৫০ লাখ পরিবারকে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১২:৩৯ পিএম, ১৪ মে ২০২০ বৃহস্পতিবার
ছবি: সংগৃহীত
সরকার ৫০ লাখ হতদরিদ্র ও কর্মহীন পরিবারকে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টার দিকে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে মোবাইল ব্যাংকিং পরিষেবার মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের হিসাবে সরাসরি নগদ অর্থ প্রেরণের এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন সরকারপ্রধান।
এছাড়াও স্নাতক ও সমমান পর্যায়ের ২০১৯ সালের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি ও টিউশন ফি বিতরণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের কোনো শক্তিধর দেশই এই করোনা ভাইরাসকে জয় করতে পারে নি। এই ভাইরাসের প্রভাবে যখন বিশ্বজুড়ে মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে চলছে, বিশ্ব যখন স্থবির তখন প্রকৃতি পুনঃ উজ্জীবিত হয়ে উঠছে নিজের মতো করে। জীবন তো থেমে থাকতে পারে না। সে জন্য আমরা কিছু কিছু করে পুনরায় চালু করে দিচ্ছি। আজকে আমাদের মধ্যে যাদের সামর্থ্য আছে, তাদের বলবো, আপনাদের আশেপাশে কেউ দরিদ্র থাকলে তাদের সহায়তা করুন। আমি ইতোমধ্যে নির্দেশ দিয়েছি, আমাদের এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদী না থাকে। আমাদের নিজেদের খাদ্য উৎপাদনে নিজেদের স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হবে। দেশে খাদ্য ঘাটতি যেন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
তিনি আরো বলেন, প্রায় ৫০ লাখ পরিবারের প্রায় ২ কোটি সদস্য আগে থেকেই রয়েছে ভিজিএফ কার্ডের আওতায়। তারা এখন এই কার্ডের মাধ্যমে ১০ টাকায় চাল কিনতে পারছেন। এছাড়াও রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, শিক্ষা ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতা। এর বাইরে যারা দৈননন্দিন কাজ করে খেতো, তাদের কোনো কাজ নেই, তাদের আয়ের পথ বন্ধ। তাদের কথা চিন্তা করেই আমরা কিছু অর্থের ব্যবস্থা করেছি। সেই লক্ষ্যেই ৫০ লাখ মানুষকে আমরা অর্থ সহায়তা দিবো। যারা কিছুই পাচ্ছেন না, যারা সব রকম ভাতা ও সুবিধার বাইরে, তাদের কথা চিন্তা করে আমরা ১ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছি। একদিকে মুজিববর্ষ, অন্যদিকে রমজান মাস, সামনে ঈদ আসছে, সে কথা চিন্তা করেই আমরা তাদের মোবাই ফোনে এই অর্থ দিয়ে দিবো।
জানা গেছে, করোনা পরিস্থিতির কারণে মে এবং জুন- এই দুই মাস ৫০ লাখ পরিবার পাঁচ হাজার করে টাকা পাবে। বিকাশ, নগদ, রকেট ও শিওরক্যাশের মাধ্যমে পরিবারগুলোর কাছে টাকা পৌঁছে যাবে।
এ জন্য এরইমধ্যে এক হাজার ২৫৭ কোটি টাকা ছাড় করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। সহায়তার এ অর্থ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিনা খরচে প্রত্যেক পরিবারের হাতে ঈদের আগে পৌঁছে দেয়া হবে।
উদ্যোগটির সঙ্গে য্যক্ত আছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ। আর পরিবার চিহ্নিত করা হয়েছে স্থানীয় সরকার অর্থাৎ জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের সাহায্যে।
তালিকায় রিকশাচালক, ভ্যানচালক, দিনমজুর, নির্মাণশ্রমিক, কৃষিশ্রমিক, দোকানের কর্মচারী, ব্যক্তি উদ্যোগে পরিচালিত বিভিন্ন ব্যবসায় কর্মরত শ্রমিক, পোলট্রি খামারের শ্রমিক, বাস-ট্রাকসহ পরিবহন শ্রমিক, হকারসহ নানা পেশার মানুষকে রাখা হয়েছে।
-জেডসি
