ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৯, জুলাই ২০২৬ ৫:১২:১৮ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

রাস্তায় নেই ট্রাফিক জ্যাম, গাড়ির অনবরত হর্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:৪৭ পিএম, ১৯ মার্চ ২০২০ বৃহস্পতিবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার চিরাচরিত চিত্র গ্রাস করেছে করোনা ভাইরাস। পাল্টে গেছে ঢাকাবাসীর নাগরিক জীবন। ট্রাফিক জ্যাম, গাড়ির অনবরত হর্ন, কিংবা প্রতিদিন সকালে স্কুলে যাওয়া এখন এসব চোখে পড়ে না। খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ পথেঘাটে নামছেনা। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, শিক্ষার্থীদের আনাগোনা কম। রাস্তায় গাড়ির সংখ্যাও কম। গণপরিবহনে যাত্রীও কম।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণার পর শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ বাসস্থানে অবস্থান নিশ্চিত করতে বুধবার (১৮ মার্চ) স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

ঢাকার রাস্তাঘাট ঘুরে দেখা গেছে, বেশ ফাঁকা। রাজধানীর ফার্মগেট, কাওরানবাজার, মিরপুর রোড, নিউমার্কেট, শাহবাগ এলাকায় লোক সমাগম অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক কম। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা ফার্মগেট প্রায় জনশূন্য। দিনের বেলাও সেখানে বাসে যাত্রী মিলছেনা। অথচ অন্যান্য দিন যাত্রীরা লাইন ধরে দাড়িয়ে থাকে বাসে ওঠার জন্য।

ফার্মগেট এলাকা কোচিংপাড়া নামে খ্যাত। এই এলাকায় অনেক কোচিং সেন্টার আছে। সরকারের নির্দেশে এখন তাও বন্ধ। কয়েকটি কোচিং সেন্টারের সামনে ঘুরে দেখা যায়, সেখানে নোটিশ টাঙানো। নোটিশে লেখা—শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালু আছে। সেখানে দায়িত্বরত নিরাপত্তারক্ষীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শুধু অফিস খোলা, ক্লাস বন্ধ।

করোনা আতঙ্কে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে রাজধানীর নিম্ন আয়ের মানুষের ওপরে। রাজধানীতে লোক সমাগম কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাটা পড়েছে তাদের রোজকার আয়ে। পান্থপথ এলাকায় ফজলু নামক এক রিকশাচালক জানান, সকালে স্কুলের সময় থেকে প্যাসেঞ্জারের চাপ থাকলেও এখন নেই। তাই কমেছে আয়। একারণে ভাড়া নিয়ে এখন বেশি দরদাম করছিন না।

একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন ফরহাদ হোসেন। অফিস যেতে প্রতিদিন গণপরিবহন ব্যবহার করলেও করোনার আতঙ্কে কয়েকদিন ধরে তিনি রাইড শেয়ারিং অ্যাপ ব্যবহার করছেন। স্কুল-কলেজ বন্ধ হলেও অফিস বন্ধ নেই। গণপরিবহনে এই সময় যাতায়াত করা রিস্ক। তাই কয়েকদিন ধরে বাইকে অফিসে যাচ্ছি। জানালেন তিনি।

প্রসঙ্গত, বুধবার দেশে করোনা আক্রান্ত হয়ে এক ব্যক্তি মারা গেছেন। এদিন নতুন করে চার জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, এদের মধ্যে একজন নারী ও তিন জন পুরুষ। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৪ জন। আইসোলেশনে আছেন ১৬ জন, প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৪২ জন।

-জেডসি