ঢাকা, মঙ্গলবার ১০, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:২০:০৯ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

করোনা সন্দেহে মাকে ঘরছাড়া করলো ছেলেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৯:০১ পিএম, ১৪ এপ্রিল ২০২০ মঙ্গলবার

করোনা সন্দেহে মাকে ঘরছাড়া করলো ছেলেরা

করোনা সন্দেহে মাকে ঘরছাড়া করলো ছেলেরা

করোনাভাইরাস সন্দেহে বৃদ্ধা মাকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার দুই ছেলের বিরুদ্ধে। দুই দিন ধরে পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছেন অমত্য বালা দাস (৯০) নামে ওই বৃদ্ধা।

আজ মঙ্গলবার সকালে সুনামগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চল শাল্লা উপজেলার সাংবাদিক জয়ন্ত সেন তার ফেসবুকে একটি ভিডিও প্রচার করলে বিষয়টি ভাইরাল হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শাল্লা উপজেলার হাবিবপুর ইউনিয়নের নিয়ামতপুর গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধা অমত্য বালা দাস। দুই ছেলের জন্মের পর স্বামীকে হারান তিনি। দুই ছেলে জুগেশ দাশ ও রণধীর দাশকে কষ্ট করে মানুষ করেন। দুই ছেলে কৃষি কাজ করলেও তাদের পারিবারিক অবস্থা ভালো। অন্য জেলা থেকে শাল্লায় আসা গামেন্টর্স কর্মীর বাড়িতে যাওয়ায় প্রতিবেশীদের কথায় মাকে ঘর থেকে বের করে দেন দুই ছেলে।

ছেলেদের দাবি, করোনার মহামারির মধ্যে অন্য জেলা থেকে আসা মানুষের বাড়িতে যাওয়ার শাস্তি স্বরূপ তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।

বৃদ্ধা অমত্য বালা দাশ বলেন, ‘আমার কোনো করোনা নাই বাবা। আমি কারও বাড়িতেও যাই নাই। আমি বুড়া মানুষ হাঁটতে বের হইছিলাম। পরে ঘরে গেলে ছেলেরা আমারে মিথ্যা অপবাদ দিয়া ঘর থাকি বাহির করিয়া দিসে। গাঁওয়ের কেউ আমারে জায়গা দেয় না, খাওন দেয় না। তারা সবাই কয় আমি নাকি করোনা রোগী।’

‘এখন আমার ছেলেরা জায়গা দেয় না, বউরা খাওন দেয় না। গেলেই বলে তুমি দোষী ঘরে আইও না। এখন এক সবজি ব্যবসায়ী আমাকে একটা বেগুন দিলেও চাল কেউ দেয় নাই, বলছিলেন ওই বৃদ্ধা।

এ বিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিক জয়ন্ত সেন বলেন, ‘ওই নারীকে আমি রাস্তায় বসে থাকতে দেখে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি করোনা সন্দেহে ছেলেরা তাকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছেন। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি উনার ছেলেদের কোনো অভাব-অনটন নেই। তার ছেলেরা এবং কিছু প্রতিবেশী মিলে এমন কুসংস্কারকে বিশ্বাস করে পুরো উপজেলায় বিষয়টি ছড়িয়ে দিয়েছে। যার কারণে ওই নারী এখন কোথাও খাবার পান না, আমি এখন উনাকে আমার ঘরে নিয়ে এসে চারটা ডাল-ভাত খাইয়েছি।’

ওই নারীর দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে জুগেশ দাসের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, অন্য জেলা থেকে গ্রামে আসা গামের্ন্টস কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার কারণে মাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তিনি তার শাস্তি ভোগ করছেন।

শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল-মুক্তাদির হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর আমি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে অবগত করেছি। তিনি এখন ওই নারীর কাছে গিয়ে বিষয়টি দেখবেন। যদি বিষয়টি সত্যি হয় তাহলে আমরা ছেলেদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’