ঢাকা, শুক্রবার ১৭, জুলাই ২০২৬ ১৭:১৫:৩৮ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ অমর হয়ে থাকবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত : ০৫:১৪ এএম, ১৪ আগস্ট ২০১৫ শুক্রবার | আপডেট: ০৫:১৫ এএম, ১৪ আগস্ট ২০১৫ শুক্রবার

হাসিনা-বঙ্গবধুর-আদর্শ স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম, ঢাকা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ অমর এবং ভবিষ্যতেও কেউ এই আদর্শ নস্যাৎ করতে পারবে না। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণের আদর্শ ও চেতনায় বঙ্গবন্ধু এখনো অমর হয়ে আছেন। তিনি শহীদ হলেও অতীতে যেমন কেউ তার আদর্শ নস্যাৎ করতে পারেনি-ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে কেউ তা পারবে না।’ প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর শাহাদাৎবার্ষিকীতে ৪০তম জাতীয় শোক দিবস পালন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘চিত্র গাঁথায় শোকগাথা’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনকালে একথা বলেন। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, এলজিআরডি মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন। অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন বিশিষ্ট লেখক সৈয়দ শামসুল হক। photo-1439488780ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন বঙ্গবন্ধুর কিছু দুর্লভ ছবি নিয়ে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। জাতির জনক ও দেশের প্রকৃত ইতিহাস সম্পর্কে অবগত করার জন্যই নবপ্রজন্মের সামনে এসব ছবি তুলে ধরা হলো। শেখ হাসিনা ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক ৭ মার্চ দেয়া বঙ্গবন্ধুর ভাষণের কিছু কথা উল্লেখ করে বলেন, বাঙ্গালী জাতি প্রমাণ করেছে যে, কেউ এ জাতিকে দাবিয়ে রাখতে পারবে না। তিনি বলেন, বাঙ্গালী এখনো তাদের মাথা উঁচু রেখেছে, যত বাধা-বিপত্তিই আসুক না কেন, বাঙ্গালী জাতি এসব অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে যাবে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং এই এগিয়ে চলা অব্যাহত থাকবে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট দিবসটিকে জাতীয় জীবনের একটি কালো অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাঙ্গালী জাতির জন্য এটি ছিল দুর্ভাগ্যজনক যে, তারা যখন সামনে এগিয়ে যেতে চেয়েছে ও উন্নত ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছে, তখন তারা বাধার সম্মুখীন হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং নি¤œ মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে উন্নীত হয়েছে। তিনি বলেন, সেদিন বেশী দূরে নয় যখন বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একটি মর্যাদাসম্পন্ন জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। সেটাই আমাদের লক্ষ্য এবং আমরা সে লক্ষ্যে কাজ করছি। প্রধানমন্ত্রী এই ধরণের প্রদর্শনীর আয়োজন করার ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনকে ধন্যবাদ জানান। শেখ হাসিনা বলেন, সামরিক শাসকরা বঙ্গবন্ধুর খুনীদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে, ইনডেমনিটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে শাস্তি এড়ানোর সুযোগ দিয়েছে এবং বিদেশে বিভিন্ন মিশনে পোস্টিং দিয়ে তাদের পুরস্কৃত করেছে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর দেশে খুনীদের রাজত্ব কায়েম হয়েছিল যা বাংলাদেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ উত্থানের পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল। শেখ হাসিনা বলেন, এমনকি, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট দুর্ভাগ্যের রাতে ১৮ জনকে হত্যার পর বঙ্গবন্ধুর বেঁচে যাওয়া দুই সন্তান তিনি ও তাঁর বোন ন্যায় বিচার লাভের অধিকারও হারিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ১৫ আগস্টের হত্যাকা-ের মাধ্যমে জাতি কেবল তাদের পিতাকে হারায়নি, বরং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ইতিহাস বিকৃত এবং সংবিধান কাটা-ছেঁড়া করা হয়েছিল। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ২১ বছর ধরে বঙ্গবন্ধুর নাম নিতে পারেনি। তাদের মুক্তিযুদ্ধের গান শোনার কোন অধিকার ছিল না। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিয়েছিল। সাজাপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীদেরকে কারগার থেকে মুক্ত করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও উপদেষ্টা করা হয়েছিল। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সারা দেশের নতুন প্রজন্ম এসব দুর্লভ আলোকচিত্র দেখে প্রকৃত ইতিহাস জানতে পারবে এবং অতীত থেকে চেতনা লাভ করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা পাবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির জনকের স্বপ্ন অনুযায়ী একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন যাতে দেশ নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে বৈশ্বিক ফোরামে এগিয়ে যেতে পারে।  পরে, প্রধানমন্ত্রী সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দেশের প্রতিথযশা শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদের হাতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি আঁকা প্রত্যক্ষ করেন। ১৪.০৮.২০১৫