অন্য দেশে ঢুকতে পারছে না চীন ফেরত পাইলট-ক্রুরা
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০৭:২৭ পিএম, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ সোমবার
ছবি: সংগৃহীত
করোনাভাইরাস আতঙ্কের মধ্যে চীন থেকে ৩১২ বাংলাদেশীকে বাংলাদেশে আনা বিমানের পাইলট-ক্রুদের অন্য কোনো দেশে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।
সোমবার (০৩ জানুয়ারি) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার পর তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের এই তথ্য জানান।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, উহান থেকে যে ৩১২ জনকে নিয়ে আসছি তাদের অবশ্যই কোয়ারেন্টাইনে ১৪ দিন থাকতে হবে। ওই ৩১২ জনের মধ্যে ৮ জনের জ্বর ছিল তাদেরকে সিএমএইচ ও আরেকটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তারা আইসোলেটেড, তবে তাদের রক্ত পরীক্ষায় কোনো ভাইরাস পাওয়া যায়নি।
খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, এখনও ১৭১ জন ছাত্রসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ চীনে রয়েছে। তারা আসতে চাচ্ছে, এটা (নিয়ে আসার বিষয়টি) দেখতে বলা হয়েছে। আমাদের প্লেন পাঠাতে একটা অসুবিধা হচ্ছে। আমাদের যে প্লেনটা গেছে, আসার পর এই পাইলটদের কোনো দেশ ঢুকতে দিচ্ছে না। সেজন্য আলোচনা হয়েছে যে, এক্ষেত্রে যদি ভাড়া করা কোন বিমান পাওয়া যায়, চীনের কোনো ভাড়া করা বিমান যদি আনা হয় সেটা, সেটাতে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের প্লেন পাঠানো যাচ্ছে না। আমাদের প্লেন পাঠালে যে ক্রুরা যাবে তাদের বাইরে ভিসা দেয় না। অলরেডি সিঙ্গাপুর না করে দিয়েছে, এই ক্রুরা আমাদের এখানে আসতে পারবে না। তবে বেইজিংয়ে বাংলাদেশের দূতাবাসকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, পদ্মা সেতুসহ বড় বড় প্রজেক্টে যারা আছেন তাদের মধ্যে যারা ১৮ জানুয়ারির পর চীন থেকে এসেছেন তাদের সবাইকে কোয়ারেন্টাইনে রেখে দিয়েছি। উহান বেইজ যেসব কর্মী রয়েছে আমরা তাদের না করে দিয়েছি, ক্লিয়ারেন্স না দিলে আসতে পারবে না।
তিনি বলেন, তবে চীন সরকার আক্রান্ত একজনকেও ছাড়বে না। ৩১৬ জন আসার কথা ছিল ওরা ৪ জনকে ছাড়েনি। যদিও তারা করফার্ম না, খুব জ্বর ছিল, তারা রেখে দিয়েছে। ১৭১ জনকে চীন ছাড়পত্র দিলেই তারা আসতে পারবে।
প্রসঙ্গত, প্রাণঘাতি নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চীনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৬১ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া অন্তত ১৭ হাজার ২০০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে আক্রান্তের আশঙ্কায় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন দেড় লাখেরও বেশি মানুষ।চীনের বাইরে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ফিলিপাইনে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মৃত ওই ব্যক্তির বয়স ৪৪। সম্প্রতি তিনি উহান থেকে ফিরেছেন।
-জেডসি
