করোনাভাইরাস: মৃত্যুপুরী রূপ নিচ্ছে একেকটি দেশ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১১:২৭ এএম, ৬ মার্চ ২০২০ শুক্রবার
ছবি: ইন্টারনেট
চীন থেকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) যুক্তরাষ্ট্রের মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ জনে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনের কিংস কাউন্টিতে সর্বশেষ ব্যক্তির মৃত্যু হয়। যুক্তরাষ্ট্রে মৃত ১২ জনের মধ্যে ১১ জনই ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের এবং বাকি একজন ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা। ক্যালিফোর্নিয়ায় ৭২ বছর বয়সী ওই বাসিন্দাও মারা যান বৃহস্পতিবার। তিনি জাপানের ওই প্রমোদতরীটির যাত্রী ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন সেন্টার ৫ মার্চ পর্যন্ত ১২৯ জন করোনাভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির কথা নিশ্চিত করেছে। তবে সংবাদ মাধ্যমে এই সংখ্যা ২২৫ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আয়ারল্যান্ড ও ভুটানেও করোনারোগী শণাক্ত হয়েছে। বিশ্বব্যাপী করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৯৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। শুধু চীনেই মৃত্যু হয়েছে ৩,০১৫ জনের এবং বার্হিবিশ্বে মারা গেছে আরো ২৬৭ জন। এর বেশিরভাগই ইতালি এবং ইরানে।
দক্ষিণ কোরিয়ায় নতুন করে পাঁচশোর বেশি মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। জাপানেও বাড়ছে সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা। যুক্তরাজ্যে করোনায় প্রথম এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন জানিয়েছে, দেশটিতে বৃহস্পতিবার ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১৪৩ জন।
চীনের বাইরে এখন সবচেয়ে মৃত্যু ইতালিতে। ইউরোপের এ দেশটিতে একদিনে আরও ৪১ জনের প্রাণ কেড়েছে করোনাভাইরাস। এ নিয়ে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪৮ জনে। বৃহস্পতিবার দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৭৬৯ জন। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৮৫৮ জনে।
করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে ইতালির ২২টি অঞ্চলে। ইতিমধ্যে করোনার প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে বৃহস্পতিবার থেকে সব ধরনের স্কুল ১০ দিনের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা করা হয়েছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জিউসেপ্পে কন্টি এবং শিক্ষামন্ত্রী লুসিয়া আজ্জোলিনা এ ঘোষণা দেন। এছাড়া করোনা মোকাবিলায় অতিরিক্ত ৮.৪ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের মতে, বিশ্বের যেকোনো জায়গার চেয়ে করোনাভাইরাসে মৃত্যু ও আক্রান্ত এখন ইতালিতেই বেশি হচ্ছে।
গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহানে প্রথমবারের মতো ধরা পড়ে করোনাভাইরাস। এরপর অন্তত ৮০টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস। এর মধ্যে চীনের পর সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত দক্ষিণ কোরিয়ায়।
-জেডসি
