সবুজের দিকে যাচ্ছে বাংলাদেশ
প্রকাশিত : ০৩:৩৪ এএম, ২৭ ডিসেম্বর ২০১৩ শুক্রবার | আপডেট: ০৩:৪৩ এএম, ২৭ ডিসেম্বর ২০১৩ শুক্রবার
আফরোজা ফিরোজ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম
ঢাকা : শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতি লক্ষ্যনিয়৷ মাতৃমৃতু হার হ্রাসের পর এ আরেক নতুন সাফল্য৷ শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর হার বর্তমানে ২০০৫ সালের চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি৷ শুধু বিশেষজ্ঞদের মত নয়, ওয়ার্ল্ড ব্রেস্ট ফিডিং ট্রেন্ডস ইনিশিয়েটিভ (ডবিন্টউটিআই) এ তথ্য দিয়েছে৷ এ সংস্থার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বড় এক ধাপ এগিয়েছে৷ হলুদ রং থেকে বাংলাদেশ এখন নীল রঙের দেশগুলোর তালিকায়৷৷
ডবিন্টউটিআই'র পর্যালোচনায় শিশুর খাবারের অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ পেয়েছে ১১০ দশমিক ৫ নম্বর৷ ২০০৮ ও ২০০৫ সালে পেয়েছিল যথাক্রমে ৮৭ ও ৯০ দশমিক ৫ নম্বর৷ পর্যালোচনায় ১৩৬ থেকে ১৫০ সবুজ রং নির্দেশ করে৷ ৯১ থেকে ১৩৫ নম্বর নীল, ৪৬ থেকে ৯০ হলুদ এবং ০ থেকে ৪৫ নম্বর লাল রং নির্দেশ করে৷
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব এম নিয়াজউদ্দীন বলেন, সবুজ রং এ পৌঁছানোর লক্ষ্য স্থির রাখতে হবে৷
বাংলাদেশ ব্রেস্ট ফিডিং ফাউন্ডেশন (বিবিএফ) জানায়, ২০০৭ সালে বুকের দুধ খাওয়ানোর হার ছিল ৪৩ শতাংশ৷ ২০১১ সালে হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪ শতাংশ৷
ব্রেষ্ট ফিডিং ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন ড. এসকে রায় বলেন, যর্থাথই বাংলাদেশের সামনে একটিই লক্ষ্য তা হলো বুকের দুধ খাওয়ানোর ক্ষেত্রে সবুজ রংএর তালিকায় জায়গা করে নেয়া৷ আমরা সে লক্ষেই কাজ করছি৷
তিনি আরো বলেন, সরকার জাতীয় পুষ্টি কার্যক্রমে ৪০ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে৷ এ টাকার বৃহদাংশ বুকের দুধ খাওয়ানোর কাজে লাগানো হবে৷ পাঁচশত শিশুবান্ধব হাসপাতালেও বরাদ্দ দেয়া হয়েছে৷ ১৬৩টি হাসপাতালে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে৷ তাই বলা যায় আমরা সবুজের দিকেই যাচ্ছি৷
শাহীনুর বেগম, বয়স ২৪ বছর৷ এক ছেলে তার৷ বয়স ৪ মাস৷ শাহীনুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগে অনার্স পড়েন৷ সামনেই পরীক্ষা৷ তিনি চান, তার পরীক্ষার সময় তার ছেলে যেন কৌটার দুধ না খায়৷ তাই গত ১৭ নভেম্বর এসেছে মোহাম্মদপুরের ফাট্রিলাটি সার্ভিসেস এন্ড ট্রেনিং সেন্টারে৷ শাহীনুর পুষ্টিবিদ শাহনাজ বেগমের সঙ্গে তার সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে৷ শাহনাজ জানান পরীক্ষার সময় সে ব্রেস্ট সাক (suck) করে দুধ রেখে যেতে চায়৷ পরে যাতে তার সন্তান খেতে পারে৷ শাহনাজ শাহীনুরক বুঝিয়ে দেয় কিভাবে দুধ 'সাক' করতে হবে৷
শাহনাজ বেগম আরো বলেন, তিনটি বাটির মধ্যে দুধ রাখতে হবে সমপরিমান৷ এ দুধ বাইরে রাখলে ৬ থেকে ৮ ঘন্টা ভাল থাকবে৷ ফ্রিজে রাখলে ৭২ ঘন্টা ভাল থাকবে৷ তিনি আরো জানান, মাকে বুকের দুধ বৃদ্ধির জন্য পানি বেশি খেতে হবে, কলমী শাক ও কালিজিরা খেতে হবে৷
শাহনাজ জানান, এখানে প্রতি মাসে এক হাজার রোগী (মা) আসে৷ তাদের মধ্যে ৫'শত জন প্রসূতি৷ তাদের শতকরা ৯৯ ভাগ শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ায়৷ এখানে বাচ্চা প্রসবের পর সাতদিন রাখা হয়৷ তখনি ছয় মাস বুকের দুধ দেয়ার জন্য বলা হয়৷ দু'বছরের মধ্যে শিশুকে কৌটার দুধ না দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়৷
মোহাম্মদপুর ফাট্রিলিটি সার্ভিসেস এন্ড ট্রেনিং সেন্টারে (মা ও শিশু স্বাস্থ্য হাসপাতাল) এ নিন্মবিত্ত পরিবারের মায়েরা বেশি আসে৷ তারা জানান কয়েকটি কারণে তারা শিশুকে বুকের দুধ দেন, প্রথমত কৌটার দুধ কেনার সামর্থ্য নেই৷ দ্বিতীয়ত, তারা মা খালাদের ঐতিহ্য বহন করছেন৷ শেষতক, হাসপাতাল ও চিকিত্সকরা তাদের সচেতন করেন বলে৷
বুকের দুধ খাওয়ার অগ্রগতির ক্ষেত্রে নীতি ও কর্ম সূচির সমন্বয়, শিশু বান্ধব হাসপাতালের উদ্যোগ, মাতৃত্বকালীন সুরক্ষা, মা সহায়ক মাতৃত্বকালীন সুরক্ষা, মা সহায়ক দল, শিশু খাদ্য ও এইচআইভি, জরুরি অবস্থায় শিশু খাদ্যের নীতি ও কর্মসূচি, জন্মের পর থেকে দু'বছর পর্যনত্ম বুকের দুধ ও বাড়তি খাবারের উদ্যোগ এ ধরনের ১৫টি সূচকের ভিত্তিতে পর্যালোচনা করা হয়েছে৷
বিবিএফের পরামর্শক ও পুষ্টিবিদ অধ্যাপক এম কিউকে তালুকদার বলেন, কোরআন শরিফ ও বাইবেলে শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে৷ শিশুদের এ পাওনা মেটানো সবার দায়িত্ব৷
২৭ ডিসেম্বর ২০১৩
