ক্রেতার ঢল শুক্রবারের ঈদবাজারে
প্রকাশিত : ১১:৩৮ এএম, ১৮ জুলাই ২০১৪ শুক্রবার | আপডেট: ১২:১৮ পিএম, ১৮ জুলাই ২০১৪ শুক্রবার
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম, ঢাকা :
ঈদের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে রাজধানী ঢাকায়। গতকাল রোজার তৃতীয় শুক্রবার রাজধানীর মাকের্টগুলোতে ক্রেতার ঢল নেমেছিলো। বিশ রোজা শেষে প্রায় সকলের হাতেই ঈদ বোনাস ও বেতন চলে এসেছে। ফলে ক্রেতার উপচে ভরা ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠেছে রাজধানীর মার্কেটগুলো। ছুটির দিন থাকায় প্রতিটি মার্কেটে নানা বয়সী নানা পেশার মানুষের উপচেপড়া ভিড় ছিল। সারাদিনই ত্রেতা ঠাসা ছিল প্রতিটি দোকানগুলো। সকলেই সেরে নিচ্ছেন প্রয়োজনীয় কেনাকাটা। কাল মার্কেটে আসা প্রায় সবার হাতেই শপিং ব্যাগ ঝুলতে দেখা গেছে। হাতে টাকা চলে এসেছে তাই আর ঘুরছেন না কেউ। কিনছেন প্রয়োজনীয় শাড়ি, পোশাক অথবা গিফট আইটেমটি।
গতকাল রাজধানীর বেশ কিছু মার্কেট, বিপনী বিতান, বুটিক শপ ও শপিং মল ঘুরে দেখা গেছে ঈদের কেনাকাটা চলছে হরদম। নতুন ডিজাইনের ও হাল ফ্যাশানের শাড়ি, জামা, পাঞ্জাবি, জুতা, গহনা বা ঘরের প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে আসছেন ক্রেতা। তবে দোকানীরা বলছেন, নগরীর বিলাসবহুল মার্কেটগুলোয় সবচেয়ে বেশি ভিড় ছিলো সন্ধ্যা থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত। ব্যবসায়িরা বলছেন, এখন যারা মার্কেটে আসছে তারা কিনছেন। এখন আর কারো ঘুরে ঘুরে দেখার সময় নেই।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে মিরপুর রোডে অবস্থিত শপিংমলগুলো ভিড় ছিল প্রচন্ড। বিশেষ করে, মেট্রো শপিং মল, রাপা প্লাজা, এ আর প্লাজা, সানরাইজ প্লাজা, এ আর এ সেন্টার, ক্রিসেন্ট মার্কেট, অর্কিড প্লাজা, সীমান্ত স্কয়ার এসব শপিং মলে সব ধরনের দোকান থাকায় ক্রেতারা ঘুরে-ফিরে তাদের পছন্দের পোশাক কিনতে পারছেন অনায়াসে। এসব মলগুলোতে নির্দিষ্ট মূল্য হওয়ায় ক্রেতা আসছেন দেখছেন এবং কিনছেন। তাই এখানে দর কষাকষির কোন সুযোগ নেই। সুযোগ নেই সময় নষ্ট হওয়ারও।
গতকাল বসুন্ধরা সিটি কমপ্লেক্সে ঈদ কেনাকাটায় ধুম লেগেছিল। ক্রেতাদের মধ্যে নারী ক্রেতাই ছিলো সবচেয়ে বেশি। তারা ঘুরে ঘুরে কিনেছেন পছন্দমাফিক শাড়ি, লেহেঙ্গা, সালোয়ার কামিজ ইত্যাদি।
রাজধানীর গাউছিয়া, চাঁদনিচক, ধানমন্ডি হকার্স, নিউ মার্কেটে গতকাল যেন ক্রেতার মিছিল নেমেছিলো। দর্জির দোকানগুলোতে সবচেয়ে বেশি ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। কেউ দর্জির দোকান থেকে তুলে নিচ্ছেন তৈরি করতে দেয়া জামা কেউবা দেখে নিচ্ছেন মাপ। নিউমার্কেট থেকে শেষ সময়ে কেউ কিনছেন পছন্দের শাড়ি। কেউ ঢুকছেন ইমিটিশন জুয়েলারির দোকানগুলোয়। গাউছিয়া ও চাঁদনী চকের পাশের ফুটপাতে মানুষের ভিড়ে পা রাখা দায়। দুপুরের পর থেকে নিউ মার্কেট, গাউছিয়া ও চন্দ্রিমা মার্কেটে ঢল নামে মানুষের।
এলিফ্যান্ট রোডে গতকাল ছিলো বিভিন্ন বয়সী ক্রেতার উপচে পড়া ভিড়। ছেলেদের তৈরি পোশাকের দোকানগুলোতে ভিড় ছিলো অনেক বেশি।
তবে এবছর ক্রেতা-বিক্রেতা দু’পক্ষই বলছেন, ঈদ উপলক্ষে মার্কেটগুলোর চেয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বুটিক হাউজগুলোতে ক্রেতা বেশি। ছুটির দিনে বুটিক হাউজ আড়ংয়ের আসাদ গেট, মগবাজার ও গুলশান শাখায় গতকাল বেচাকেনা চলেছে মধ্য রাত পর্যন্ত। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে গতকাল এসব ফ্যাশন হাউজে মেয়েদের সালোয়ার-কামিজ বিক্রি হয়েছে বেশি।
ধানমন্ডি মিরপুর রোডের বুটিক হাউজ রঙ, বাংলারমেলা, নারী মেলা, অঞ্জনস, নগর দোলা, আবর্তন, অন্য মেলা, ওজিসহ এধরণের ফ্যাশন হাউজগুলোয় গতকাল বেশ ভিড় ছিলো। কেউ কিনছেন পোশাক আবার কেউ কিনছেন দেশীয় ডিজাইনের শাড়ি কেউবা কিনছেন গিফট আইটেম।
গুলশানেও দেখা গেছে একই অবস্থা। সরবর, অরণ্য, নাবিলা, যাত্রা, কুমুদিনী, আর্টিষ্টি, চন্দন, মায়াসির, রীনা লতিফস বুটিকসহ অধিকাংশ বুটিক হাউজে বিক্রি বেশ ভালো চলছে। এসব ফ্যাশন হাউজে গতকাল বেশি বিক্রি হয়েছে মেয়েদের শাড়ি।
১৮.০৭.২০১৪ 