ঈদ নেই পথশিশুদের
প্রকাশিত : ১১:৩২ এএম, ২০ জুলাই ২০১৪ রবিবার | আপডেট: ০৪:২৬ পিএম, ২০ জুলাই ২০১৪ রবিবার
মাজেদুল হক তানভীর, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম, সৈয়দপুর (নীলফামারী) থেকে : সামনে আসন্ন ঈদ। ঈদ মানে খুশি আর আনন্দ। ঈদের খুশি এখন থেকেই সকলের মনকে আন্দোলিত করছে। ঈদকে সামনে রেখে চলছে নানা আয়োজন। আর তাই ঈদকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। বড় বড় শপিং মল থেকে শুরু করে ফুটপাতের দোকান পর্যন্ত সর্বত্র এখন ক্রেতায় মুখরিত। অনেক উচ্চবিত্তরা শপিং এর জন্য দেশের বাইরে চলে যায়। ঈদের এ সময়টিতে চারিদিকে কেনাকাটার ধুম পড়ে যায়। কিন্তু সমাজের কিছু হত দরিদ্র শিশু রয়েছে , যাদের কাছে দু’বেলা খাবার মানেই অনেক কিছু। তাদের পক্ষে ঈদের কেনাকাটা দূরের কথা মাথা গোঁজার ঠাইটুকুও অনেক এর নেই।
কারো বাবা-মা থেকেও নেই। আবার কেউ কেউ জানেই না কে বা কারা তাদের বাবা-মা। ঠিকানা নেই, পথই ওদের ঠিকানা। দিনভর পথে পথে ঘুরে বেড়ায়, রাতেও পথেই ঘুমায়। পথে এটা-ওটা কুড়িয়েই জীবন চলে ওদের। ওরা পথশিশু। কেউ কেউ ‘টোকাই’ বলে ডাকে। ওদের ঈদ নেই। নেই ঈদের নতুন জামা-কাপড়, নেই কোনো আনন্দ। অন্যান্য দিনও যেমন ঈদের দিনও তেমনই ওদের কাছে। কোনো পার্থক্য নেই, নেই কোনো বাড়তি আয়োজন। দেশের প্রায় সব পথশিশুরই একই ভাগ্য। কথা হল কয়েকজন পথশিশুর সাথে। তাদের অনেকে পড়ালেখা কী জানে না। নেশা করার কথা স্বীকার করল ওরা। বলল ‘ডাণ্ডি খাই’। ডাণ্ডি কী জানতে চাইলে বলল ‘জুতার গাম’ । রুবেল নামে এক পথশিশু বলে, নেশা করি বলে অনেকে মারে। খারাপ বলে। এদের বেশিরভাগই ঈদ কবে তাই জানে না । ওরা জানাল ঈদে বাড়তি কোনো আনন্দ নেই। ঈদের দিনেও ওদের পথে কাগজ কুড়াতে হবে। তা না হলে খাবার জুটবে না। এখানে যেসব পথশিশু রয়েছে তাদেরও কোনো ঠিকানা নেই। নেই বাবা-মায়ের পরিচয়।
নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর থানায় রেল স্টেশনের ফুটপাতে থাকা এক শিশু রুবেল। বয়স হবে ছয়-সাত বছর। কিভাবে এখানে এসেছে সে জানে না। তবে এখন এখানেই তার ঠিকানা। ঈদের দিন নতুন জামা পরতে ইচ্ছে হয় কি না জানতে চাইলে সে বলে, ‘কে দিবো’।
আমাদের সমাজে প্রচুর ধনী ব্যক্তি আছেন যারা তাদের বাচ্চাদের জন্মদিনে প্রচুর অর্থ খরচ করেন। ঈদের কেনাকায়ও অনেক টাকা খরচ করেন। কিন্তু আমরা একবারও কি ভাবি যে শিশুরা দুই টাকার জন্য আমাদের পিছনে দৌড়ে বেড়ায় তারা কি করে ঈদ করবে ? যারা রাস্তায় ফুল বিক্রি করে তারা ঈদে কি পোশাক পড়বে ? যারা কাগজ আর বোতল কুড়িয়ে টাকা উপার্জন করে তাদের ঈদ কেমন হবে? আর তাই সমাজের সচ্ছল মানুষেরা যদি তাদের খরচ থেকে যদি কিছু টাকা বাঁচিয়ে তাদেরকে দেয় তবে তাদের ঈদ আনন্দ জমে উঠবে। বেশি কিছু বলছি না যারা ৩-৪ টি পোশাক কিনেন তারা যদি তার একটি কম কিনেন অথবা ২,০০০ টাকা দিয়ে জুতো না কিনে ১,৫০০ টাকা দিয়ে যদি কেনা হয় তাহলে সঞ্চিত এসব টাকা দিয়ে এসব গরীব শিশুদের মুখে হাসি ফোটানো সম্ভব। ৫০ জন মানুষও যদি ৩০০ টাকা সঞ্চয় করে তাহলে ভেবে দেখুন কত পথশিশুদের ঈদের নুতুন পোশাক পরানো সম্ভব।
রোজা অর্থ সংযম। কিন্তু আমরা ক’জন সংযম করি। আমরা ইফতার-সেহরিতে যদি একটু সংযমী করি তাহলে যে টাকা বাঁচবে তা দিয়ে তাদের সংসার একদিন চলবে। রোজার তাৎপর্য বেশি বেশি নেক কাজ করা। আর দান তার মধ্যে অন্যতম। নিজেদের জন্য একটু বাজেট কমিয়ে, সে টাকা দিয়ে কিছু পথশিশুকে নতুন পোশাক কিনে দেয়া যায়। আমাদের সবার উচিত যার যার সাধ্যমত পথশিশুদের মাঝে একটু করে সাহায্যের হাত বাড়ানো।
যাতে ওরা ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারবে। তা না হলে রমজানে সংযম বৃথা হবে। এদের মুখে হাসি ফোঁটাতে খুব বেশি খরচ করতে হবে না। শুধুমাত্র প্রয়োজন একটু সহযোগিতার মনোভাব। অথচ সে সহযোগিতার মনোভাবেরই আমাদের খুব অভাব। আমরা নিজেদের জন্য অনেক খরচ করি। কিন্তু একবারো ভাবিনা এসব শিশুদের কথা। অথচ আমাদের একটু সাহায্য এদের মুখে হাসি ফোঁটাতে পারে। আমাদের মনে রাখা উচিত এসব পথশিশুরা আমাদের সমাজের সন্তান। আমরা যদি অল্প করে হলেও তাদের সাহায্য করি তাহলে আমাদের কোন ক্ষতি হবে না কিন্তু এ সব অসহায় শিশুদের মুখে হাসি ফুটবে। তাই পাঠকবৃন্দ আসুন আমরা সবাই আমাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেই। এই ত্যাগ আর আনন্দে এবারের ঈদ ভরে উঠুক অনাবিল খুশিতে।
২০.০৭.২০১৪ 