বিয়ে নিবন্ধনের ফলে চরাঞ্চলে বাল্যবিয়ে ও মাতৃ মৃত্যু হার হ্রাস পেয়েছে
প্রকাশিত : ০২:৩৩ পিএম, ২৮ আগস্ট ২০১৫ শুক্রবার | আপডেট: ০২:৩৩ পিএম, ২৮ আগস্ট ২০১৫ শুক্রবার
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম, রংপুর : বিয়ে নিবন্ধনের ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার চরাঞ্চলে বাল্যবিয়ে এবং মা ও নবজাতকের মৃত্যুর হার যথেষ্ট কমেছে।
চরাঞ্চলের লোকজনে পুত্র-কন্যার বিয়ে সঠিক বয়সে ও রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে সম্পন্ন করার ফলে বাল্যবিয়ে, যৌতুক ও বহুবিয়ে নির্মূল হওয়ায় তাদের পরিবারে শান্তি বিরাজসহ জীবনমান এখন উন্নত হয়েছে।
এক দশক আগেও ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সের মেয়েদের নিবন্ধন ছাড়াই বাল্য বিয়ে হয়েছে। অথচ এখন ১৫ থেকে ৫০ বছর আগে বা তারও আগে বিয়ে হয়েছে যাদের তাদেরও বিয়ের নিবন্ধন হচ্ছে।
২০০৪ সাল থেকে চরাঞ্চলের ১০টি জেলায় সরকারি-বেসরকারি এনজিও’র সহযোগিতায় চর লাইভলিহুড প্রোগ্রামের (সিএলপি) আওতায় এই ব্যাপক সাফল্যজনক কার্যক্রম বাস্তবায়ন হচ্ছে।
এই কার্যক্রম বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত আরডিআরএস বাংলাদেশ’র প্রধান কর্মসূচি সমন্বয়ক মঞ্জুশ্রি সাহা বলেন, চরাঞ্চলের মানুষ কয়েক দশক ধরে দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করে আসছিল, কিন্তু তারা আর্থসামাজিক উন্নয়ন অর্জনের ফলে এখন অর্থপূর্ণ জীবন যাপন করছেন।
এছাড়া, সদ্য বিবাহিত ও সক্ষম দম্পতিদের সঠিক পদ্ধতিতে পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণ করা এবং গর্ভবতী মহিলাদের সাথে মতবিনিময়ের মাধ্যমে নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার খামার বনস্পাতারি এবং ক্ষুদ্র বনস্পাতারি গ্রামের সিএলপি’র সুবিধাভোগী স্বামী-স্ত্রীরা বাসস’কে জানান, চরাঞ্চল শতাব্দী ধরে সামাজিক অভিশাপ ও কুসংস্কারের প্রভাবের মধ্যে ছিল।
পুরোনো দম্পতিরা এখন তাদের বিয়ের বহু বছর পরও নতুন করে বিয়ে নিবন্ধনের মাধ্যমে ইতিহাস তৈরি করছেন।
চরাঞ্চলের বিয়ে নিবন্ধক আলেফ উদ্দিন ও তোফাজ্জল হোসেন জানান, বাল্যবিয়ে মারাত্মক পরিণতি ঢেকে আনে। এখন পুরোনো দম্পতি ও প্রাপ্তবয়স্ক পুত্র এবং কন্যার বিয়ে নিবন্ধন করা হচ্ছে।
এক অনুষ্ঠানে রমজান আলী (৭৬), আয়েশা বেগম (৬৫), আবুল হোসেন (৬৬), ফিরোজা (৫৬), কাদের ফকির (৭৪) ও আয়েশা (৬৩) এই দম্পতিরা বিয়ের ৩০ থেকে ৫০ বছর পর বিয়ে নিবন্ধনের করে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বিয়ে রেজিস্ট্রার আবদুল আজিজ প্রথমে বিয়ে নিবন্ধিত করেন বিয়ের ৩৫ বছর পরে আব্দুল মজিদ (৬২) ও জামিলা খাতুন (৫৩) দম্পতির।
দম্পতিরা বলেন, এখন আমরা পরিবার পরিকল্পনা নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নের একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য নিবন্ধন ছাড়া বিয়ে, যৌতুক ও বাল্য বিয়ের বন্ধ করতে সচেষ্ট থাকবো।
৩৫ বছর পর বিয়ে নিবন্ধন করার জন্য দম্পতিকে অভিনন্দন জানান, আরডিআরএস বাংলাদেশ এর সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার (নারী অধিকার) মেহজাবিন নাহার। 