ঢাকা, রবিবার ০৫, জুলাই ২০২৬ ১৮:৫৩:৫০ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা প্রশংসনীয়: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০২:০১ পিএম, ১৭ ডিসেম্বর ২০২০ বৃহস্পতিবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা যেভাবে এগিয়েছে তা প্রশংসনীয় জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশে করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিজয়ের মাসে আপনার সঙ্গে বৈঠক করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। ডিসেম্বরে বাংলাদেশের মানুষ মুক্তি চেতনায় উদ্বেলিত হয়ে ওঠে।

আজ বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) দ্বিপাক্ষিক ভার্চুয়াল বৈঠকে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। আজ বেলা সাড়ে ১১টায় দুই প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল বৈঠক শুরু হয়। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী ও নরেন্দ্র মোদি দিল্লি থেকে এতে যোগ দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকে গণভবন থেকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। অন্যদিকে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নয়াদিল্লী থেকে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব প্রদান করেন।

সরকারপ্রধান বলেন, আজকের দিনটি আমার জন্য একটি বিশেষ দিন। ১৭ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর অধীনে তখনও আমার মা, ছোট বোন রেহানা ও রাসেল, আমি এবং ছোট্ট ৪ মাসের সজীব ওয়াজেদ জয় বন্দী ছিলাম। ভারতের কর্নেল অশোক তখন মেজর ছিলেন। কর্নেল অশোক তারা এসে ১৭ ডিসেম্বর সকালে আমাদেরকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাত থেকে মুক্ত করেন। ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ মুক্ত হয়, কিন্তু আমরা মুক্ত হয়েছিলাম ১৭ ডিসেম্বর। আমি কর্নেল অশোকের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই। এবং ভারতবাসী ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ও ভারতের অর্থনীতিকে আরো সংহত করার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, প্রাপ্ত সুযোগকে কাজে লাগিয়ে উভয় দেশ বৈশ্বিক এবং আঞ্চলিক ভ্যালু-চেইন আরও সমৃদ্ধ করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি বিশ্বাস করি, উভয় দেশ বিদ্যমান সহযোগিতামূলক ঐক্যমতের সুযোগ নিয়ে আমাদের অর্থনীতিকে আরো সংহত করে বৈশ্বিক এবং আঞ্চলিক ভ্যালু-চেইন আরও সমৃদ্ধ করতে পারে।

প্রতিবেশী দেশ দু’টির মধ্যে প্রচলিত যোগাযোগ ব্যবস্থাকে এই বিষয়ে অনুঘটক হিসাবে বর্ণনা করে সরকারপ্রধান বলেন, একটি বড় উদাহরণ হল চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেল যোগাযোগ পুনরায় চালু করা যা আমরা আজ উদ্বোধন করব।

বাংলাদেশ ও ভারতের অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান পারস্পরিক নির্ভরতা আমরা আনন্দের সাথে স্বীকৃতি দেই, উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেশ কিছু সংখ্যক ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশের উৎপাদন ও সেবাখাতে নিযুক্ত রয়েছেন এবং তারা নিজ দেশ ভারতে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে থাকেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশ থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক পর্যটক এবং চিকিৎসা সেবা গ্রহণকারীকে ভারত গ্রহণ করে।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত অতিক্রম করছে, উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে বাংলাদেশ ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এবং ভারত কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠারও ৫০তম বছরে পা রেখেছে।

তিনি এ সম্পর্কে আরও বলেন, আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উৎযাপন করছি। মাত্র কয়েক মাস আগে, আপনাদের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীর সার্ধশততম জন্মবার্ষিকী আমরা উদযাপন শেষ করেছি।

সরকারপ্রধান বলেন, বাংলাদেশে আমরা বাপুজির প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে একটি বিশেষ ডাক টিকিট অবমুক্ত করেছি। আমরা আজ বঙ্গবন্ধুর সম্মানে ভারতের ডাক বিভাগের একটি স্ট্যাম্পের উদ্বোধন করবো।

এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানগুলো যৌথভাবে উদযাপনের জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে একত্রিত হওয়ায় তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়ে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ভারত সরকার এবং জনগণের সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিসেম্বরে বাংলাদেশের মানুষ আনন্দ, মুক্তি এবং উদযাপনের চেতনায় উদ্বেলিত হয়ে উঠে।

তিনি এই মাহেন্দ্রক্ষণে গভীর কৃতজ্ঞতার সাথে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মহান মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহিদ এবং দুই লাখ নির্যাতিত মা-বোনকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর শহিদ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি এবং আন্তরিক সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য ভারত সরকার ও জনগণকে জানাই কৃতজ্ঞতা।

স্বাধীনতার ৫০ বছরপূর্তিতে আগামী বছরের ২৬ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ জানান শেখ হাসিনা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে যোগ দিতে এ বছর বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রীর। কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারির কারণে এই সফর বাতিল করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুই দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়া ভার্চুয়াল বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ১৯৬৫ সালের আগের পুরনো চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেল সংযোগটি ৫৫ বছর পর পুনরায় উদ্বোধন করা হয়।

-জেডসি