইবার প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ভেস্তে যায়।

তিনি বলেন, আমরা তাদের এক লাখ রোহিঙ্গার তালিকা দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা মাত্র আট হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়, যার জন্য দুই দফা তারিখও নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা সেটিও করেনি। বাংলাদেশ মানবিক দিক থেকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছিল। কিন্তু তাদের জোর করে দেশে ফেরত পাঠাতে চায় না। তারা যেন নিরাপত্তা ও সম্মান নিয়ে নিজ দেশে ফিরতে পারে, সে লক্ষ্যে কাজ চলছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে এখনও আমরা সফলকাম হতে পারিনি। শেখ হাসিনা যদি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় না দিতেন তাহলে বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় গণহত্যা হতো। তারপরও ২০ হাজার রোহিঙ্গা মারা গেছেন। অনেক বন্ধু দেশ এ ইস্যুতে সহযোগিতা করছে। ‘১৩৪টি দেশ জাতিসংঘে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। ৯টি দেশের মধ্যে ৪টি বলেছে প্রতিবেশী শক্তিশালী বলে তারা বিপক্ষে রায় দিয়েছে। আং সান সু চিও নিজে স্বীকার করেছেন মিয়ানমারে হত্যাকাণ্ড হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা মিয়ানমার সরকারকে বলেছি, তোমাদের জনগণ তোমাদের বিশ্বাস করছে না। তোমরা রোহিঙ্গা নেতাদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখাও। তাহলে তাদের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি হবে। এ বিষয়ে আমরা মিয়ানমারকে চিঠিও দিয়েছি। কিন্তু এর কোনো জবাব আসেনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীত হলো- সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়। আমরা এভাবেই এগিয়ে যেতে চাই। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক মধুর। ভারত, নেপাল, ভুটান, এমনকি মিয়ানমারের সঙ্গেও। আমরা ঝগড়া-বিবাদে যেতে চাই না। সেজন্যই মিয়ানমারের সঙ্গে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

রাখাইনে বসবাসকারী রোহিঙ্গা মুসলমানদের বাঙালি আখ্যা দিয়ে জাতিগত নির্মূলের অভিযোগ আছে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে। সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধদের হত্যা-ধর্ষণ, জ্বালাও-পোড়াও থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। তাদের ফিরিয়ে নিতে চুক্তি করেও নানা টালবাহানা করছে মিয়ানমার। এর মধ্যে সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা এসেছে ২০১৭ সালের আগস্টে নতুন করে সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধদের দমন-পীড়ন শুরুর পর। এর আগে থেকে বিভিন্ন সময়ে আশ্রয় নিয়ে আছে আরও প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা।

এ সময় মিয়ানমারের বন্ধুরাষ্ট্র চীনের সমালোচনা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চীন জাপান মিয়ানমারে ব্যবসা করতে চায়। কিন্তু এ সংকট জিইয়ে রেখে তারা লাভবান হতে পারবে না। চীন রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে বলে কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।

জাতীয় চিত্রশালা গ্যালারি-১ এ সপ্তাহব্যাপী এ প্রদর্শনী প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা এবং শুক্রবার বেলা ৩টা থেকে রাত ৮টা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, ভোরের কাগজ ও বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরাম।

-জেডসি