আজ দশম সংসদ নির্বাচন
প্রকাশিত : ০৭:৫৭ পিএম, ৪ জানুয়ারি ২০১৪ শনিবার | আপডেট: ০৮:২১ এএম, ৫ জানুয়ারি ২০১৪ রবিবার
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,উইমেননিউজ২৪.কম
ঢাকা : আজ রোববার দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন৷সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে৷
এই নির্বাচনকে 'প্রহসন' আখ্যা দিয়ে তাতে অংশগ্রহণ করছে না খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধিন ১৮ দল৷ নির্বাচন প্রতিহত করার হুমকি দিয়েছে বিএনপি জোট৷ আজ ভোট ঠেকাতে দেশব্যাপী হরতাল ডাকা হয়েছে৷ এরই মধ্যে শতাধিক কেন্দ্রে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে; পোড়ানো হয়েছে ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনী সরঞ্জামও৷
অপরপক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোটের ১২ টি শরিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে৷
সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩টিতে প্রার্থীদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার রেকর্ডে এবার ভোট দিতে পারছেন না ১৪৭ আসনের ভোটাররা৷ পাঁচটি জেলায় ভোটই হচ্ছে না৷
রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলবে৷ আর এজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, নেমেছে সেনাবাহিনীও৷
দেশে মোট ভোটারের সংখ্যা ৯ কোটি ১৯ লাখ হলেও ১৫৩ আসনে ভোট না হওয়ায় ৪ কোটি ৮০ লাখের ভোট দিতে হচ্ছে না৷ এর মধ্যে প্রায় ৫০ লাখ নতুন ভোটার, যারা প্রথম নির্বাচনে ভোট দেয়ার অভিজ্ঞতা নিতে পারছেন না৷
নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আন্দোলনরত বিরোধী জোটের অনুপস্থিতিতে ১২টি দল দশম সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে৷ সব মিলিয়ে প্রার্থী হয়েছেন ৫৪৩ জন৷ তবে এর মধ্যে ১৫৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় ভোটের লড়াইয়ে রয়েছেন ৩৯০ জন, এর মধ্যে ১০৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী৷
১৪৭ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ১২০ জন, জাতীয় পার্টির ৬৬ জন, জেপির ২৭ জন, বিএনএফের ২২ জন, জাসদের ২১ জন, ওয়ার্কার্স পার্টির ১৬ জন৷
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়া ১২৭ জনই আওয়ামী লীগের, ২০ জন জাতীয় পার্টির,৩ জন জাসদের, ২ জন ওয়ার্কার্স পার্টির এবং ১ জন জেপির৷
বিএনপির দাবি ছিল, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে৷ তবে তা উপেক্ষা করে পঞ্চদশ সংশোধনের পর সাংবিধানিক ধারা অনুসরণের পক্ষেই এগিয়ে গেছে আওয়ামী লীগ৷
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবশ্য বলেছেন, রাজনৈতিক সমঝোতা হলে এই নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পর সংসদ ভেঙে মধ্যবর্তী নির্বাচন দেয়া হবে৷ ফলে রোববারের নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদেও মেয়াদ নির্ধারিত পাঁচ বছর থাকাটা অনিশ্চিত৷
রাজনৈতিক সমঝোতা না থাকায় এই নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আসেনি যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কমনওয়েলথ৷ শুধু ভারত ও ভুটান থেকে আসা পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে দেশিদের মিলিয়ে এই নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার জন৷
বরাবরের মতো এবারের নির্বাচনেও মোতায়েন থাকছে সেনাবাহিনী৷ সশস্ত্র বাহিনীর ৫০ হাজার সদস্যের সঙ্গে থাকছে ৮০ হাজার পুলিশ, ৮ হাজার র্যাব, ১৬ হাজার বিজিবি ও প্রায় সোয়া ২ লাখ আনসার সদস্য৷
প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ১৪ থেকে ১৬ জন নিরাপত্তা রক্ষী দায়িত্ব পালন করবেন৷ র্যাব, বিজিবি ও সেনা সদস্যরা থাকবেন টহলে৷
১৪৭ আসনের ১৮ হাজার ১৮ হাজার ২০৮টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলবে৷
শুক্রবার সকাল ৮টায় নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হয়েছে৷ ভোট শেষ হওয়ার ৪৮ ঘন্টা সময়ের মধ্যে নির্বাচনী এলাকায় কোনো সভা, সমাবেশ, শোভাযাত্রা করা যাবে না৷
৪ জানুয়ারি রাত ১২টা থেকে ভোটের দিন ৫ জানুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত অননুমোদিত যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকবে৷ মোটর সাইকেল চলাচলে মানা ৩ জানুয়ারি থেকে ৭ জানুয়ারি৷ লাইসেন্সধারী অস্ত্র নিয়ে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে ২২ ডিসেম্বর থেকে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত৷
ঝুঁকিপূর্ণ ১৩ হাজার কেন্দ্র : ইসি কর্মকর্তারা জানান, ১৮ হাজার ২০৮ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৩,০০০টি ঝুঁকিপূর্ণ৷
এক নজরে দশম সংসদ নির্বাচন : তফসিল- ২৫ নভেম্বর, মনোনয়ন দাখিলের শেষ সময় ২ ডিসেম্বর, বাছাই ৫-৬ ডিসেম্বর, প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৩ ডিসেম্বর, ভোট ৫ জানুয়ারি৷
মোট আসন-৩০০, ভোট হবে ১৪৭ আসনে (১৫৩ আসনের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত)৷
ভোটার সংখ্যা-৯ কোটি ১৯ লাখ ৬৫ হাজার ৯৭৭৷ নারী ৪ কোটি ৫৮ লাখ ৪১ হাজার ৯০৫; পুরুষ ৪ কোটি ৬১ লাখ ২৪ হাজার ৭২৷
১৪৭ আসনে মোট ভোটার ৪ কোটি ৩৯ লাখ ৮ হাজার ৭২৪৷ পুরুষ ২ কোটি ২০ লাখ ৬ হাজার ৮২৬; নারী ২ কোটি ১৯ লাখ ১ হাজার ৯২৮৷
যেসব জেলায় ভোট নেই : চাঁদপুর, রাজবাড়ী, জয়পুরহাট, শরীয়তপুর ও মাদারীপুর৷
অংশ নেয়া দলের সংখ্যা-১২৷ মোট প্রতিদ্বন্দ্বি (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ১৫৩ জনসহ) ৫৪৩, এরমধ্যে পুরুষ ৫১৬, নারী ২৭, স্বতন্ত্র ১০৪৷ ১৪৭ আসনে প্রার্থী ৩৯০ জন৷
১৪৭ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ১২০ জন, স্বতন্ত্র ১০৪ জন, জাতীয় পার্টির ৬৬ জন, জেপির ২৭ জন, বিএনএফের ২২ জন, জাসদের ২১ জন, ওয়ার্কার্স পার্টির ১৬ জন৷
এছাড়া ন্যাপের ৬ জন, তরীকত ফেডারেশনের ৩ জন, খেলাফত মজলিসের ২ জন, গণতন্ত্রী পার্টির ১ জন, গণফ্রন্টের ১ জন এবং ইসলামিক পার্টির ১ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন৷
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়া ১২৭ জন আওয়ামী লীগের, ২০ জন জাতীয় পার্টির,৩ জন জাসদের, ২ জন ওয়ার্কার্স পার্টির, ১ জন জেপির৷
৫ জানুয়ারি ২০১৪
