ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৬, জুলাই ২০২৬ ২৩:২৬:০১ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে শেখ হাসিনার ৬ প্রস্তাব

ডেস্ক প্রতিবেদন

উইমেননিউজ২৪.কম

প্রকাশিত : ০১:৫০ পিএম, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ বুধবার | আপডেট: ০৯:৩৮ পিএম, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ বুধবার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে ছয় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তাব মুসলিম দেশগুলোর নেতাদের সামনে তুলে ধরেছেন । মঙ্গলবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ওআইসি কনট্যাক্ট গ্রুপের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন।

এ সময় তিনি বলেন, ‘গত ২ আগস্ট থেকে ৪ লাখের বেশি মানুষ মিয়ানমার থেকে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। এই শরণার্থীদের ৬০ শতাংশই শিশু। নারী ও শিশুদের ভয়াবহ দুর্ভোগের বিবরণ তাদের মুখ থেকে আমি শুনেছি।

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে শেখ হাসিনার ছয় দফা প্রস্তাব হলো-

রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর সব ধরনের নিপীড়ন এই মুহূর্তে বন্ধ করতে হবে।

নিরপরাধ বেসামরিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য মিয়ানমারের ভেতরে নিরাপদ এলাকা (সেইফ জোন) তৈরি করা যেতে পারে, যেখানে তাদের সুরক্ষা দেওয়া হবে।

বলপ্রয়োগের মাধ্যমে বাস্তুচ্যুত সব রোহিঙ্গা যেন নিরাপদে এবং মর্যাদার সঙ্গে মিয়ানমারে তাদের বাড়িতে ফিরতে পারে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে কফি আনান কমিশনের পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ অবিলম্বে নিঃশর্তভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’হিসেবে চিহ্নিত করার যে রাষ্ট্রীয় প্রপাগান্ডা মিয়ানমার চালাচ্ছে, তা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।

এছাড়াও রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে না ফেরা পর্যন্ত তাদের জরুরি মানবিক সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে হবে ভ্রাতৃপ্রতিম মুসলিম দেশগুলোকে।

রোহিঙ্গা সমস্যা মোকাবিলায় ওআইসিভুক্ত দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা এই “জাতিগত নির্মূল”অভিযানের অবসান দেখতে চাই। এ সংকটের সূচনা হয়েছে মিয়ানমারে এবং সেখানেই এর সমাধান হতে হবে। আমাদের মুসলমান ভাইদের এই দুর্দশার অবসান চাই আমরা।’

ওআইসি কনট্যাক্ট গ্রুপের বৈঠকে বিভিন্ন মুসলিম দেশের নেতাদের উপস্থিতিতে বক্তৃতার শুরুতেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমারে আজ মুসলমান ভাই-বোনেরা জাতিগত নির্মূল অভিযানের মুখোমুখি হয়েছে। রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের চালানো সামরিক অভিযান বিপর্যয়ের সৃষ্টি করেছে।’

এ ঘটনায় এবারই সবচেয়ে বেশি রোহিঙ্গা ব্স্তুচ্যুত হয়ে দেশান্তরী হতে বাধ্য হয়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এ ঘটনা এক অবর্ণনীয় মানবিক বিপর্যয়। আমি নিজে তাদের কাছে গেছি, তাদের মুখ থেকে, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের ভয়াবহ দুর্ভোগের বিবরণ শুনেছি। আমি বলব, আপনারা সবাই আসুন, এই শরণার্থীদের মুখ থেকে শুনে যান, মিয়ানমারে কী রকম নির্মমতা চলছে।’

বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গত ২৪ আগস্ট রাতে ৩০টি পুলিশ পোস্ট ও একটি সেনা ক্যাম্পে হামলার পর দেশটির সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা মুসলমানদের গ্রামে গ্রামে নতুন করে দমন অভিযানে নামে। এরপর কয়েক যুগ ধরে প্রায় ৪ লাখ রোহিঙ্গার ভার বহন করে আসা বাংলাদেশে আরো প্রায় ৪ লাখ শরণার্থী প্রবেশ করেছে। রাখাইনের পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এই সংখ্যা ১০ লাখে ঠেকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।