ভারতে ২৪ ঘন্টায় আরো ৬১ হাজার করোনায় আক্রান্ত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১২:৫৭ পিএম, ১২ আগস্ট ২০২০ বুধবার
ছবি: ইন্টারনেট
ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে এই বৃদ্ধি সাংঘাতিক হারে বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬০,৯৬৩ জন। মৃত্যু হয়েছে ৮৩৪ জনের।
দেশটির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের বুলেটিন অনুসারে ১২ অগস্ট বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২৩,২৯,৬৩৮। কোভিড-১৯ সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ৪৬,০৯১ জনের। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ১৬,৩৯,৫৯৯ জন। ভারতে এখন অ্যাকটিভ কেস ৬,৪৩,৯৪৮। ২৪ ঘন্টায় সুস্থ হয়েছেন ৫৬,১১০ জন। ভারতে এখন সুস্থতার হার ৭০.৩৮ শতাংশ। আর মৃত্যুহার ১.৯৯ শতাংশ।
ভারতের কোভিড পরিসংখ্যানে শীর্ষে রয়েছে মহারাষ্ট্র। এখানে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৫,২৪,৫১৩। সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ১৮,০৫০। সুস্থ হয়েছেন ৩,৫৮,৪২১ জন। মহারাষ্ট্রে এখন অ্যাকটিভ কেসের সংখ্যা ১,৪৮,০৪২।
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে তামিলনাড়ু। এখানে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩,০২,৮১৫। মৃত্যু হয়েছে ৫০৪১। সংক্রমণ সারিয়ে সুস্থ হয়েছেন ২,৪৪,৬৭৫ জন। তামিলনাড়ুতে অ্যাকটিভ কেস ৫৩,০৯৯।
তৃতীয় স্থানে রয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশ। এখানে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২,৩৫,৫২৫। সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ২১১৬ জনের। সুস্থ হয়েছেন ১,৪৫,৬৩৬। অন্ধ্রপ্রদেশে অ্যাকটিভ কেস ৮৭,৭৭৩।
চতুর্থ স্থানে রয়েছে কর্নাটক। এখানে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১,৮২,৩৫৪। মৃত্যু হয়েছে ৩৩১২ জনের। সংক্রমণ সারিয়ে সুস্থ হয়েছেন ৯৯,১২৬ জন। কর্নাটকে অ্যাকটিভ কেস ৭৯,৯১৬।
পঞ্চম স্থানে রয়েছে দিল্লি। রাজধানী শহরে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১,৪৬,১৩৪। সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ৪১৩১ জনের। সুস্থ হয়েছেন ১,৩১,৬৫৭ জন। দিল্লিতে অ্যাকটিভ কেস ১০,৩৪৬।
এদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু জানিয়েছে, গত সাতদিন ধরে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ব্রাজিল ও আমেরিকাকে ছাড়িয়ে শীর্ষস্থানে রয়েছে ভারত। শুধু তাই নয়, হু জানিয়েছে ৪ অগস্ট থেকে ১০ অগস্ট, এই সাতদিন বিশ্বের মোট আক্রান্তের ২৩ শতাংশের বেশি ও মোট মৃত্যুর ১৫ শতাংশের বেশি ভারতে দেখা গিয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে মোট আক্রান্তের সংখ্যা তৃতীয় স্থানে থাকা ভারতে ৪ থেকে ১০ অগস্টের মধ্যে ৪ লাখ ১১ হাজার ৩৭৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে ৬২৫১ জন মারা গিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যায় শীর্ষে থাকা আমেরিকায় মোট ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৫৭৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ৭২৩২ জনের। এই সাতদিনে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্রাজিলে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৪ হাজার ৫৩৫ জন। মৃত্যু হয়েছে ৬৯১৪ জনের।
হু-র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতে গত ৪ অগস্ট আক্রান্ত হয়েছিলেন ৫২ হাজার ৫০ জন। সেদিন আমেরিকায় আক্রান্ত হন ৪৭ হাজার ১৮৩ জন। ব্রাজিলে আক্রান্ত হন ২৫ হাজার ৮০০ জন। ৫ অগস্ট ভারতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৫২ হাজার ৫০৯ জন। সেদিন আমেরিকায় আক্রান্ত হন ৪৯ হাজার ১৫১ জন। ব্রাজিলে আক্রান্ত হন ১৬ হাজার ৬৪১ জন। ভারতে ৬ অগস্ট আক্রান্ত হয়েছিলেন ৫৬ হাজার ২৮২ জন। সেদিন আমেরিকায় আক্রান্ত হন ৪৯ হাজার ৬২৯ জন। ব্রাজিলে আক্রান্ত হন ৫১ হাজার ৬০৩ জন। ৭ অগস্ট ভারতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৬২ হাজার ৫৩৮ জন। সেদিন আমেরিকায় আক্রান্ত হন ৫৩ হাজার ৩৭৩ জন। ব্রাজিলে আক্রান্ত হন ৫৭ হাজার ১৫২ জন। ভারতে ৮ অগস্ট আক্রান্ত হয়েছিলেন ৬১ হাজার ৫৩৭ জন। সেদিন আমেরিকায় আক্রান্ত হন ৫৫ হাজার ৩১৮ জন। ব্রাজিলে আক্রান্ত হন ৫৩ হাজার ১৩৯ জন। ৯ অগস্ট ভারতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৬৪ হাজার ৩৯৯ জন। সেদিন আমেরিকায় আক্রান্ত হন ৬১ হাজার ২৮ জন। ব্রাজিলে আক্রান্ত হন ৫০ হাজার ২৩০ জন। ভারতে ১০ অগস্ট আক্রান্ত হয়েছিলেন ৬২ হাজার ৬৪ জন। সেদিন আমেরিকায় আক্রান্ত হন ৫৩ হাজার ৮৯৩ জন। ব্রাজিলে আক্রান্ত হন ৪৯ হাজার ৯৭০ জন।
অবশ্য সেইসঙ্গে ভারতে সুস্থ হয়ে ওঠার সংখ্যাও বাড়ছে। এই মুহূর্তে দেশে ১৫ লাখ ৮৩ হাজারের বেশি মানুষ সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এই হার প্রায় ৭০ শতাংশ। আরও একটা ভাল খবর হল মৃত্যুহার কমা। এই হার কমতে কমতে ২ শতাংশের নীচে নেমে গিয়েছে। মঙ্গলবারের বুলেটিন অনুযায়ী ভারতে মৃত্যুহার ১.৯৯ শতাংশ।
ভারতে প্রতি ১০ লাখ জনসংখ্যায় নমুনা পরীক্ষার হার অবশ্য আমেরিকা ও ব্রাজিলের থেকে কম। ভারতে প্রতি ১০ লাখে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৮ হাজার ৩০০ জনের। আমেরিকায় প্রতি ১০ লাখে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১ লাখ ৯৯ হাজার ৮০৩ জনের। ব্রাজিলে এই সংখ্যাটা ৬২ হাজার ২০০।
-জেডসি
