করোনা রোধে গণজমায়েত এড়িয়ে চলুন: প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০৫:৫৬ পিএম, ৯ মার্চ ২০২০ সোমবার
ছবি: সংগৃহীত
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রামণ রোধে দেশের মানুষকে বড় ধরনের গণজমায়েত এড়িয়ে চলার জন্য আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনাভাইরাস নিয়ে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
সোমবার (০৯ মার্চ) মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানের কথা জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম।
করোনাভাইরাস নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভায় কোনো নির্দেশনা দিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, জেনারেল যে ইনস্ট্রাকশন সেটা হলো অযথা গ্যাদারিং যেগুলো অ্যাভয়েড করতে হবে। যে কারণে রিসিডিউল করতে হচ্ছে অনেক প্রোগ্রাম।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনেক গ্যাদারিং হয় এই বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, কালকে (রবিবার) শিক্ষামন্ত্রীও ছিলেন, ওনাকেও ইনস্ট্রাকশন দেয়া হয়েছে যে কোনোভাবেই ম্যাস গ্যাদারিং না হয়। যাতে কোনোভাবে আর স্প্রেড করতে না পারে গর্ভমেন্ট সে দিকে খুব স্ট্রং নজর দিচ্ছে।
স্কুল-কলেজ বন্ধ করা হবে কিনা-প্রশ্নে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব বলেন, না, সেই রকম পরিস্থিতি হয়নি। আমার আবেদন এই রকমভাবে আতঙ্ক ছড়ানোর কোনো যুক্তি বা ভিত্তি নেই।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব বলেন, করোনাভাইরাস যখন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিশেষত চীনে হয়েছে তখন থেকেই আমাদের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আমরা গ্লোবাল সোসাইটিতে আছি। চীন বা অন্যান্য দেশের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগের কারণে প্রথম থেকেই প্রস্তুতি আছে।
তিনি বলেন, সবসময়ই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা থাকে, অ্যাড্রেস করে কী করতে করতে হবে সেসব বিষয়ে নির্দেনা নিয়ে থাকেন। চীন থেকে যখন ছাত্রদের নিয়ে আসা হলো তখন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মতোই তাদের কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করেছিলাম। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা হলো- এটা যেহেতু একটা ছোঁয়াচে রোগ এবং এটা এভাবে ছড়ায়, আমাদের যে কর্মকৌশল তিন পর্যায়ে। যাতে দেশে না আসে, যদি আসে তাহলে কীভাবে ট্রান্সমিশন কন্ট্রোল করবো যে একজন থেকে আরেকজনে না ছড়ায় সে ব্যবস্থা নিয়েছি এবং তৃতীয় পদক্ষেপ হলো যদি কিনা প্রাদুর্ভাব হয় সেটা কীভাবে ম্যানেজ করবো। সবসময়ই আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক ও তার গাইডেন্স অনুযায়ী করে থাকি। পাবলিক হেলথ পার্ট আমাদের দেশে খুবই স্ট্রংগার অন্যান্য বিষয়ের তুলনায়। উনি বলেছেন যে এখন আমাদের কী করতে হবে, আপনাদের কাছে যে অনুরোধটা আমাদের মাধ্যমে উনার- সেটা হলো যে আমরা যেন আতঙ্কিত না হই। কারণ এটা একটা ভাইরাস।
উল্লেখ্য, আগামী ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর (মুজিববর্ষ) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার কথা ছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক, কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী সামদেক হুন সেন, ইউনেস্কোর সাবেক মহাসচিব ইরিনা বোকোভাসহ বেশ কয়েকজন বিদেশি অতিথির।
প্রসঙ্গত, গত বছরের শেষ নাগাদ চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস। পরে চীনের সীমানা ছাড়িয়ে এটি অন্যান্য দেশেও থাবা বিস্তার করেছে। এখনও পর্যন্ত এই রোগেও কোনও ওষুধ ও প্রতিষেধক আবিষ্কার না হওয়ায় মারাত্ম ঝুঁকিতে রয়েছে গোটা বিশ্ব।বিশ্বজুড়ে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮৩০ জনে।ওয়র্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ১০ হাজার ৭১ জন। যাদের মধ্যে সুস্থ্য হয়ে উঠেছেন ৬২ হাজার ২৮০ জন।
-জেডসি
