'আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মধ্যে কয়েক হাজার প্রসূতি রয়েছেন'
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪.কম
প্রকাশিত : ১১:৫৬ পিএম, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭ মঙ্গলবার | আপডেট: ০৫:৫৭ পিএম, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭ শুক্রবার
বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির মধ্যে কয়েক হাজার প্রসূতি রয়েছেন। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রনালয়। পাশাপাশি অন্য রোহিঙ্গা আশ্রিতদেরও স্বাস্থ্যসেবায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সোমবার সচিবালয়ের নিজ দপ্তরে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত অ্যান সিওং দো’র সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান।
দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত স্বাস্থ্য মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করেন। মোহাম্মদ নাসিম এসময় মায়ানমারে রোহিঙ্গাদের উপর চলমান গণহত্যা বন্ধের লক্ষ্যে মায়ানমার সরকারের উপর চাপ সৃস্টিতে বিশ্বজনমত গড়তে দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তা কামনা করেন।
একই সময় স্বাস্থ্য মন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে রোহিঙ্গা আশ্রিত এলাকায় মেডিকেল টিম পাঠানো হয়েছে। টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলা হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ৫০ থেকে ১০০তে উন্নীত করার কাজ শুরু হয়েছে। ওই অঞ্চলের ৩০টি কমিউনিটি ক্লিনিকেরও সংস্কার করা হচ্ছে শরণার্থীদের চাপ সামলাতে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ মানবতার স্বার্থে মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে খাদ্য ও চিকিৎসাসহ অন্যান্য সাহায্য দিচ্ছে। কিন্তু সীমিত সম্পদের দেশে এই লাখ লাখ শরণার্থীকে অব্যাহতভাবে সাহায্য যোগান দেওয়া কঠিন।
আগের শরণার্থীর সাথে আরো প্রায় পাঁচ লাখ নতুন রোহিঙ্গা যোগ হয়েছে যাদের মধ্যে নারী, শিশু ও বৃদ্ধের সংখ্যা বেশি।
এসময় দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত বলেন, মায়ানমার সেনারা রোহিঙ্গা বিতারণের নামে ধর্মবর্ণ নির্বেশেষে সাধারণ ও নিরীহ মানুষকে যেভাবে নির্বিচারে মারছে তা মোটেও কাম্য নয়। তারা তাদের নিজেদের জনগণকেই মারছে যার মধ্যে মুসলিম, বৌদ্ধসহ অন্যান্য ধর্মাবলম্বীও আছে। এর ফলে বাংলাদেশের মতো দেশকে শরণার্থীর চাপ বহন করতে হচ্ছে।
এসময় রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানবিক গুণাবলী ও সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রতি বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গী যারা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। সেই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়া শরণার্থীদের সাহায্যর্থে নগদ সহায়তা প্রদান করবে বলেও এসময় তিনি জানান।
রেলওয়ে হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গ চালুর পদক্ষেপ: রাজধানীর কমলাপুরে রেলওয়ে জেনারেল হাসপাতালকে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়ার উপযোগী করতে করণীয় নির্ধারনে সুপারিশ প্রদানের লক্ষ্যে সাত সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।
গতকাল গঠিত ওই কমিটিকে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে সময় বেধে দিয়েছেন। গতকাল এ সংক্রান্ত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই নির্দেশ দেন। সভায় রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আমজাদ হোসেনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
