ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০২, জুলাই ২০২৬ ২:৫৬:৫৯ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

ব্রেন্টনের যাবজ্জীবন সাজাকে স্বাগত জানালেন জাসিন্দা আর্ডান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:৪৪ পিএম, ২৭ আগস্ট ২০২০ বৃহস্পতিবার

ছবি: ইন্টারনেট

ছবি: ইন্টারনেট

ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে জুমার সময় এলোপাতাড়ি গুলি করে ৫১ মুসল্লিকে হত্যার ঘটনায় সাদা শ্রেষ্ঠত্ববাদী ব্রেন্টন ট্যারেন্টকে যাবজ্জীবন সাজার রায়কে স্বাগত জানিয়ে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন বলেন, তার আজীবন সম্পূর্ণ ও একদম নীরবতা প্রাপ্য।

আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সাদা শ্রেষ্ঠত্ববাদী ব্রেন্টন ট্যারেন্টকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের আদালত। সাজার রায়ে এই ঘৃণ্য অপরাধীর জন্য কোনো প্যারোলের সুযোগ রাখা হয়নি। দেশটিতে এই প্রথমবারের মতো কোনো অপরাধীকে এমন শাস্তি দেয়া হয়েছে।

এ হামলার ঘটনায় তিনি যেভাবে সাড়া দিয়েছেন, তা বিশ্বব্যাপী ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। জাসিন্ডা বলেন, ১৫ মার্চের যন্ত্রণা সহজেই নিরাময়যোগ্য না। কিন্তু আজ, আমার প্রত্যাশা; এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা সন্ত্রাসীদের নাম উচ্চারণ কিংবা শোনার কোনো অজুহাত আমাদের থাকার দরকার নেই।

সাজা ঘোষণার সময় ক্রাইস্টচার্চের হাইকোর্টের বিচারক ক্যামেরন ম্যান্ডের বলেন, সসীম মেয়াদে সাজা তার জন্য যথেষ্ট নয়। তার অপরাধ এতটাই বিদ্বেষপূর্ণ যে, তাকে যদি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আটকে রাখা হয়, তবে তার অভিশাপ ও সাজা যথেষ্ট হবে না। তিনি বলেন, যতদূর পর্যন্ত আমি উপলব্ধি করতে পারি, ভুক্তভোগীদের প্রতি তার কোনো সহানুভূতি ছিল না।

ট্যারেন্টকে রায়ের শুনানির জন্য সোমবার আদালতে হাজির করা হয়েছিল। কয়েক দিনের শুনানির পর ভুক্তভোগীদের পরিবার সদস্যদের উপস্থিতিতে তার সাজার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। রবিবার রায়ের শুনানির জন্য তাকে ক্রাইস্টচার্চে নিয়ে আসা হয়েছে।

টেলিভিশনের ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, এদিন বিকালে স্থানীয় বিমানবন্দরে বিমানবাহিনীর একটি বিমান থেকে তাকে নামানো হয়। এ সময় তার শরীরে সুরক্ষা পোশাক ও মাথায় হেলমেট ছিল। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা তাকে ঘিরে রেখেছিল। এর পর একটি সাদা ভ্যানের পেছনে চড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এই উগ্রপন্থীকে। ৫১ মুসল্লিকে হত্যা, ৪১ জনকে হত্যাচেষ্টা ও একটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগের দোষ স্বীকার করেছে এই অস্ট্রেলীয় সন্ত্রাসী।

নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডের খবরে জানা গেছে, অকল্যান্ডের পারেমোরেমোতে অবস্থিত কারাগার থেকে ঘটনাস্থল ক্রাইস্টচার্চে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাকে। আদালতের শুনানিতে হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া লোকজন ও নিহতদের পরিবারের সদস্যরা তাদের বক্তব্য রাখেন। রায় ঘোষণার আগে ব্রেন্টন ট্যারেন্টকেও জবানবন্দি দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছে।

নিউজিল্যান্ডে হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান আছে। মুক্তির কোনো সম্ভাবনা না রেখেই বিচারকের এমন রায় দেশটিতে একেবারে বিরল।

শরীরচর্চার প্রশিক্ষক ট্যারেন্ট অস্ট্রেলিয়া থেকে নিউজিল্যান্ডে যান ২০১৭ সালে। এর পর অস্ত্র সংগ্রহ করে হত্যার ষড়যন্ত্র করে। ২০১৯ সালের ১৫ মার্চ যার বাস্তবায়ন ঘটে।

-জেডসি