ঢাকা, শুক্রবার ১৭, জুলাই ২০২৬ ৯:০৫:১৫ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

বন্যা ও নদী ভাঙ্গন রোধে সরকার কাজ করে যাচ্ছে : শেখ হাসিনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত : ০১:৪৫ পিএম, ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫ বুধবার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নের জন্য বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নদী ভাঙ্গন রোধে অব্যাহতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এ পর্যন্ত ৫ হাজার ১০৭ কিলোমিটার উপকূলীয় বাঁধসহ মোট ১১ হাজার ৪২২ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের মাহফুজুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আজ সংসদে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদে ১২৯টি প্রকল্প গৃহীত হয়েছে। যার মধ্যে ৮১টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে ও ৪৮টি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি ৬টি প্রকল্প একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। তিনি বলেন, এসব প্রকল্পের আওতায় ৬৭৭ কি. মি. বাঁধ নির্মাণ, ২ হাজার ১২৪ কি. মি. বাঁধ মেরামত ও ৩১০ কি. মি. নদী তীর সংরক্ষণ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন শহর ও থানা শহর এবং শিল্পসমৃদ্ধ ও ঐতিহ্যবাহী এলাকা রক্ষায় প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন অব্যাহত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নদী ভাঙ্গন রোধে চলতি বছরের জুনে সমাপ্তকৃত প্রকল্পগুলো হলো- সুরমা নদীর ডান তীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প, করতোয়া নদীর ডান তীর সমন্বিত বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প, উপকূলীয় অঞ্চলে আইলায় ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবকাঠামোসমূহের পুনর্বাসন প্রকল্প, ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলায় ফেনী রেগুলেটরের ভাটিতে পাইলট চ্যানেল খনন এবং মীরেরসরাই উপজেলার পশ্চিম জোয়ার এলাকায় ফেনী নদীর বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্প, পদ্মা নদীর ভাঙ্গন থেকে রক্ষা প্রকল্প, গোমতী নদীর উভয় তীরে বাঁধ পুনর্বাসন ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্প, নদী তীর সংরক্ষণ ও শহর সংরক্ষণ প্রকল্প, মেঘনা নদীর ভাঙ্গন থেকে চাঁদপুর সেচ প্রকল্প এলাকা এবং বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় বাম তীর রক্ষা প্রকল্প, মেঘনা নদীর ভাঙ্গন থেকে চাঁদপুর সেচ প্রকল্প সংরক্ষণ ইত্যাদি।

তিনি বলেন, এছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও নদী ভাঙ্গন রোধে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, পদ্মা, গঙ্গা ও যমুনা নদীর ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে এডিবি অর্থায়নে ৮২৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত ‘ফ্লাড এন্ড রিভারব্যাংক এ্যারোশন রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম’ শীর্ষক প্রকল্পের প্রথম পর্যায় বর্তমানে চলমান রয়েছে। প্রকল্পটি তিনটি পর্যায়ে বাস্তবায়িত হবে। তিনি বলেন, প্রথম পর্যায়ে এডিবি’র সম্ভাব্যতা সমীক্ষার আলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভাঙ্গন প্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সংরক্ষণের কাজ বাস্তবায়নে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ১ম পর্যায়ে ২৩ কি. মি. বাঁধ নির্মাণসহ ১৫ কি. মি. নদী তীর সংরক্ষণ কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। সমীক্ষার আলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভাঙ্গন প্রবণ এলাকাগুলোর সংরক্ষণের কাজ ২য় ও ৩য় পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় ‘রিভার ব্যাংক ইমপ্র“ভমেন্ট প্রোগ্রাম (আরবিআইপি)’ শীর্ষক একটি সমীক্ষা ২০১৩ সালের অক্টোবরে শুরু হয়ে ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে শেষ হয়েছে। সমীক্ষার ভিত্তিতে ৫ হাজার ২শ’ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ‘রিভার ম্যানেজমেন্ট ইমপ্র“ভমেন্ট প্রজেক্ট’ শীর্ষক একটি প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের কমবেশী ২ হাজার ৭৫০ কি. মি. প্লাবন ভূমির প্রায় ৪৮ লাখ অধিবাসীকে ভয়াবহ বন্যা ও নদী ভাঙ্গন থেকে রক্ষা করা যাবে। তিনি বলেন, এ প্রকল্পে বঙ্গবন্ধু সেতুর ১৭ কি. মি. উজান থেকে শুরু হয়ে উত্তরে ৫০ কি. মি. অংশে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নদী ভাঙ্গন রোধের কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও নদী ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা হিসেবে উল্লেখিত প্রকল্পগুলো নেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এ ধরনের প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন অব্যাহত থাকবে।