চীন ফেরতদের নিজ বাড়িতে থাকতে হবে ১৪ দিন
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১২:২৮ পিএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ সোমবার
চীন ফেরতদের নিজ বাড়িতে থাকতে হবে ১৪ দিন
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে এর উৎপত্তিস্থল চীন থেকে বাংলাদেশে আসা সব যাত্রীকে বিমানবন্দর থেকে সরাসরি নিজ নিজ বাসায় যেতে হবে। এর পর থেকে দুই সপ্তাহ অর্থাৎ ১৪ দিন ঘরেই থাকতে হবে কোয়ারেনটাইনে (সঙ্গবিচ্ছিন্ন)। এই সময়ে তারা নিজ বাসায় থাকছেন কিনা তা তদারকি করবে স্বাস্থ্য বিভাগ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা।
বিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্মেলনকক্ষে দেশি-বিদেশি ২৫টি এয়ারলাইন্স ও সবকটি সংস্থার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে আয়োজিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিমানবন্দর ডেস্কের সহকারী পরিচালক ডা. সাজ্জাদ শাহরিয়ার খান বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে জরুরি সভায় বেশকিছু সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- স্ব স্ব এয়ারলাইন্স বিদেশ থেকে আসা সব যাত্রীকে বিমানের ভেতরেই হেলথ কার্ড সরবরাহ করবে। ভ্রমণের
১৪ দিনের মধ্যে কোনো যাত্রী চীন গেছেন কিনা তা উল্লেখ করতে হবে হেলথ কার্ডে। যদি চীনের মূল ভূখণ্ড থেকে বা চীন থেকে অন্য দেশ হয়ে আসা কাউকে পাওয়া যায় তাৎক্ষণিকভাবে তাকে বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। স্বাস্থ্য বিভাগ প্রতিটি যাত্রীকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কারও শরীরে জ্বর অথবা করোনা ভাইরাসের লক্ষণ পেলে হাসপাতালে হস্তান্তর করবে। সরাসরি চীন থেকে আসা যাত্রীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর করোনা ভাইরাসের লক্ষণ না পেলেও তাকে সরাসরি যেতে হবে নিজ বাসায়।
এর আগে, সরবরাহ করা হেলথ কার্ডে ওই যাত্রীর বাসা, বাবা-মায়ের নাম, টেলিফোন নম্বরসহ ব্যক্তিগত যাবতীয় তথ্য দিতে হবে। ওই যাত্রী নির্ধারিত ১৪ দিন বাসায় আছেন কিনা তা তদারকি করবেন স্থানীয় থানা পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কোয়ারেনটাইনের এই ১৪ দিনের মধ্যে কোনো যাত্রীর জ্বর-ঠান্ডা-কাশি-শ্বাসকষ্টজনিত কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত তাকে হাসপাতালে হস্তান্তর করতে হবে। আপাতত স্ব স্ব এয়ালাইন্স যাত্রীদের হেলথ কার্ড ছাপানোর দায়িত্ব পালন করবে।
শিগগির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ বিষয়ে একটি সভার পরই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রুখতে নতুন পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে হংকং। এর আদলে যাত্রীদের ১৪ দিন ঘরে থাকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান ডা. সাজ্জাদ শাহরিয়ার। তিনি বলেন, এটাও এক ধরনের কোয়ারেনটাইন।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, এই নিয়ম চালু হলে চীনের মূল ভূ-খণ্ড থেকে আসা যে কাউকেই দুই সপ্তাহ কোয়ারেনটাইনে থাকতে হবে। যারা এই নিয়ম লঙ্ঘন করবে তাদের জেল এবং জরিমানা গুনতে হতে পারে। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে স্বাস্থ্য বিভাগের বৈঠকের পরই জেল-জরিমানার বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে।
