ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৩, জুলাই ২০২৬ ৭:১০:১৫ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

শরিফা হত্যাকাণ্ড : এক বছরেও কূলকিনারা হয়নি

প্রকাশিত : ০৮:২৬ এএম, ২৭ ডিসেম্বর ২০১৩ শুক্রবার | আপডেট: ০৮:৪০ এএম, ২৭ ডিসেম্বর ২০১৩ শুক্রবার

Sanjeda Khatun Sorifa, Photo. Gopalpur-Tangail.এ কিউ রাসেল, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম গোপালপুর (টাঙ্গাইল) থেকে : টাঙ্গাইলের গোপালপুরের লোমহর্ষক ও আলোচিত কিশোরী শরিফা হত্যাকাণ্ডের পর এক বছর পেরিয়ে গেলেও আজও কোন কূলকিনারা হয়নি৷ ঘাতক প্রেমিক শাহিনসহ চার নরপশু গণধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ গুম করে ও রাখে শরিফার৷ চার আসামীর মধ্যে একজন গ্রেপ্তার হলেও মূল আসামীরা রয়েছে বহাল তবিয়তে৷ আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দিনের আলোয় তারা বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে৷ অপর দিকে সামান্য কিছু টাকার বিনিময়ে মামলা তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দেয়া হচ্ছে নিহতের পরিবারকে৷ তা না হলে নিহতের বাবাসহ শরিফার পরিবারকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হচ্ছে৷ অপরাধীরা বেশ কয়েটি কাগজে শরিফার পরিবারের সদস্যদেও স্বাক্ষর নিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে৷ জানা যায়, গোপালপুর পৌর শহরের সূতী পটলপাড়া অভিরুন্নেছা মহিলা আলিম মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী ও গত বছরের এবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষার্থী মোছা. সানজিদা খাতুন শরিফা (১২) গত বছরের ১১ নভেম্বর রোববার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে শহরের খাস সূতী এলাকার নিজ বাড়ি হতে নিখোঁজ হন৷ এরপর হতেই প্রতিবেশি মো. ফজল মিয়ার পুত্র ও গোপালপুর কলেজের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের দ্বিতীয় পর্বের শিক্ষার্থী শরিফার প্রেমিক মো. শাহীনুল ইসলাম শাহীনসহ (২০) বিভিন্ন স্থানে শরিফার পরিবার মেয়ের খোঁজ করতে থাকেন৷ কিন্তু মেয়ের কোন খোঁজ না পেয়ে ঘটনার দুই দিন পর ১৩ নভেম্বর শরিফার রিকশা চালক হতদরিদ্র বাবা মো. শহিদুল ইসলাম গোপালপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (নং-৪৭২) করেন৷ গোপালপুর থানার তত্‍কালীন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম বিষয়টি তদন্ত করার জন্য গোপালপুর থানার তত্‍কালীন এএসআই মুন্সি কামরুজ্জামানকে দায়িত্ব দেন৷ অপর দিকে শরিফার পরিবার মেয়েকে উদ্ধারের জন্য গ্রাম্য মাতাব্বরদেও সহযোগীতা চান৷ ১৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত গ্রাম্য শালিসে শাহিন-শরিফার মধ্যে প্রেমের বিষয়টি প্রথমে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করলেও বিভিন্ন প্রমাণ ও নিখোঁজ হওয়া শরিফার ডায়েরীতে লেখা প্রমাণে তাদের প্রেমের বিষয়টি প্রমানিত হয়৷ এতে শাহীনসহ তার বাবা ফজর আলী ও মা শাফি বেগম শরিফাকে উদ্ধারের জন্য দুই দিন সময় নেন৷ কিন্তু এতেও শরিফার কোন সন্ধান না দিয়ে রাতের অন্ধকারে বাড়ি হতে পালিয়ে যায় শাহিনসহ তার পরিবারের সদস্যরা৷ নিখোঁজের ১১দিন পর গত বছরের ২১ নভেম্বর মঙ্গলবার সকালে জনৈক মহিলা হসপিটাল সংলগ্ন হাজী আজহারুল ইসলামের বাসার পেছনের একটি নোংরা ডোবায় একটি গলিত লাশ দেখে চিত্‍কার দিলে আশ-পাশের লোকজন উপস্থিত হয়ে পুলিশকে খবর দেয়৷ খবর পেয়ে দুপুর বারোটার দিকে গোপালপুর থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়৷ পড়নের পোশাক দেখে শরিফার বাবা শহর উদ্দিন তার মেয়ের লাশ বলে নিশ্চিত হন৷ তিনি বাদি হয়ে পর দিন বুধবার রাতে গোপালপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন৷ মামলা নং-০৬৷ আলোচিত ও লোমহর্ষক এ মামলাটির তদন্ত দেয়া হয়েছিল গোপালপুর থানার তত্‍কালিন এসআই মো. আজিজুর রহমানকে৷ তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত রমিজুল নামের এক আসামীকে আটক করে প্রায় ৬ মাস আগে৷ আটক করে জিজ্ঞাসাবাদেও সময় রমিজুল জানায়, ঘাতক প্রেমিক শাহিন, শাহিনের আপন চাচা ঢাকাস্থ সালাউদ্দিন ক্লিনিকের স্টাফ এবং অন্ধকার জগতের কিডনী ব্যবসায়ী হিসেবে খ্যাত বেলাল হোসেন, বেলালের আরেক ভাই মামুন ও আটক হওয়া শাহিনের বন্ধু রমিজুল পালাক্রমে শরিফাকে ধর্ষণ করে৷ গণধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় শরিফাকে৷ হত্যা নিশ্চিত করে পাশের একটি ডোবায় কচুরি পানার নিচে লাশ ডুকিয়ে রাখা হয় বলে সে পুলিশের কাছে অকপটে স্বীকার করে৷ এদিকে ঘটনার পর প্রায় ৬ মাস কেটে গেলেও বাকি ৩ আসামীদের একজনও আটক হয়নি বলে নিহতের পরিবারের দাবি৷ শরিফার বাবা মামলার বাদি শহর উদ্দিন আজ মঙ্গলবার জানান, আসামীরা মামলা তুলে নেয়াসহ নানা ধরনের হুমকি ধামকি দিচ্ছে৷ সম্প্রতি তারা বেশ কয়েকটি কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন৷ তিনি তার মেয়ের হত্যাকারিদের গ্রেপ্তার ও তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান৷ ২৭ ডিসেম্বর ২০১৩