মন্ত্রী-এমপিদের সতর্ক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ০৪:১৩ পিএম, ২ জানুয়ারি ২০১৭ সোমবার
দুর্বৃত্তদের গুলিতে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের সংসদ সদস্য (এমপি) মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন নিহত হওয়ার ঘটনা মনে রেখে মন্ত্রী-এমপিদের সতর্ক থাকতে বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনেক আগে থেকেই এ ধরনের হত্যাকন্ড ঘটানোর চক্রান্ত চলছিল জানিয়ে তিনি বলেন, অনেক ছক কষে তাকে হত্যা করা হয়েছে। আজ সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত সাপ্তাহিক বৈঠকের অনির্ধারিত আলোচনায় এ হত্যাকান্ড নিয়ে কথা বলেন তিনি।
আজ সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকের আগে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় এমপি লিটনের মরদেহে শ্রদ্ধা জানান। আর সেখান থেকে সচিবালয়ে যান তারা মন্ত্রিসভার বৈঠকে অংশ নিতে। নির্ধারিত আলোচ্য বিষয়ের সঙ্গে গুরুত্ব পায় এই সংসদ সদস্যকে হত্যা। উঠে আসে সংসদ সদস্যের গুলিতে এক শিশু আহত হওয়ার প্রসঙ্গও। বৈঠকে এই এমপির মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। মন্ত্রিসভার বৈঠকে অংশ নেয়া একজন মন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে এই প্রতিবেদকের। তিনি জানান, এমপি লিটনের হত্যার পেছনে জামায়াতের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে সন্দেহের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সে ছিল ওই এলাকায় জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে আতঙ্ক। সে আওয়ামী লীগকে ওই এলাকায় শক্তিশালী অবস্থানে নিতে কাজ করেছে। তিনি আরও বলেন, ছেলেটা (লিটন) অত্যন্ত ভালো ছিল। সে বিদেশ থেকে পড়াশোনা করে এসেছে। আওয়ামী লীগের জন্য নিবেদিতপ্রাণ ছিল। জামায়াত-শিবির অধ্যুষিত এলাকা হলেও সাহসের সঙ্গে কাজ করেছে। দুইবার গোলাম আযমের ওই এলাকায় যাওয়া ঠেকিয়েছে সে। দেশবিরোধী শক্তি চক্রান্ত করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা আরও ঘটনা ঘটাতে পারে। এ জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত নতুন নয়। ১৯৭২ থেকে ৭৪ সাল পর্যন্ত সাত জন এমপিকে মারা হয়েছে। জোট সরকারের আমলেও সংসদ সদস্য শাহ এ এম এস কিবরিয়া ও আহসান উল্লাহ মাস্টারকে হত্যা করা হয়েছে। এভাবে বিভিন্ন সময়ে ষড়যন্ত্রকারীরা পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীকে হত্যা করেছে। ওই মন্ত্রীর ভাষ্যমতে তিনি বৈঠকে বলেছেন, লিটন হত্যা সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ। ২০১৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর সুন্দরগঞ্জে এক শিশুকে গুলি করার ঘটনাটিও এর অংশ ছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্নভাবে লিটনকে হেয় করা হয়েছে। প্রথমে তাকে হেয় করা হয়েছে এরপর তাকে হত্যা করা হয়েছে। পত্রিকায় এসেছে শিশু সৌরভকে গুলি করেছে সে (লিটন)। কিন্তু পত্রিকায় আসেনি যে তার ওপর আক্রমণ হয়েছে এবং সেটা ঠেকাতেই সে গুলি করেছে এবং সেই গুলিতে সৌরভ আহত হয়েছিল।
