শ্রদ্ধা নিবেদনে প্রস্তুত জাতীয় স্মৃতিসৌধ
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০১:০২ পিএম, ১৫ ডিসেম্বর ২০২০ মঙ্গলবার
ছবি: সংগৃহীত
পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিশ্ব মানচিত্রে উদয় হয় বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের। রক্ত রাঙা মাটিতে প্রাকৃতিক সবুজের আভায় জন্ম নেয়া স্বাধীন বাংলাদেশের এই দিনটি একই সঙ্গে যেমন আনন্দের তেমনই বেদনার। তাই শহীদদের স্মরণ করার সঙ্গে সঙ্গে পুরো জাতি মেতে ওঠে বিজয় উৎসবে। প্রতিবছর এই দিনে শহীদদের শ্রদ্ধায় সবাই সমবেত হন সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে।
তবে বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে এ বছর বিজয় দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন না মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। তবে তাদের পক্ষে দুইজন সামরিক সচিব জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণে শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান।
করোনাভাইরাসের কারণে সৌধ এলাকার সার্বিক সামাজিক দূরত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিতেও বাড়তি সচেতনতা রাখা হবে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। এই দিনটিতে সর্বস্তরের মানুষের হৃদয় নিংড়ানো শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় ফুলে ফুলে ভরে যাবে শহীদবেদী। এ কারণে বিজয় উদযাপনে প্রতিবছরের মত এবারো সেজেছে স্মৃতিসৌধ।
পুরো সৌধ প্রাঙ্গণকে ধুয়ে মুছে এরইমধ্যে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। বর্ণিল ফুলের চারা রোপন ও রং তুলির আঁচরে সাজিয়ে তোলা হয়েছে পুরো সৌধ চত্বর। লাল, নীল, হলুদ বাতির ঝলকানিতে রাতের আকাশেও জানান দিচ্ছে বিজয়ের স্বাদ। এছাড়া নিরাপত্তার জন্য সৌধ এলাকায় সিসিটিভি স্থাপনের কাজও সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌধ কর্তৃপক্ষ।
সাভার গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, গত কয়েকদিন ধরেই স্মৃতিসৌধের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়েছে। এ বছর সৌধকে একটু অন্যরকম করে সাজানোর চেস্টা করা হয়েছে। এসব কাজের জন্যে গত ৬ ডিসেম্বর থেকে জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশাধিকার বন্ধ রাখা হয়েছিল। ১৬ ডিসেম্বর সকালে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশি কূটনীতিকদের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনের পর সৌধ এলাকা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএফএম সায়েদ বলেন, অন্যবারের তুলনায় এবার দ্বিগুণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের দু’পাশ ও ব্রিজসহ বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি বসানো হয়েছে বাড়তি চেকপোস্ট। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ বাড়ানো হয়েছে সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা নজরদারি।
ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মারুফ হোসেন সরদার সাংবাদিকদের বলেন, জাতীয় স্মৃতিসৌধে আগত সকলের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার জন্যে প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এছাড়া স্মৃতিসৌধ এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
-জেডসি
