ঢাকা, সোমবার ০৬, জুলাই ২০২৬ ১১:৪০:৫৫ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

করোনাভাইরাসে একদিনে মৃত্যু ২৩৭৮; আক্রান্ত ৪৩৭৬৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:৫০ এএম, ২৫ মার্চ ২০২০ বুধবার

ছবি: ইন্টারনেট

ছবি: ইন্টারনেট

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মৃত্যুর মিছিল অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটির পরিসংখ্যান বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বব্যাপী করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ৩৭৮ জন। এর মধ্যে ইতালিতেই মারা গেছে ৭৪৩ জনের।এই নিয়ে বিশ্বব্যাপী মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৮৯২ জনে। এছাড়া, ৪৩ হাজার ৭৬৯ জন নতুন করে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। শুক্রবার পর্যন্ত বিশ্বে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪ লাখ ২২ হাজার ৬১৪ জন।অপরদিকে, ১ লাখ ৮ হাজার ৮৭৯ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

গত ২৪ ঘন্টায় মৃত্যুতে ইতালির পরই রয়েছে স্পেন। সেখানে মৃত্যু হয়েছে ৬৮০ জনের। দেশটিতে মোট মৃতের সংখ্যা ২৯৯১ জন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ১১ হাজার ৭৪ জন এবং নিহত হয়েছেন ২২২ জন। দেশটিতে মোট আক্রান্ত ৫৪৮০৮ এবং নিহত ৭৭৫ জন।

জার্মানিতে মৃত্যু হয়েছে ১৫৯ জনের। ইরানে গত ২৪ ঘন্টায় নিহত হয়েছেন ১২২ জন। দেশটিতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১৯৩৪ জন। এ তথ্য জানিয়েছে করোনাভাইরাস নিয়ে লাইভ আপডেট দেয়া ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডমিটার।

চীনের উহান থেকে বিস্তার শুরু করে গত আড়াই মাসে বিশ্বের ১৭০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯)। চীনে করোনার প্রভাব কিছুটা কমলেও বিশ্বের অন্য কয়েকটি দেশে মহামারি রূপ নিয়েছে।

এই ভাইরাসে শুধুমাত্র চীনের মূল ভূখণ্ডেই আক্রান্ত হয়েছেন ৮১ হাজার ২১৮ জন। আর মারা গেছেন ৩ হাজার ২৮১ জন। তবে এখন চীনে এই হার উল্লেখযোগ্য হারে কমে এসেছে। গত কয়েকদিনে দেশটিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা শূন্যের কোটায়। চীন জানিয়েছে, শনিবার ৪৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে তাদের বেশিরভাগই অন্য দেশ থেকে প্রবেশ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে নিহত হয়েছেন ৪ জন। চীনের বাইরে ইতালিতে ভয়াবহ তাণ্ডব চালাচ্ছে করোনাভাইরাস। সেখানে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৬৯ হাজার ১৭৬ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৬৮২০ জনের।

২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। নিউমোনিয়ার মত লক্ষণ নিয়ে নতুন এ রোগ ছড়াতে দেখে চীনা কর্তৃপক্ষ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে সতর্ক করে। এরপর ১১ জানুয়ারি প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। ঠিক কীভাবে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হয়েছিল- সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত নন বিশেষজ্ঞরা। তবে ধারণা করা হচ্ছে, উহানের একটি সি ফুড মার্কেটে কোনো প্রাণী থেকে এ ভাইরাস প্রথম মানুষের দেহে আসে। তারপর মানুষ থেকে ছড়াতে থাকে মানুষে।

করোনাভাইরাস মূলত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। এর লক্ষণ শুরু হয় জ্বর দিয়ে, সঙ্গে থাকতে পারে সর্দি, শুকনো কাশি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও শরীর ব্যথা। সপ্তাহখানেকের মধ্যে দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট। উপসর্গগুলো হয় অনেকটা নিউমোনিয়ার মত। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হলে এ রোগ কিছুদিন পর এমনিতেই সেরে যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদযন্ত্র বা ফুসফুসের পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে ডেকে আনতে পারে মৃত্যু।

প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাস নিয়ে বিশ্বব্যাপী আতঙ্কের মাত্রা এখন তুঙ্গে। আর তাই মহামারী আকারে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা মোকাবেলায় বিভিন্ন দেশ নিচ্ছে নানা রকম পদক্ষেপ। বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানরা রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন এ ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায়। বিশ্বের ২০০টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস।এই ভাইরাসের গতি আরও বাড়ছে বলে হুঁশিয়ার করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস। উৎপত্তিস্থল চীনে ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হলেও সেখানে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব কমে গেছে। তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশে এই ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ছে। চীনের বাইরে করোনাভাইরাসের প্রকোপ ১৩ গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে গত ১১ মার্চ দুনিয়াজুড়ে মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

-জেডসি