চীনে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত ৫৭, বাড়ছে উদ্বেগ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১০:১২ পিএম, ১৪ জুন ২০২০ রবিবার
চীনে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত ৫৭, বাড়ছে উদ্বেগ
চীনে আজ রোববার করোনা ভাইরাসে নতুন করে ৫৭ জন আক্রান্ত হয়েছে। এবার স্বয়ং রাজধানী বেইজিংয়ে থাবা বসিয়েছে করোনা। এপ্রিলের পর এ সংখ্যা সর্বোচ্চ। চলতি বছরের প্রথমে চীন কঠোর লকডাউনের মাধ্যমে করোনার প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু বেইজিংয়ের দক্ষিণাংশের মাংস ও সব্জির বাজার থেকে নতুন করে এটির সংক্রমণ শুরু হয়েছে।
এপ্রিলে করোনামুক্ত ঘোষণা হওয়ার পর এক দিনে এটাই চীনে সর্বোচ্চ আক্রান্তের সংখ্যা। ফলে একবার করোনা আক্রান্তের সংখ্যা শূন্য হওয়ার পরেও ফের ফিরে আসতে পারে বলে যে আশঙ্কা করা হচ্ছিল, সেটাই সত্যি হতে চলেছে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। পাশাপাশি আক্রান্ত এলাকায় নতুন করে জারি হয়েছে লকডাউনের নির্দেশ।
দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন বলছে, নতুন আক্রান্ত ৫৭ জনের মধ্যে ৩৬ জনই বেজিংয়ের বাসিন্দা। তারা সবাই দক্ষিণ বেজিংয়ের একটি মাংস ও সব্জি বাজার লাগোয়া একাধিক আবাসনের বাসিন্দা। দু’জন নতুন আক্রান্তের সন্ধান মিলেছে উত্তর-পূর্বের লিয়াওনিং প্রদেশে। তবে তারা বেজিংয়ের আক্রান্তদের সংস্পর্শে এসেছিলেন। বাকি আক্রান্তরা বিদেশ থেকে ফিরেছেন বলে জানিয়েছে চীনের স্বাস্থ্য প্রশাসন। কিন্তু দেশের অভ্যন্তরে নতুন করে কী ভাবে আক্রান্ত হলেন, তা নিয়েই দুশ্চিন্তা বেড়েছে প্রশাসনের। কারণ, তাদের কেউ কোনও আক্রান্তের সংস্পর্শে এসেছেন, এমন প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি। কোনও খাবার থেকে তারা সংক্রমিত হতে পারেন-এমন আশঙ্কাও রয়েছে। শুরু হয়েছে নতুন করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা।
স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, বেইজিং সংক্রমণের সঙ্গে এটির ঘনিষ্ঠ সংযোগ রয়েছে। এছাড়া বেশকিছু সংক্রমন ঘটেছে জিনফাদি পাইকারি বাজার থেকে। বাজারটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। শনিবার সেখানে পুলিশ ও আধা সামরিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
করোনার নতুন সংক্রমণের কারণে লকডাউনের নতুন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বাজারটির আশেপাশের ১১টি আবাসিক এলাকার লোকজনকে ঘরে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এদিকে নগরীর অন্যান্য বাজারও বন্ধ থাকায় খাদ্য সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, মাস্ক, গ্লাভস পরা কয়েকশো পুলিশকর্মী-অফিসার এবং প্রচুর আধাসেনাকে ওই বাজারে মোতায়েন করা হয়েছে। পিপিই, মাস্ক, গ্লাভস পরে টহল দিচ্ছেন তারা। বেজিং মার্কেট নজরদারি কর্তৃপক্ষ নতুন করে খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত গাইডলাইন জারি করেছেন। হিমায়িত কাটা মাংস, পোল্ট্রি, মাছ বাজার, বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্যের গুদাম ও সরবরাহকারী সংস্থার অফিসে তল্লাশি ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়েছে। এ ছাড়া হাইস্কুল ও নার্সারি স্কুলগুলি খোলার সময় পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে খেলাধুলা, পার্টি, আন্তঃরাজ্য যাতায়াতের উপরেও।
রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, আমদানিকৃত স্যামন মাছ কাটার বোর্ডে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে। এ কারণে বড় বড় সুপারমার্কেটের চেইন শপগুলো থেকে স্যামন সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান শহর থেকেই প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ সারা বিশ্বে ছড়িয়েছিল। টানা ৭৮ দিন কঠোর লকডাউনের পর এপ্রিলের মাঝামাঝি উহানকে করোনামুক্ত ঘোষণা করে চিন। তার মাসখানেক পর উহানেই নতুন একটি করোনা ক্লাস্টারের সন্ধান মেলে। সেটাও প্রায় নিয়ন্ত্রণে এসে গিয়েছিল। কিন্তু নতুন এই ক্লাস্টারের সন্ধান মিলেছে খাস রাজধানীতে।
