ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৩, জুলাই ২০২৬ ৭:০৮:১২ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

আসকের তথ্য : ৬ মাসে ২৬৫ নারী ধর্ষিত

প্রকাশিত : ০৮:১৯ এএম, ৩ জুলাই ২০১৪ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৯:৩৬ এএম, ৩ জুলাই ২০১৪ বৃহস্পতিবার

indexস্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম, ঢাকা : চলতি বছর গত ছয় মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন মোট ২৬৫জন নারী। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ২৯জন নারীকে। ধর্ষণের পর আত্নহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন আরো ৭জন নারী। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এই তথ্য জানিয়েছে। আসক আরো জানান, যৌতুককে কেন্দ্র করে নির্যাতনে শিকার হয়েছেন ১৪০জন নারী। এরমধ্যে শারীরিক নির্যাতনে শিকার হয়েছেন ৫২জন, শারীরিক নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে ৮৩জন নারীকে। সোমবার আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) মানবাধিকার লংঘনের সংখ্যাগত প্রতিবেদনের এ তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনটি করা হয়েছে চলতি বছর ১লা জানুয়ারি থেকে ৩০জুন পর্যন্ত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যৌন নির্যাতনে শিকার হয়ে ৪জন নারী আত্নহত্যা করেছেন। যৌন হয়রানীর প্রতিবাদ করতে গিয়ে ৩জন পুরুষ ও ২জন নারী নিহত হয়েছেন। এছাড়া ৯০ জন নারী ও পুরুষ হয়রানী ও লাঞ্চিত হয়েছেন। সালিশ ও ফতোয়ার মাধ্যমে নির্যাতনে শিকার হয়েছেন ১০জন নারী। এরমধ্যে ৬জন নারী শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনে শিকার হয়েছেন। গ্রামছাড়া, সমাজচ্যুত করে একঘরে করার ফতোয়া দিয়েছে ৪জন নারীকে। সালিশের মাধ্যমে মানসিক নির্যাতনে শিকার হওয়ার পর ২জন নারী আত্নহত্যা করেছেন। ২৭জন গৃহপরিচারিকা বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনে শিকার হয়েছেন। এরমধ্যে শারীরিক নির্যাতনে শিকার হয়েছেন ১১জন। শারীরিক নির্যাতনের পর মারা গেছেন ৪জন এবং রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়েছে আরো ১১জনের। ধর্ষণের শিকার হয়েছেন মোট ২৬৫জন নারী। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ২৯জন নারীকে। ধর্ষণের পর আত্নহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন আরো ৭জন নারী। এছাড়া ধর্ষনের চেষ্টা করা হয়েছে ৪৪জন নারীর উপর। যৌতুককে কেন্দ্র করে নির্যাতনে শিকার হয়েছেন ১৪০জন নারী। এরমধ্যে শারীরিক নির্যাতনে শিকার হয়েছেন ৫২জন, শারীরিক নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে ৮৩জন নারীকে। এছাড়া যৌতুকের কারণে আত্নহত্যা করেছেন ৪জন নারী। পারিবারিক নির্যাতনে শিকার হয়েছেন ২৩৬জন নারী। এরমধ্যে ১৬১জন নারীকে হত্যা করা হয়েছে। পারিবারিক নির্যাতনের কারণে আত্নহত্যা করেছেন ৫৪জন নারী। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ক্রসফায়ারে ২৭জন, পুলিশের ক্রসফায়ারে ৩৯জন,  পুলিশের ক্রস ফায়ারে ১ জন, যৌথবাহিনীর ক্রসফায়ারে ৭জন, বিজিবি’র ক্রসফায়ারে ২ জন কোষ্টগার্ডের ক্রসফায়ারে ৩ জন, ডিবি পুলিশের ক্রস Nariফায়ারে ২ জন মারা গেছেন। এছাড়াও পুলিশের নির্যাতনে ৭ জন, বিজিবি’র নির্যাতনে ১ জন, পুলিশের গুলিতে ৩জন এবং মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি এ কারণে মৃত্যু হয়েছে আরো ১জনের। প্রধান জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে মোট ৪০৯টি। এতে আহত হয়েছেন ৫হাজার ৩৬২জন এবং নিহত হয়েছেন ১১৭জন। সীমান্তে বিএসএফ এর গুলিতে মারা গেছেন ৮জন, নির্যাতনে মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের এবং ১জনের মৃত্যুর ধরণ জানা যায়নি। আহত হয়েছেন ২৫জন, অপহরনের শিকার হয়েছেন ৫৩জন। এ ছাড়া অপহরনের পর বিজিবি’র মধ্যস্থতায় ফেরত এসেছেন ৮জন। গত ছয়মাসে কারা হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে ২৮ জনের। এরমধ্যে কয়েদি ১৫জন, হাজতি ১৩জন। গণপিটুনির ঘটনায় গতছয়মাসে মোট ৬৮জনের মৃত্যু হয়েছে। এসিড সন্ত্রাসে শিকার হয়েছেন মোট ২০জন নারী। সাংবাদিক নিহত হয়েছেন ৩ জন এবং ১৩০জন সাংবাদিক বিভিন্ন ভাবে নির্যাতনে শিকার হয়েছেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের ৭১৯টি বাসস্থান ভাংচুর করা হয়েছে, অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে ১৯২ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। ১৬৪টি প্রতিমা, পুজা মন্ডপ, মন্দির ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ সব ঘটনায় ১৮৯জন আহত ও ১জন নিহত হয়েছেন। ০৩.০৭.২০১৪