প্রত্যাশার চাপে জো বাইডেন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০১:৩৩ পিএম, ১০ নভেম্বর ২০২০ মঙ্গলবার
ছবি: ইন্টারনেট
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে ভাবনা শুরু করেছেন। চিহ্নিত করছেন অগ্রাধিকার। ট্রাম্পের আমলে ভেঙেচুরে যাওয়া বৈশ্বিক সম্পর্কগুলো ফের মূল্যায়ন করছেন তিনি। নিজের মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদেরও চলতি সপ্তাহে নির্ধারণ করতে পারেন তিনি। বাইডেন-কমলা হ্যারিস বিজয়ী হওয়ায় বিশ্বজুড়ে একটা স্বস্তির ভাব এসেছে। বিশ্ববাসী আশা করছে, ঝানু রাজনীতিক বাইডেনের হাতে ইতিবাচক বদল আসবে। অন্তত বিশ্বের অকল্যাণ হবে না। তবে চীন থেকে রাশিয়া, ব্রেক্সিট থেকে জলবায়ু, কাশ্মীর থেকে মধ্যপ্রাচ্য-দুনিয়াজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এত সংকটের মোকাবিলা করতে হবে তাকে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এত বিশাল প্রত্যাশার চাপ কি সামলাতে পারবেন বাইডেন? তাদের একটা অংশ মনে করছে, কিছুটা বদল আসবে বিশ্ব ব্যবস্থায়। অপর অংশ মনে করছে, সাধ ও সাধ্যের সমন্বয় করতে গিয়ে চিড়েচ্যাপ্টা হবেন বাইডেন।
আগামী ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেবেন বাইডেন। আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব নেওয়ার পর সবার প্রথমে বাইডেন যে পদক্ষেপগুলো নেবেন ইতোমধ্যেই সে বিষয়ে তিনি তার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন।
বাইডেন শিবির জানিয়েছে, তিনি প্রাণঘাতী করোনা মহামারী মোকাবিলাকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেবেন। করোনা পরীক্ষা অনেক বাড়বে এবং মার্কিন নাগরিকদের মাস্ক পরতে বলা হবে। এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গুরুত্ব সহকারে মানা হবে। ইতোমধ্যে ১২ সদস্যের একটি টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। শীঘ্রই এই দলের সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হবে। এই দলটি করোনা মোকাবিলায় নেতৃত্ব দেবে।
এছাড়া করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে অর্থনীতির যে ক্ষতি হয়েছে তা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে নানা পদক্ষেপের পরিকল্পনা চলছে।
মার্কিন গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেশকিছু বিতর্কিত নির্বাহী আদেশ বাতিল করবেন নতুন প্রেসিডেন্ট। প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে আবারো যোগ দেবে দেশটি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় আবার ফিরবেন তিনি। কিছু মুসলিম প্রধান দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বন্ধ করেছিলেন ট্রাম্প, তা বাতিল করা হবে। ফলে লিবিয়া, ইরান, সোমালিয়া, সিরিয়া, ইয়েমেনের পাশাপাশি উত্তর কোরিয়া এবং ভেনিজুয়েলার নাগরিকরা আবারও যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করতে পারবেন।
পাশাপাশি ওবামার করা শরণার্থী-বিষয়ক নীতিমালা পুনরায় চালু করতে পারেন বাইডেন। এর বাইরেও অর্থনীতি, জাতিগত বিদ্বেষ বন্ধ এবং আবহাওয়া বিষয়েও কাজ করার কথা জানিয়েছেন বাইডেন। তিনি বর্ণ বৈষম্য উচ্ছেদের পাশাপাশি সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জন্য বাসস্থান ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে চান। এছাড়া পুলিশ বাহিনীর জন্যও কিছু পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বাইডেনের কংগ্রেসের সমর্থন প্রয়োজন নেই। প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তেই এই কাজগুলো তিনি করতে পারেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাইডেনের মতো রাজনীতিক কোনো কাজই চটজলদি করবেন না। শপথ গ্রহণের জন্য এখনো দুই মাস সময় আছে হাতে। তার আগে সাংঘাতিক কোনো সিদ্ধান্ত তিনি নেবেন না।
