‘ক্রীড়ানুরাগী বঙ্গবন্ধু পরিবার’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০৩:৫৫ পিএম, ১৬ মার্চ ২০২০ সোমবার
ছবি: সংগৃহীত
দেশের ক্রীড়াঙ্গনের সাফল্যে বঙ্গবন্ধু পরিবারের অবদান নিয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে রচিত মুজিববর্ষের স্মারক গ্রন্থ ‘ক্রীড়ানুরাগী বঙ্গবন্ধু পরিবার’-এর মোড়ক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বইটির সম্পাদক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকতার হোসেনকে সাথে নিয়ে মুজিব জন্মশতবর্ষের বিশেষ প্রকাশনাটির মোড়ক উন্মোচন করেন।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, কার্যালয়ের সচিব, প্রেস সচিব, পিএস-১, পিএস-২, এপিএস-১, সামরিক সচিব ও এসএসএফ-এর মহাপরিচালক এই সময় উপস্থিত ছিলেন।
খেলাধুলার প্রতি অনুরাগ বঙ্গবন্ধু পরিবারের দীর্ঘদিনের। বলা যায় ক্রীড়ানুরাগ তাদের পারিবারিক ঐতিহ্য। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাবা শেখ লুৎফর রহমান ক্রীড়ানুরাগী মানুষ ছিলেন। ফুটবল খেলতেন। গোপালগঞ্জ অফিসার্স ক্লাবের ফুটবল টিমের প্রধান ছিলেন তিনি।
বঙ্গবন্ধুও শৈশব থেকে বাবার মতোই ছিলেন ক্রীড়ানুরাগী। তিনি ছিলেন গোপালগঞ্জ মিশনারি স্কুল ফুটবল টিমের প্রধান। ম্যাট্রিকুলেশন পাস করে গোপালগঞ্জ ছেড়ে গেলে এবং ক্রমে রাজনীতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেও খেলাধুলার প্রতি বঙ্গবন্ধুর আগ্রহ কমেনি। ঢাকায় তিনি ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে ফুটবল, ভলিবল খেলেছেন।একটি পরিবারের বাবা যদি ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়ানুরাগী হন, তাহলে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও সে পথেই হাঁটবেন, এটাই স্বাভাবিক।
বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথই অনুসরণ করে গেছেন তার দুই ছেলে শেখ কামাল ও শেখ জামাল। এই দু’ভাইয়ের মধ্যে বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন শেখ কামাল। তিনি ফুটবল, ক্রিকেট ও বাস্কেটবল তিনটি খেলাতেই সমান পারদর্শী ছিলেন। তবে ফুটবলে আনুষ্ঠানিকভাবে লিগে না খেললেও আবাহনীর হয়ে তিনি ক্রিকেট খেলেছেন। ক্রিকেটের মাঠে একজন দক্ষ অফ স্পিনার হিসেবে তার যথেষ্ট সুনাম ছিলো। আর বাস্কেটবল খেলেছেন ঢাকা ওয়ান্ডারার্সের হয়ে। তার অধিনায়কত্বে ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ১৯৭৩ ও ১৯৭৪ সালে বাস্কেটবল লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়। মহসীন স্মৃতি ট্রফিও ঢাকা ওয়ান্ডারার্স জয় করে তারই অধিনায়কত্বে। আজকের আবাহনী ক্লাবের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা শেখ কামাল। শুরু থেকে এই ক্লাব শুধু আবাহনী ক্লাব নামে পরিচিত ছিলো না। সেই সময় এই ক্লাবের নাম ছিলো আবাহনী সমাজ কল্যাণ সমিতি। অনেক চড়াই উৎড়াইয়ের পর জন্ম নেয় আবাহনী ক্রীড়াচক্র (বর্তমানে যা আবাহনী লিমিটেড নামে পরিচিত)। শেখ কামালের পাশাপাশি শেখ জামালও অবদান রেখেছেন আবাহনী প্রতিষ্ঠায়। তিনি ভালোমানের হকি খেলোয়াড়ও ছিলেন। শেখ কামালের স্ত্রী সুলতানা কামালও ছিলেন দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নারী অ্যাথলেট।
বঙ্গবন্ধুর বড় মেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্রীড়ানুরাগও সর্বজনবিদিত। সরকার পরিচালনায় ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি বিভিন্ন সময় খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করেছেন। ব্যক্তিগতভাবে তাদের খোঁজখবর নেন, বাড়িতে আমন্ত্রণ জানান, এমনকি রান্না করে তাদের বাড়িতে খাবারও পাঠিয়ে থাকেন।
এছাড়া দেশের ক্রীড়াঙ্গনে তার নানামুখী উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে দেশ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক সাফল্য অর্জিত হচ্ছে।
জয়ীতা প্রকাশনীর ‘ক্রীড়ানুরাগী বঙ্গবন্ধু পরিবার’ শিরোনামের বইটিতে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের সাফল্যে বঙ্গবন্ধু পরিবারের অবদান তুলে ধরা হয়েছে। ৭৮ পৃষ্ঠার এই বইয়ে স্থান পেয়েছে শতাধিক আলোকচিত্র, যার অনেকগুলোই দুর্লভ। বইটির প্রচ্ছদ ও গ্রন্থপরিকল্পনা করেছেন শাহরিয়ার খান বর্ণ।
-জেডসি
