‘সামুদ্রিক সম্পদকে অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে’
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১২:৫৮ পিএম, ১৫ নভেম্বর ২০২০ রবিবার
ছবি: সংগৃহীত
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না এলে সমুদ্রসীমায় বাংলাদেশের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হতো না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এই সামুদ্রিক সম্পদকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজে লাগতে হবে।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নয়টি জাহাজ ও একটি ঘাঁটি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এই কথা বলেন।রোববার সকালে তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জাহাজের কমিশনিং এবং বিসিজি বেইস ভোলার উদ্বোধন করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এখন যে সমুদ্রসীমা পেয়েছি সেই সমুদ্র সম্পদ অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজে লাগানোর সুযোগ পেয়েছি। বঙ্গোপসাগর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা সাগর। বিশ্বের অনেক ব্যবসা-বাণিজ্য এখান থেকে চলাচল করে। সেদিক থেকে এখানে আমাদের অধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া উপকূলীয় অঞ্চলে যারা বাস করেন তাদের নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উন্নতি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সেদিকে লক্ষ্য রেখে সমুদ্র সম্পদকে আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজে লাগাতে চাই।
উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিরোধীদলে থেকেও বাংলাদেশ কোস্টগার্ড গঠনে আওয়ামী লীগ ভূমিকা রেখেছে বলে জানান শেখ হাসিনা। ১৯৯৪ সালে তৎকালীন বিএনপি ক্ষমতাসীন সরকারের সংসদে বিরোধীদলে থেকেও আইন পাস করে কোস্টগার্ড গঠনের সূচনাতে দলটি ভূমিকা রাখে। পরবর্তীতে ক্ষমতায় এসে কোস্টগার্ডের সক্ষমতা বাড়াতে আওয়ামী লীগ সরকার কাজ করে গেছে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে সরকারপ্রধান বলেন, আমরা ৯৬ সালে সরকারে আসার পর থেকেই কোস্টগার্ডের অবকাঠামোগত উন্নয়নে কাজ করি। ২০০৯ সাল থেকে আমরা আরও ব্যাপকভাবে উন্নয়নে কাজ করি। ২৭টি কোস্টাল ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টারসহ ৫৫টি অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। গত ১২ বছরে কোস্টগার্ডের জন্য বিভিন্ন আকারে ৫৫টি জাহাজ ও জলযান নির্মাণ করা হয়েছে। নিজস্ব প্রশিক্ষণ বেস নির্মাণ করা হয়েছে। আমরা আমাদের কোস্টগার্ডকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে চাই।
নতুন এ ১০টি নৌযান যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে কোস্টগার্ড আরও একধাপ এগিয়ে গেল বলে জানান শেখ হাসিনা। বিভিন্ন জলযান ও যুদ্ধ জাহাজ এখন বাংলাদেশেই তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এ উপলক্ষে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় কোস্ট গার্ড পূর্বাঞ্চলের বেইস স্টেশনে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল এম আশরাফুল হকের কাছে কমিশনিং ফরমান হস্তান্তর করেন। পরে তিনি জাহাজ ও ঘাঁটির ফলক উম্মোচন করেন।
নয়টি জাহাজের মধ্যে চারটি ইতালি থেকে কেনা হয়েছে। বাকি পাঁচটি তৈরী করা হয় নৌবাহিনী পরিচালিত নারায়ণগঞ্জ ও খুলনা শিপইয়ার্ডে ।
ইতালি থেকে কেনা চারটি অফশোর পেট্টোল ভেসেল হলো বিসিজিএস সৈয়দ নজরুল, বিসিজিএস তাজউদ্দিন, বিসিজিএস মনসুর আলী ও বিসিজিএস কামরুজ্জামান।
দেশে তৈরী ভেসেলগুলো হলো বিসিজিএস সবুজ বাংলা, বিসিজিএস শ্যামল বাংলা, বিসিজিএস সোনার বাংলা ও বিসিজিএস অপরাজেয় বাংলা।এছাড়া দুটি ফাস্ট পেট্টোল বোট বিসিজিএস সোনাদিয়া ও বিসিজিএস কুতুবদিয়া আজ এ বাহিনীর বহরে যুক্ত হবে। বাংলাদেশের উপকূলীয় সীমানায় অতন্দ্র প্রহরীর কোস্ট গার্ডের যাত্রা শুরু ১৯৯৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি।
-জেডসি
