ডায়াবেটিস : নারীরা অধিক ঝুঁকিতে
প্রকাশিত : ০৮:৩৮ এএম, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৩ বুধবার | আপডেট: ০৮:০২ এএম, ৭ জুলাই ২০১৪ সোমবার
রাতুল মাঝি, উইমেননিউজ২৪.কম
ঢাকা : দেশে পুরুষের চেয়ে নারীদের মধ্যে ডায়াবেটিস রোগের প্রকোপ অত্যধিক বেড়ে গেছে৷ এ ক্ষেত্রে গ্রামের চেয়ে শহরের শিক্ষিত ও সচ্ছল পরিবারে এ রোগে আক্রান্তের হার অনেক বেশি৷ বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক অ্যান্ড হেলথ সার্ভে (বিডিএইচএস) ২০১১-এর আওতায় অসংক্রামক রোগ ও প্রাপ্তবয়স্কদের পুষ্টিবিষয়ক পর্যবেক্ষণে এ চিত্র উঠে এসেছে৷
এদিকে বারডেম'এর সূত্র বলছে, বর্তমানে দেশে প্রায় ৮৪ লাখেরও বেশি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগী রয়েছে৷
অন্যদিকে বেসরকারি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশে এর এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয় বাংলাদেশে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ডায়াবেটিস রোগে আরো এক কোটি নানা বয়সী মানুষ আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে৷
বারডেম সূত্র জানায়, আগামী ২০২৫ সালে সারাবিশ্বে ডায়াবেটিক রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৮ কোটিতে পৌঁছানোর আশংকা রয়েছে৷ বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ২৫ কোটি নানা বয়সী মানুষ এ রোগে আক্রান্ত৷
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডায়াবেটিস সম্পর্কে সচেতনতা ও চিকিত্সা ব্যবস্থাপনা আরো জোরদার না করা গেলে বিপজ্জনক এ পরিস্থিতি রোধ করা সম্ভব হবে না৷
বিডিএইচএস প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বাংলাদেশে বর্তমানে ১১ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নারী ও পুরুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত৷ অর্থাত্ তাঁদের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেশি বা তাঁরা ডায়াবেটিসের ওষুধ সেবন করছেন৷ এ ছাড়া ২৫ শতাংশ নারী ও পুরুষ প্রি-ডায়াবেটিস স্তরে রয়েছেন; যাঁদের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি৷ ধনী পরিবারের নারীদের মধ্যে ডায়াবেটিসে আক্রান্তের হার গরিব পরিবারের নারীদের তুলনায় তিন গুণ বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়৷
প্রতবেদনে আরো বলা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতি ছয়জন নারীর মধ্যে একজনের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি, যা গড়ে ১৭ শতাংশ (২০১১)৷ ২০০৭ সালে এ হার ছিল ১২ শতাংশ৷ অন্যদিকে মাত্র ৯ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি৷ তবে নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে অধিক ওজন বা স্থূলতা শহর এলাকায় বসবাসকারী, অধিক শিক্ষিত এবং ধনী পরিবারে বেশি৷
বিশেষজ্ঞরা জানান, অধিক ওজন বা স্থ্ূলতা উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়৷ শহর এলাকায় উচ্চ রক্তচাপের মতোই অধিক বয়সে ডায়াবেটিস আক্রান্তের হার বেশি৷
বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি সূত্র জানায়, বিশ্বে গড়ে প্রতি সেকেন্ডে একজন মানুষ মারা যাচ্ছে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়ে৷
ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান বলেন, দেশে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর মধ্যে মাত্র ২৫ শতাংশকে চিকিত্সাসেবার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে৷ বাকিদের এখনো প্রয়োজনীয় সেবার আওতায় আনা সম্ভব হয়নি৷
তিনি বলেন, ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্তদের শতকরা ৫০ ভাগই জানে না, তাদের শরীরে ডায়াবেটিস আছে৷ অথচ কেউ একবার এ রোগে আক্রান্ত হলে সারা জীবনেও আর এ থেকে মুক্তি মিলবে না৷ তবে কেবল সচেতনতার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নিয়ম-কানুন মেনে চললে, খাওয়া-দাওয়া নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে ও ঠিকমতো ওষুধ সেবন করলে ডায়াবেটিসজনিত জটিলতা থেকে অনেকাংশে মুক্ত ও সুস্থ থাকা সম্ভব৷
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. লিয়াকত আলী বলেন, ডায়াবেটিক রোগ মহামারী আকার ধারণ করতে যাচ্ছে৷ এখন থেকে সচেতেন না হলে আগামী কয়েকবছরে এটি মহামারী রূপ ধারণ করবে৷ বাংলাদেশ ডায়াবেটিক রোগের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে৷ এর মধ্যে নারী ও শিশুরাও ঝুঁকিতে রয়েছে৷ শিশুদের মধ্যে টাইপ-২ ডায়াবেটিস বেড়ে যাচ্ছে ৷
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. খন্দকার মো. সিফায়েতউল্লাহ বলেন, আগে সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডায়াবেটিসের চিকিত্সার জন্য পর্যাপ্ত সুবিধা ছিল না৷ কিন্তু এখন দক্ষ চিকিত্সকসহ সব ধরনের সুবিধা জোরদার করা হয়েছে৷ জেলা হাসপাতালগুলোতেও রয়েছে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সুবিধা৷ ডায়াবেটিস বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতেও বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে সরকার৷
১৮ ডিসেম্বর ২০১৩
