ঢাকা, বুধবার ০৮, জুলাই ২০২৬ ২২:০৮:৪৫ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

মঞ্চ প্রস্তুত, রাতেই হতে পারে বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদের ফাঁসি

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৯:০৫ পিএম, ১১ এপ্রিল ২০২০ শনিবার

মঞ্চ প্রস্তুত, রাতেই হতে পারে বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদের ফাঁসি

মঞ্চ প্রস্তুত, রাতেই হতে পারে বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদের ফাঁসি

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদের ফাঁসির জন্য ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত রয়েছে। আজ শনিবার রাতেই তার ফাঁসি কার্যকর হতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আজ রাত ১২টা ১ মিনিটে মাজেদের ফাঁসি কার্যকর হতে পারে।

তিনি আরও জানান, ফাঁসি কার্যকরের জন্য জল্লাদ শাহজাহান সহকারী মনির এবং সিরাজকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, জল্লাদ শাহজাহান বঙ্গবন্ধুর অন্য পাঁচ খুনির ফাঁসিও কার্যকর করেন।

কারা সূত্রে জানায়, ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। মঞ্চের লাইট জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে, দিনের বেলায় ফাঁসির ট্রায়ালও দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ডেপুটি জেলারা মঞ্চের পাশে ডিউটি করছেন। বাইরেও ফোর্স বাড়ানো হয়েছে।

এর আগে গত বুধবার রাতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের কাছে পাঠানো প্রাণভিক্ষা খারিজের চিঠি পৌঁছায় কারাগারে। তখনই ফাঁসি কার্যকরের ব্যবস্থা নিতে শুরু করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ।

পরেরদিন বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘আবদুল মাজেদের প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। প্রাণভিক্ষার আবেদন বাতিল হয়ে যাওয়ায় ফাঁসির আদেশ কার্যকরে আর কোনো বাধা থাকল না। এখন পরবর্তী প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তার ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করা হবে।’

প্রায় দুই দশক ধরে ভারতে পালিয়ে থাকার পর দেশে ফিরে গত ৭ মার্চ ভোরে গাবতলী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন আব্দুল মাজেদ।

প্রসঙ্গত, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালোরাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নৃশংসভাবে সপরিবারে হত্যা করা হয়। তবে বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় বেঁচে যান।

ওই দুর্ঘটনার রাতে নিহত ১৮ জন হলেন- বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তার তিন ছেলে- ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল এবং দশ বছর বয়সী শেখ রাসেল, দুই পুত্রবধু সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, ভাই শেখ নাসের, কৃষক নেতা আবদুর রব সেরনিয়াবাত, যুবনেতা শেখ ফজলুল হক মনি এবং তার স্ত্রী আরজু মনি, বেবি সেরনিয়াবাত, সুকান্ত বাবু, আরিফ এবং আবদুল নায়েম খান রিন্টু প্রমুখ।

এতে সামরিক সচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জামিলও নিহত হন। একই দিনে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় খুনিদের চালানো কামানের গোলায় এক পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য মারা গিয়েছিলেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সময় মাজেদ, নূর ও মোসলে উদ্দিনসহ অন্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

২০০৯ সালের ১৯ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বঙ্গবন্ধু এবং তার পরিবারের সদস্যদের হত্যায় দোষী সাব্যস্ত করে সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখে।

বঙ্গবন্ধুর পাঁচ হত্যাকারী সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খান, বজলুল হুদা, এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ ও মুহিউদ্দিন আহমেদের ফাঁসি ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে কার্যকর হয়।

আরেক খুনি আজিজ পাশা ২০০১ সালে জিম্বাবুয়েতে মারা যান।

বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার কারণে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক ১২ সেনা কর্মকর্তার ফাঁসির রায় ২০০৯ সালের ১৯ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বহাল রাখে।

পলাতক আসামিরা হলেন- সাবেক লেফট্যানেন্ট কর্নেল খন্দকার আবদুর রশীদ, এস এইচ এম বি নূর চৌধুরী, শরিফুল হক ডালিম, রাশেদ চৌধুরী ও মোসলে উদ্দিন।

এর মধ্যে নূর চৌধুরী, রাশেদ চৌধুরী এবং মোসলে উদ্দিনের অবস্থান সরকার জানতে পারলেও অন্য তিন পলাতক রশিদ, ডালিম ও মাজেদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত ছিল না।

নূর চৌধুরী কানাডায় এবং রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে আছেন বলে সরকারি সূত্রে জানা যায়।