ডোনাল্ড ট্রাম্প পরাজয় স্বীকার না করলে কী হতে পারে?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১২:৩৩ পিএম, ৮ নভেম্বর ২০২০ রবিবার
ছবি: ইন্টারনেট
ব্যাটলগ্রাউন্ড রাজ্য পেনসিলভেইনিয়ায় জয়ের মধ্য দিয়ে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন।
সিএনএন-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, জো বাইডেনের প্রাপ্ত ইলেকটোরাল ভোটের সংখ্যা ২৭৩। অপরদিকে বিবিসির পূর্বাভাসও একই কথা বলছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৭৩টি ইলেকটোরাল ভোট পেয়েছেন জো বাইডেন । আসছে জানুয়ারিতে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন, তবে সেটি নির্ভর করবে আইনগত চ্যালেঞ্জের ফলাফলের ওপর।
কিন্তু মার্কিন সংবাদ মাধ্যমগুলোর খবর, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, তিনি পরাজয় স্বীকার করবেন না, এবং ভোটযুদ্ধের অনেক কিছুই এখনো বাকি আছে”।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের আইন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ট্রাম্প যদি নির্বাচনে পরাজিত হন এবং সেই ফলাফল নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে, তাহলে তিনি পরাজয় স্বীকার করলেন কি করলেন না সেটাতে কিছুই যায় আসে না।
ইলিনয় স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতির অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০২১ সালের ২০ জানুয়ারি দুপুর ১২টার দিকে। এর পর তিনি আর প্রেসিডেন্ট থাকবেন না, যদি না তিনি দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য নির্বাচনে জয়লাভ করেন। আগামী ২০ জানুয়ারি ট্রাম্পের বর্তমান ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হবে এবং সেসময় বর্তমান নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী শপথ নেবেন এবং শপথ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনিই প্রেসিডেন্ট হবেন।
ট্রাম্প হারলে তাকে কি হোয়াইট হাউস থেকে বের করে দেয়া হবে- এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্প ভোটের ফলাফলে হেরে গেলেও হয়তো ক্ষমতা ধরে থাকার জন্য নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ এনে আইনি লড়াই চালানোর চেষ্টা করতে পারেন, তবে ওইসব মামলায় কোন কাজ হবে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্প যাই করুন, আসছে ২০ জানুয়ারি নতুন প্রেসিডেন্ট শপথ নিলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এবং বিচার বিভাগসহ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ নতুন প্রেসিডেন্টের হাতেই চলে আসবে।
তার (ট্রাম) হাতে কি ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার কোন পথই নেই- এ বিষয়ে বিশ্লেষকরা বলেন, কিছু জটিল আইনি ফাঁকফোকর দিয়ে এখনও একটা সংকট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলছেন, এখন পপুলার ভোটগুলো গোনা হচ্ছে। এটা যখন শেষ হবে তখন তা দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে সার্টিফাই করতে হবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটা করে থাকেন অঙ্গরাজ্যগুলোর গভর্নর বা সেক্রেটারি অব স্টেট। এর পর ১৪ ডিসেম্বর পপুলার ভোটের ভিত্তিতে রাজ্যগুলোর ইলেকটোরাল কলেজের সদস্যরা সমবেত হয়ে তাদের ভোটগুলো দেবেন।
সাধারণত একেকটি রাজ্যে পপুলার ভোটে যে প্রার্থী বিজয়ী হন তিনিই ওই রাজ্যের সবগুলো ইলেকটোরাল ভোট পেয়ে যান। সেকারণেই পপুলার ভোটের ফল জানার সঙ্গে সঙ্গেই সবাই ধরে নেন যে ইলেকটোরাল ভোটের ফল কী হবে।
যদি এমন কিছু ঘটতে পারে যাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্বাচনে হেরে গিয়েও ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকতে পারেন? এবিষয়ে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলছেন, এ ক্ষেত্রে আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে দুদিকে সমস্যা হতে পারে। হতে পারে যে ভোটগণনায় যে ফল পাওয়া গেল – তা অঙ্গরাজ্যের কর্তৃপক্ষ সার্টিফাই করলেন না। তবে এর সম্ভাবনা কম, এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে রাজ্যগুলোর ফল নিয়ে আপত্তি করছেন – সেগুলোও হয়তো অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ সার্টিফাই করবেন।
দ্বিতীয় সমস্যাটি হতে পারে ইলেকটোরাল কলেজ নিয়ে। তিনি বলেন, ইলেকটোরাল কলেজের সদস্য নির্ধারণ করার দায়িত্ব হচ্ছে অঙ্গরাজ্যগুলোর আইনসভার। আইনসভাগুলো চাইলে জো বাইডেনের সমর্থক প্রতিনিধিদের বাদ দিয়ে নিজেদের পছন্দমত ইলেকটোরাল কলেজের প্রতিনিধিদের ফেডারেল কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতে পারেন। সেক্ষেত্রে ইলেকটোরাল ভোটের দুটো স্লেট হতে পারে একটা হচ্ছে যা আসলেই পপুলার ভোটের রায় প্রতিফলিত করবে – আরেকটি রাজ্যের আইনসভাগুলোর আলাদা করে পাঠানো রায়।
তারা যে ভোট দেবেন তা আবার গোনা হবে জানুয়ারির ৬ তারিখ কংগ্রেসে। কংগ্রেসের সেই বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন ট্রাম্পের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। তিনি যদি ইলেকটোরাল কলেজের ভোটগুলোর দুটি স্লেটের একটা রেখে অন্যটা ফেলে দেন বা দুটোর কোনটাই গ্রহণ না করেন – তাহলে একটা সাংবিধানিক সংকট দেখা দিতে পারে। সেই সংকটটা হলো – ভাইস প্রেসিডেন্ট দুটো স্লেটই প্রত্যাখ্যান করলে কোনও প্রার্থীরই ২৭০টি ইলেকটোরাল ভোট হবে না। সেক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট কে হবেন তা নির্ধারণ করবে কংগ্রেস।
“সেক্ষেত্রে প্রতিটা অঙ্গরাজ্য একটা করে ভোট পাবে। কিন্তু বর্তমানে ২৩টি অঙ্গরাজ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে ডেমোক্র্যাটদের, ২৬টিতে রিপাবলিকানদের। এভাবে ভোট হলে ২৬টি ভোট পেয়ে যাবেন ট্রাম্প, এবং তিনিই প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হতে পারেন। এটা হবে এক বিপজ্জনক পরিস্থিতি। তবে হাউজের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি হয়তো এ প্রক্রিয়া বিলম্বিত করতে বা থামিয়ে দিতে পারেন, তাহলে এক পর্যায়ে হয়তো তার হাতে দায়িত্ব এসে পড়তে পারে।” সূত্র: বিবিসি বাংলা।
-জেডসি
