করোনাভাইরাস: সব দেশের যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার সিদ্ধান্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০৩:২৭ পিএম, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ শনিবার
ছবি: সংগৃহীত
প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকে কেউ বাংলাদেশে ঢুকলে বন্দরে স্ক্রিনিংয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে বলে জানিয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)।এর আগে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে এতদিন শুধু চীন থেকে আসা ব্যক্তিদের পরীক্ষা করা হতো।
শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে আইইডিসিআরের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, চীন ছাড়াও কয়েকটি দেশে নভেল করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। এই কারণে বিমানবন্দরে আসা সবগুলো বিমানকেই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় আনা হয়েছে।আমরা অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে এটা চালু করেছি। এটা সব দেশের ফ্লাইটের ক্ষেত্রেই শুরু হয়েছে। তবে এটা নিয়ে ভীত হওয়ার কিছু নেই, এটা বাড়তি সতর্কতা।
বাংলাদেশের সবগুলো বন্দরে আসা যাত্রীদের স্ক্রিনিং করার সক্ষমতা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ফ্লোরা বলেন, বিভিন্ন এয়ারলাইন্স, বন্দর কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতায় এই কাজটি করা হচ্ছে। আমরা এয়ারলাইন্সগুলোর সহযোগিতা নিচ্ছি। ফ্লাইটের মধ্যে যে ডিক্লেয়ারেশন ফর্ম দেয়া হয়, তাতে এয়ারলাইন্সগুলো সহায়তা করে। আমরা সম্মিলিতভাবেই করছি। এখানে এয়ারলাইন্সগুলোর সহযোগিতা খুবই জরুরি। যে বন্দরে থার্মাল স্ক্যানার নেই, সেখানে আমরা হ্যান্ডহেল্ড স্ক্যানার দিয়েছি। থার্মাল স্ক্যানার এবং হাত দিয়ে যেটা করা হয়- দুটোর কার্যক্রম একই।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শনিবার সকাল পর্যন্ত ৮ হাজার ৪৮৪ জনকে স্ক্রিনিং করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৫৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করলেও কারও দেহে এন করোনাভাইরাস পাওয়া যায়নি।
চীনের উহান থেকে আসা ৩১২ বাংলাদেশির মধ্যে আশকোনা হজক্যাম্পে থাকা ৩০১ জনের সবাই সুস্থ আছেন। সিএমএইচে থাকা ১১ জনের অবস্থাও ভালো বলে জানান অধ্যাপক ফ্লোরা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় তিনজন রোগীর করোনা পরীক্ষা করা হয়। এছাড়াও ইতোমধ্যে পরীক্ষা করা বাদবাকি ৫২ জনের শরীরেও করোনা সংক্রামনের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। বিমান বন্দরে এখনও পযন্ত প্রায় সাড়ে ৮ হাজার মানুষকে স্ক্রিনিং করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
বিমানবন্দরে কর্মরত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শাহরিয়ার সাজ্জাদ জানান, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে প্রতিদিন ২৫টি ফ্লাইটে সাড়ে ১২ হাজার যাত্রী বাংলাদেশে আসেন। বৈশ্বিক করোনাভাইরাস পরিস্থিতি বিবেচনায় অধিকতর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে রোগতত্ত্ববিদদের পরামর্শে এখন থেকে ২৫টি ফ্লাইটে আগত সকল যাত্রীদের মনিটর করা হবে।
প্রসঙ্গত, চীনে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বাড়ছেই। চীনে শনিবারে ৮৬ জনের বেশি মারা গেছেন। যেটা একদিনে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা। এখন পর্যন্ত সেখানে ৭২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুই দশক আগে চীনের মূল ভূখণ্ড এবং হংকংয়ে সার্স ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে মৃতের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে করোনাভাইরাস।
শনিবার (০৮ ফেব্রুয়ারি) আঞ্চলিক স্বাস্থ্য কমিশন জানিয়েছে, চীনের কেন্দ্রীয় হুবেই প্রদেশে নতুন করে আরও কমপক্ষে ৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ৩১ ডিসেম্বর হুবেই প্রদেশের উহান শহরেই প্রথম এই ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়ে।
-জেডসি
