লকডাউন তুলে নেয়া নিয়ে রাজ্যগুলোর সঙ্গে ট্রাম্পের বিরোধ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০২:১৭ পিএম, ১৫ এপ্রিল ২০২০ বুধবার
লকডাউন তুলে নেয়া নিয়ে রাজ্যগুলোর সঙ্গে ট্রাম্পের বিরোধ
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাস লকডাউন তুলে নেবার ব্যাপারে নিজের কর্তৃত্বকেই 'চূড়ান্ত' বলে দাবি করেছেন। বিভিন্ন রাজ্যের গভর্নর এবং আইন বিশেষজ্ঞদের তিনি উপেক্ষা করতে পারেন বলেও তিনি দাবি করেন।
এক বাকবিতণ্ডাপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।’ ওই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে তার উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ও হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে বলা আছে আইন শৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব অঙ্গরাজ্যগুলোর।
দেশটির পূব ও পশ্চিমের দশটি রাজ্য ঘরের ভেতর থাকার কঠোর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবার পরিকল্পনা করছে।
বিশ্বে করোনাভাইরাস মহামারির এপিসেন্টার এখন আমেরিকা। সেখানে সোমবার পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা ৫৫ লক্ষ ৪,৬৮৪ এবং মারা গেছে ২৩,৬০৮ জন।
হোয়াইট হাউসে প্রতিদিনের করোনাভাইরাস ব্রিফিংয়ে সোমবার রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট মি. ট্রাম্প বলেন যে, আমেরিকায় ব্যবসা বাণিজ্য খুলে দিয়ে অর্থনীতিকে আবার সচল করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করছে তার প্রশাসন। করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ব্যবসা বাণিজ্য প্রধানত বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল।
ট্রাম্প প্রশাসন ইঙ্গিত দিয়েছে বিধিনিষেধ শিথিল করার সম্ভাব্য তারিখ পয়লা মে।
হোয়াইট হাউসের বর্তমান নির্দেশ অনুযায়ী রেস্তোঁরায় যাওয়া বন্ধ রাখা, অপরিহার্য কারণ ছাড়া বাইরে না বের হওয়া এবং একসঙ্গে দশ জনের বেশি জমায়েত না হবার যে বিধান এখন চালু আছে তার মেয়াদ ৩০শে এপ্রিল শেষ হচ্ছে।
সাংবাদিকরা যখন প্রশ্ন করেন বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের প্রশাসন আলাদা আলাদাভাবে ঘরের ভেতর থাকার যে নির্দেশ জারি করেছে, তা অগ্রাহ্য করার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের আছে কিনা, তখন উত্তরে মি. ট্রাম্প বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যিনি প্রেসিডেন্ট তার ক্ষমতাই পুরোটা।’
‘তার ক্ষমতাই চূড়ান্ত। গর্ভনররা সেটা জানেন।’
তিনি আরও বলেন: ‘তার পরেও আমরা রাজ্যগুলোর সঙ্গেই একসাথে কাজ করবো।’
প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেন আমেরিকার প্রথম চার্টারের ‘বিভিন্ন অনুচ্ছেদে’ প্রেসিডেন্টকে এই ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। যদিও কোন্ অনুচ্ছেদগুলোর কথা তিনি বলছেন তা স্পষ্ট করেননি।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন রাজ্য বা স্থানীয় পর্যায়ে জনস্বাস্থ্য বিষয়ক কোনরকম নিষেধাজ্ঞা বা নির্দেশ বদলানোর এখতিয়ার প্রেসিডেন্টের নেই।