সবার নজর মধ্যপ্রাচ্যে
মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে দলমত নির্বিশেষে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী নীতি রয়েছে। তবে ট্রাম্প একাই পুরো মধ্যপ্রাচ্যের চিত্র পাল্টে দেওয়ার উদ্যোগ নেন। এখন সবার ভাবনা বাইডেনের মধ্যপ্রাচ্য নীতি কী হবে? কী বদল আসবে সেখানে। সেক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যে বাইডেনের পরবর্তী পদক্ষেপগুলোও খুব জটিল।
ভূ-কৌশল বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তিতে ফিরে যাবেন বাইডেন। তবে যেমন, যাই হোক না কেন, সবসময় ইসরায়েলকে সমর্থন দেবেন তিনি। বাইডেন আরব দেশগুলোর মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং তাদের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে পারেন। এদিকে বাইডেনের বিজয়ে চিন্তায় পড়েছে সৌদির শাসকগোষ্ঠী। এমনকি তারা বাইডেনকে অভিনন্দন বার্তা পাঠাতেই ভুলে গেছে।
নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট মনে করেন, দখলকৃত ফিলিস্তিনি জমিতে ইহুদি বসতি স্থাপন ওই অঞ্চলে শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য বড় বাধা।
এ বিষয়ে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ইসরায়েলের সাবেক রাষ্ট্রদূত মাইকেল ওরেন বলেন, ইরানের সঙ্গে বাইডেন পরমাণু চুক্তিতে ফেরা মাত্রই ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
ইসরায়েলের বার-ইলান বিশ^বিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক এইতান গিলবোয়া বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে ফিরলে ইসরায়েলের পাশাপাশি সৌদি আরব, আরব আমিরাতের মতো আরব দেশগুলোর সঙ্গেও উত্তেজনা তৈরি হবে যুক্তরাষ্ট্রের। ইরানের মতোই ফিলিস্তিনের সঙ্গেও সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করবেন জো বাইডেন।
ইয়েমেনে চলা সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন বন্ধ করবেন বাইডেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা নীতিবিষয়ক বিশ্লেষক ড্যানিয়েল প্লেটকা বলেন, ‘বাইডেনের নীতি হবে ইরানঘেঁষা। তিনি সৌদি নীতি থেকে সরে আসবেন।’
লিবিয়া, ইরাক, সিরিয়া এবং আফগানিস্তানে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের তেমন প্রভাব নেই। এ দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের স্থান দখল করেছে তুরস্ক, রাশিয়া ও চীন। বাইডেন সে হারানো প্রভাব ফের হাতে পেতে চান। সব মিলিয়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে এক জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে বাইডেনকে।
তবে অধ্যাপক গিলবোয়া মনে করেন, নানা জটিল হিসাবের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে বাইডেনকে খুব বুঝেশুনে পদক্ষেপ নিতে হবে। সূত্র : এএফপি ও রয়টার্স।
কেমন সঙ্গী হবে চীন
বাইডেনের জয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি চীন। এতে ইঙ্গিত মেলে খুব সহজে আচমকাই দুদেশের উত্তেজনা দূর হবে না। মার্কিন এক শীর্ষ কূটনীতিকের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, চীনা পণ্য আমদানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করার পর সিদ্ধান্ত নেবেন বাইডেন।
চীনের আঞ্চলিক আধিপত্যের মোকাবিলায় বাইডেন প্রশাসন ওই অঞ্চলে এশিয়ায় তাদের জোট পুনর্গঠন বা ভিন্ন উপায়ে কাজ করার চেষ্টা করবে।
-জেডসি
