ছাত্রী ধর্ষণ ও নির্যাতনের প্রতিবাদে উত্তাল বগুড়া
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৭:৩৮ এএম, ৩১ জুলাই ২০১৭ সোমবার
ছাত্রী ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনায় প্রতিবাদে, ক্ষোভে ফেটে পড়েছে বগুড়ার মানুষ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শ্রমিক লীগ নেতা, নারী কাউন্সিলর এবং তাঁদের সহযোগীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে। কিশোরীকে ধর্ষণ ও নির্যাতনের প্রতিবাদে গতকাল বিকেলে বগুড়া শহরের সাতমাথায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদী গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হয়।
স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, স্বেচ্ছাসেবী ও নারীবাদী বিভিন্ন সংগঠনসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন। কবি, প্রাবন্ধিক ও শিক্ষাবিদ বজলুল করিম জমায়েতে বলেন, মেয়েটির ওপর যে নির্যাতন চালানো হয়েছে, এটাকে শুধু মধ্যযুগীয় বর্বরতা বললে ভুল হবে। এটা চরম পৈশাচিকতা ও দানবীয়। দুষ্ট চক্রের দানবীয় শাসন-শোষণ থেকে নারীদের সম্ভ্রম রক্ষায় প্রতিবাদী হতে হবে, সম্মিলিতভাবে প্রতিবাদ জানাতে হবে।
বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক তৌফিক হাসান বলেন, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় থাকা তুফান সরকারের মতো সমাজের অপশক্তি শুদ্ধ সাংস্কৃতিক চর্চার জন্য বাধা। এই তুফানের নেপথ্যের গডফাদারদের গ্রেপ্তার করতে হবে।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ফরিদ বলেন, এই বর্বরতার নায়ক তুফান সরকার এক দিনে গড়ে ওঠেনি। এর আগেও ইয়াবা-ফেনসিডিলসহ একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মুক্তিও পেয়েছে। প্রথম আলো বগুড়া বন্ধুসভা এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদী গণজমায়েতের আয়োজন করে।
এ সময় অন্যান্যদের মাঝে আরও বক্তব্য দেন নাগরিকের জেলা সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, বন্ধুসভার রকিবুল হক খান, মার্জিয়া আকতার প্রমুখ।
এদিকে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে মা-মেয়েকে নির্যাতন ও চুল কেটে দেওয়ার মামলার পলাতক পাঁচ আসামি তুফানের স্ত্রী আশা সরকার, কাউন্সিলর মার্জিয়া আক্তার ওরফে রুমকি, তাঁর মা রুমি বেগম, তুফানের দুই সহযোগী জিতু ও মুন্নাকে গতকাল রোববার ঢাকার সাভার ও পাবনা শহর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল সন্ধ্যায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তুফানের স্ত্রীর বড় বোন কাউন্সিলর মার্জিয়া ও তাঁর মাকে পাবনা মেডিকেল কলেজের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করে।
১৭ জুলাই বাড়ি থেকে ক্যাডার দিয়ে তুলে নিয়ে গিয়ে এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন বগুড়া শহর শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক তুফান সরকার। ঘটনা ধামাচাপা দিতে দলীয় ক্যাডার এবং এক নারী কাউন্সিলরকে ধর্ষণের শিকার মেয়েটির পেছনে লেলিয়ে দেন। গত শুক্রবার বিকেলে তাঁরা ওই কিশোরী ও তাঁর মাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে চার ঘণ্টা ধরে নির্যাতন চালান। এরপর দুজনেরই মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয়।
