ঢাকা, বুধবার ০৮, জুলাই ২০২৬ ৮:১৩:২২ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

অবশেষে ইইউ থেকে বিচ্ছেদ ঘটলো যুক্তরাজ্যের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৩:৪৭ পিএম, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ শনিবার

ছবি: ইন্টারনেট

ছবি: ইন্টারনেট

প্রায় তিন বছরের নানা জল্পনা-কল্পনা, আলোচনা-সমালোচনার পর অবশেষে ইউরোপিয় ইউনিয়ন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদ ঘটলো যুক্তরাজ্যের।

৪৭ বছরের সম্পর্কের ইতি ঘটিয়ে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ৩১ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে কার্যকর হয় ঐতিহাসিক ব্রেক্সিট। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো ইউরোপ তথা বিশ্বের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক এই জোট থেকে কোনো দেশ তার সদস্যপদ প্রত্যাহার করলো।

ব্রেক্সিট কার্যকরের মুহূর্তে লন্ডনের পার্লামেন্ট স্কয়ারে ঢল নামে মানুষের। নেচে গেয়ে, আর জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় পতাকা হাতে ঐতিহাসিক এই মুহূর্তে সাক্ষী হন ব্রিটিশরা।

এদিকে, ব্রেক্সিটকে নতুন দিনের সূর্যোদয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। ব্রেক্সিট উপলক্ষে দেয়া বার্তায় তিনি বলেন, এটা শেষ নয়, বরং নতুন করে শুরু। একইসাথে ইউরোপিয় ইউনিয়নের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায়ে থাকার বিষয়ে আশা প্রকাশ করেন তিনি। দেশবাসীকে সাথে নিয়ে যুক্তরাজ্যকে এগিয়ে নেয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।

দীর্ঘদিনের এই সম্পর্ক বিচ্ছেদের কারণে বেশকিছু পরিবর্তন আসবে ব্রিটেনে। এর মধ্যে রয়েছে ইউরোপিয় পার্লামেন্টের সদস্যপদ হারানো অন্যতম। যুক্তরাজ্যের এমপি নাইজেল ফারাজ এবং অ্যান উইড্ডেকমবেসহ ৭৩ জন সদস্যকে দেখা যাবেনা ইউরোপিয় পার্লামেন্টে। কারণ যুক্তরাজ্য একই সাথে ইইউ-এর রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও এজেন্সিগুলোও ছেড়ে যাচ্ছে।

এই অর্ন্তবতীকালীন সময়ে যুক্তরাজ্য ইইউ’র আইন কানুনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে তাই ইউরোপিয় কোর্ট অফ জাস্টিস আইনি সমস্যাগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত মতামত দেয়া অব্যাহত রাখবে। এই অর্ন্তবতীকালীন সময়ে ইউরোপিয় গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রয়োগ অব্যাহত থাকবে। আগের মতো ইইউ সামিটে আর অংশ নিতে হচ্ছেনা যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীকে। আর যদি তিনি ইউরোপিয় ইউনিয়ন কাউন্সিল সামিটে অংশ নিতে চান তাহলে তার জন্য দরকার হবে বিশেষ আমন্ত্রণের। এদিকে, ব্রিটিশ মন্ত্রীরাও এখন থেকে আর ইউরোপিয় ইউনিয়নের বৈঠকগুলোতে অংশ নিতে পারবেন না।

এখন থেকে ইউরোপিয় ইউনিয়নের বাইরে গিয়ে বিশ্বের যে কোনো দেশের সাথে বাণিজ্য আলোচনা করতে পারবে যুক্তরাজ্য। আর তাই ব্রেক্সিট সমর্থকদের দাবি, নিজের বাণিজ্য নীতি ঠিক করার স্বাধীনতা যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে। এছাড়াও ত্রিশ বছর পর যুক্তরাজ্যের পাসপোর্টের রং পরিবর্তন হয়ে নীল রং হবে। তবে বর্তমান যে পাসপোর্ট আছে সেটিও বৈধ থাকবে।

ব্রেক্সিটের মধ্য দিয়ে প্রায় ত্রিশ লাখ বিশেষ কয়েন ব্রিটেনের বাজারে আসবে, যেখানে লেখা থাকবে ‘পিচ, প্রসপারিটি অ্যান্ড ফ্রেন্ডশিপ উইথ অল নেশনস’। তবে এ কয়েনকে ঘিরে এরই মধ্যে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেক ব্রিটিশ এই কয়েন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়াও বন্ধ হয়েছে যুক্তরাজ্যের ব্রেক্সিট ডিপার্টমেন্ট, যেখানে ব্রেক্সিট বিষয়ে এতোদিন ইউরোপিয় ইউনিয়নের সাথে যুক্তরাজ্যের আলোচনা চলছিল। ২০১৬ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র সময় বিভাগটি চালু করা হয়।

তবে ব্রেক্সিটের কারণে যেসব বিষয়ে কোনো পরিবর্তন আসবেনা, এর মধ্যে রয়েছে ভ্রমণ অর্থ্যাৎ অন্তবর্তীকালীন সময়ে যুক্তরাজ্যের নাগরিকরা ভ্রমণের সময় ইউরোপিয় ইউনিয়নের লাইনেই দাঁড়াতে পারবেন। এছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স ও পেট পাসপোর্টের ক্ষেত্রে বৈধতা অব্যাহত থাকবে। ইউরোপিয় স্বাস্থ্য বীমা কার্ড দিয়েই আগের মতো যুক্তরাজ্যের নাগরিকরা রাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা পাবেন। এছাড়াও ইউরোপিয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে বসবাস ও কাজ করার সময় চলাচলের স্বাধীনতা অব্যাহত থাকবে অর্ন্তবর্তী সময়ে। এছাড়াও এই সময়ে পেনশন, ইউরোপিয় ইউনিয়নের বাজেটে অবদান রাখাসহ আগের মতোই নতুন কোন চার্জ আরোপ ছাড়াই যুক্তরাজ্যের সাথে ইইউ-এর বাণিজ্য অব্যাহত থাকবে।

-জেডসি