তিন মাসের মধ্যেই মিলতে পারে অক্সফোর্ডের করোনা টিকা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১২:৫৩ পিএম, ৪ অক্টোবর ২০২০ রবিবার
ছবি: ইন্টারনেট
এ বছরের শেষেই হয়ত তৈরি হয়ে যাবে অক্সফোর্ডের করোনা টিকা। সেক্ষেত্রে বড়দিনের ছুটিতেই হয়তো মিলবে সুখবর। অক্সফোর্ডের টিকা নিয়ে কাজ করা বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, নিয়ন্ত্রকেরা ২০২১ সাল শুরুর আগেই এটির অনুমোদন দেবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর রয়টার্সের।
খবরে বলা হয়েছে, তিন মাসের মধ্যে অক্সফোর্ডের টিকার অনুমোদন দিতে পারে ব্রিটেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়। চূড়ান্ত পর্বের ট্রায়ালের রিপোর্ট ও সেফটি ট্রায়ালের ডেটা দেখেই টিকা নিয়ে আসার ব্যাপারে সম্মতি দিতে পারে ইউরোপিয়ান মেডিসিন অ্যাজেন্সি (ইএমএ)।
অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকার চূড়ান্ত পর্বের ট্রায়াল চলছে ব্রিটেনে। অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকায় এক মহিলা স্বেচ্ছাসেবকের অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা সামনে আসার পরে সুরক্ষার জন্য কিছুদিন ট্রায়াল বন্ধ ছিল। তবে অক্সফোর্ড জানিয়েছিল, টিকার ডোজে অসুস্থ হননি ওই মহিলা। যে স্নায়ুর রোগ দেখা গিয়েছিল তার শরীরে সেটা অন্য কোনো কারণে হয়ে থাকতে পারে। টিকার নিরাপত্তা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েই ফের ট্রায়াল শুরুর অনুমতি দেয় ভ্যাকসিন রেগুলেটরি কমিটি।
অক্সফোর্ডের ভাইরোলজিস্টরা বলছেন, টিকার ট্রায়ালের রিপোর্ট খতিয়ে দেখে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে ব্রিটেন সরকার। শিশুরা ছাড়া প্রাপ্তবয়স্কদের ট্রায়াল শেষ হয়ে যাবে তিন মাসের মধ্যেই। সব ঠিক থাকলে একুশ সালের আগেই করোনার টিকা চলে আসতে পারে ব্রিটেনে।
করোনা সংক্রমণ যেভাবে বেড়ে চলেছে তাতে জরুরি ভিত্তিতে টিকার আনার কথা ঘোষণা করেছে কয়েকটি দেশ। তৃতীয় পর্বের ট্রায়াল চলার মাঝেই টিকার প্রয়োগ শুরু করে দিয়েছে রাশিয়া।
অন্যদিকে, জরুরি ভিত্তিতে টিকার আনার কথা ঘোষণা করেছে চীনও। ব্রিটেনের বরিস জনসনের সরকার জানিয়েছিল, ভ্যাকসিনের নীতিতে কিছু জরুরি বদল করা হতে পারে। সাধারণত তিন স্তরের ট্রায়াল ও সেফটি ট্রায়ালের ফল দেখেই টিকাতে সিলমোহর দেয় ভ্যাকসিন রেগুলেটরি কমিটি। কতজনের উপরে ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ হয়েছে, তার প্রভাব কেমন, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে কিনা বা সাইড এফেক্টস হলেও তা কতদিন স্থায়ী হচ্ছে, কী পরিমাণে অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে ইত্যাদি নানা দিক খতিয়ে দেখেই টিকার লাইসেন্স দেওয়া হয়।
অক্সফোর্ড জানিয়েছিল, তাদের টিকার ট্রায়াল শেষের দিকেই। তাই সেফটি ডেটা দেখেই টিকার আনার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। ইউরোপিয়ান মেডিসিন অ্যাজেন্সি জানিয়েছে, অক্সফোর্ড ও অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকা যতজন স্বেচ্ছাসেবকের শরীরে দেওয়া হয়েছে তাদের শারীরিক অবস্থা, রক্তে অ্যান্টিবডির পরিমাণ ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হচ্ছে।
জেন্নার ইউনিভার্সিটির গবেষকদের সাহায্যে ডিএনএ (ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড) টেকনোলজি ব্যবহার করে ভেক্টর ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট ডিজাইন করেছে অক্সফোর্ডের ভাইরোলজিস্ট সারা গিলবার্টের টিম। ভ্যাকসিন গবেষণায় রয়েছেন অক্সফোর্ডের ভাইরোলজিস্ট সারা গিলবার্ট, অধ্যাপক অ্যান্ড্রু পোলার্ড, টেরেসা লাম্বে, ডক্টর স্যান্ডি ডগলাস ও অধ্যাপক অ্যাড্রিয়ান হিল।
পরে অক্সফোর্ডের সঙ্গে এই ভ্যাকসিন গবেষণায় যুক্ত হয় ব্রিটিশ-সুইডিশ ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি অ্যাস্ট্রজেনেকা। অক্সফোর্ড টিকার প্রথম দুই পর্বের ট্রায়াল রিপোর্ট সামনে এনে ল্যানসেট মেডিক্যাল জার্নাল বলেছিল, ভ্যাকসিন মানুষের শরীরে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত ও নিরাপদ। ভ্যাকসিনের একটা ডোজেই শরীরে টি-কোষ সক্রিয় হয়েছে। ভ্যাকসিন যাদের দেওয়া হয়েছে তাদের ৯০ শতাংশের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। ১০৭৭ জন স্বেচ্ছাসেবককে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছিল। প্রায় প্রত্যেকের শরীরেই টি-কোষ সক্রিয় হয়েছে। পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেড়েছে। প্রথম পর্যায়ের ট্রায়ালের রিপোর্ট দেখে ইতিমধ্যেই দশ কোটি ভ্যাকসিনের অর্ডার দিয়ে দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।
-জেডসি
