ঢাকা, শনিবার ০৪, জুলাই ২০২৬ ০:১৯:২৫ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

লিটনকে তো আর ফিরে পাব না দ্রুত বিচার দেখতে চাই : স্মৃতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১১:৪৫ এএম, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ বৃহস্পতিবার

গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের এমপি মনজুরুল ইসলাম লিটন হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনাকারী জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি কাদের খান গ্রেফতার হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে লিটনের স্ত্রী সৈয়দ খুরশিদ জাহান স্মৃতি বলেছেন, ‘আমি তো আর কখনো আমার স্বামীকে ফিরে পাব না। তবে এখন হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনাকারী গ্রেফতার হয়েছে। অন্যদেরও গ্রেফতার করে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হোক।’

গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গাইবান্ধা জেলা পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সেখানেই গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে এমপি লিটনের স্ত্রী তার প্রতিক্রিয়া জানান। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বগুড়ায় কাদের খানকে তার বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর রাতেই তাকে গাইবান্ধায় নিয়ে আসা হয়। লিটন হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন ও তিন হত্যাকারীকে গ্রেফতার করায় প্রধানমন্ত্রী, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান সৈয়দ খুরশিদ জাহান স্মৃতি।

তিনি আরো বলেন, ‘এমপি লিটনকে হত্যার পর পুরো সুন্দরগঞ্জবাসীর অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। এ ক্ষতি আর কখনো পূরণ হওয়ার নয়। তবে হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক, এখন এই একটাই চাওয়া। এরপর তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।’

এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত লিটনের বোন ফাহমিদা কাকলী বুলবুল বলেন, ‘এত দিন পর আমার ভাইয়ের হত্যাকারীদের শনাক্ত করেছে পুলিশ। এজন্য পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও মিডিয়াকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। হত্যার ঘটনার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যেভাবে কাজ করে হত্যাকারীদের শনাক্ত ও তাদের গ্রেফতার করেছে, সে ব্যাপারে আমরা সন্তুষ্ট। খুনিদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাই।’ লিটনের অপর বোন আফরোজা বারীও হত্যাকারীদের দ্রুত সর্বোচ্চ সাজার দাবি করেন।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মনজু বলেন, ‘এমপির খুনিদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করায় দলীয় নেতাকর্মীরা সন্তুষ্ট। তবে তাদের দ্রুত বিচারের আওতায় নিয়ে শাস্তি চাই।’

জেলা কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের আহ্বায়ক এম আবদুস সালাম বলেন, ‘এ জঘন্যতম হত্যাকান্ডের বিষয়ে পুলিশ যে ভূমিকা পালন করেছে এবং রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামিদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে তা পুলিশের একটি অন্যতম সাফল্য। দ্রুত বিচারকাজ শুরু করে খুনিদের শাস্তির দাবি জানাই।’

গত ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সুন্দরগঞ্জের সর্বানন্দ ইউনিয়নের শাহবাজ (মাস্টারপাড়া) গ্রামের নিজ বাড়িতে এমপি লিটনকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। লিটন হত্যাকা-ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে সুন্দরগঞ্জ উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে জামায়াত-শিবির, বিএনপির নেতাকর্মীসহ অন্যদের মধ্য থেকে অন্তত ১২৮ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আটকদের মধ্যে থেকে ২৩ জনকে হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এর মধ্যে সুন্দরগঞ্জের সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আহসান হাবীব মাসুদ, জামায়াতের অর্থের জোগানদাতা হাজী ফরিদ উদ্দিন, শিবির ক্যাডার আশরাফুল ইসলাম, জহিরুল ইসলামসহ ১৪ জনকে রিমান্ডে নিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।