চাঞ্চল্যকর শিনা বোরা হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন : ভারতজুড়ে তোলপাড়
প্রকাশিত : ০৬:৩৪ পিএম, ২৭ আগস্ট ২০১৫ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৬:৩৪ পিএম, ২৭ আগস্ট ২০১৫ বৃহস্পতিবার
উইমেননিউজ ডেস্ক, ঢাকা : ভারতে এক সাবেক মিডিয়া নির্বাহীর মেয়ে ও তার সৎছেলের মধ্যে প্রেমের সম্পর্কের কারণে মেয়েকে সাবেক স্বামীর সহযোগিতায় খুন করার তথ্য ফাঁস হওয়ায় ভারতজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
চলন্ত গাড়িতে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয় শিনাকে। খুন করেছিলেন ইন্দ্রাণী মা মুখার্জি ও তার প্রাক্তন স্বামী সঞ্জীব খান্না। চাঞ্চল্যকর এই স্বীকারোক্তি শিনার মা ইন্দ্রাণীর। খুনের পর রায়গড়ের একটি গ্রামে দেহ ফেলে তা জ্বালিয়ে দেয়া হয়। ঘটনাস্থল চিহ্নিত করেছে ইন্দ্রাণীর গাড়িচালক শ্যাম রাই।
মুম্বই পুলিসের জেরায় একের পর এক উঠে এসেছে শিনা বোরাকে খুন করার চাঞ্চল্যকর তথ্য।
ইন্দ্রাণী মুখার্জি মুম্বাই ভিত্তিক মিডিয়া কোম্পানি আইএনএক্স মিডিয়ার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক নির্বাহী। বর্তমানে তিনি সর্বভারতীয় ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া স্টার ইন্ডিয়ার সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পিটার মুখার্জির স্ত্রী।
তিন বছর আগের এই খুনের ঘটনা প্রথমে ফাঁস করে ইন্দ্রাণী মুখার্জির গাড়িচালক শ্যাম রাই। শ্যাম রাইকে গত একুশে অগাস্ট অস্ত্র আইনে গ্রেফতার করা হয়। জেরার মাঝে তিন বছর আগের শিনাকে খুনের ঘটনা স্বীকার করে সে। জিজ্ঞাসাবাদের পর বোন শিনাকে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার হন ইন্দ্রাণী। এরপরই নাটকীয় মোড় নেয় ঘটনা। পুলিশি জেরায় ইন্দ্রাণী স্বীকার করেন শিনা আসল তার বোন নয়, মেয়ে।
প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক সম্পর্কের জেরে খুন মনে হলেও শিনার ভাই মিখাইলের বক্তব্য থেকে পুলিশের অনুমান পিটার মুখার্জির ছেলে রাহুলের সঙ্গে শিনার সম্পর্ক খুনে অনুঘটকের কাজ করেছে।
পিটার মুখার্জির প্রথম পক্ষের ছেলে রাহুলের সঙ্গে শিনার পরিচয় স্কুল থেকে। ২০০৫-০৬ সাল নাগাদ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন দুজনে। ঘটনার সময় তাদের সম্পর্ক ছিল ৭ বছরের পুরনো। তবে প্রথম থেকেই এই সম্পর্ক পছন্দ ছিল না ইন্দ্রাণীর।
২০১২ সালের ২৪ এপ্রিল শিনাকে মুম্বাইয়ের বান্দ্রার একটি কলেজের সামনে থেকে নিজের গাড়িতে তোলেন ইন্দ্রাণী। গাড়িতে ছিলেন ইন্দ্রাণীর সাবেক স্বামী সঞ্জীব খান্না এবং চালক শ্যাম রাই। গাড়ি রওনা দেয় রায়গড়ের উদ্দেশে। পথে গাড়ির মধ্যেই শিনাকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়। খুন করেন ইন্দ্রাণী ও সঞ্জীব। এরপর দেহ নিয়ে ঘণ্টা দুয়েকে রাস্তায় ঘোরেন তারা। শেষ পর্যন্ত রায়গড়ের পেন গ্রামে দেহ ফেলে পেট্রোল দিয়ে জালিয়ে দেয়া হয়।
মঙ্গলবার ইন্দ্রাণীর গাড়ির চালক শ্যাম রাইকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যায় মুম্বাই পুলিশ। শ্যাম রাই যে জায়গাটি চিহ্নিত করেছে, সেখান থেকেই শিনা খুনের মাসখানেক পর ২০১২ সালের ২৩ মে দেহাংশ উদ্ধার হয়েছিল। স্থানীয় পুলিস একটি খুনের মামলা দায়ের করে। তবে সেই ঘটনার তদন্ত আর এগোয়নি। তিন বছর পর শ্যাম রাইকে জিজ্ঞাসাবাদের সূত্রে ক্রমশ সামনে আসে পুরো ঘটনা।
ইন্দ্রাণী মুখার্জিকে মঙ্গলবার মহারাষ্ট্রের রায়গড় এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বুধবার আদালতে তোলা হলে ৩১ অগস্ট পর্যন্ত তাকে পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।
শিনা বোরা হত্যারহস্যে ইন্দ্রাণীর প্রথম স্বামী সঞ্জীব খান্নাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। দীর্ঘক্ষণ জেরার পর তাকে গ্রেফতার করে মুম্বাই পুলিশ। ইন্দ্রাণীর স্বীকারোক্তিতে সঞ্জীবের নাম উঠে এসেছিল। এরপরই তাকে জেরা করা হয়। কিন্তু জেরায় তার বক্তব্যে অসঙ্গতি থাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে পাঁচ দিনের ট্রানজিট রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। ধৃত ইন্দ্রানী, গাড়ির চালক ও সঞ্জীবকে মুখোমুখি জেরা করা হবে বলে জানা গিয়েছে। 