শুরু শারদীয় দুর্গোৎসব, আজ মহাষষ্ঠী
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪.কম
প্রকাশিত : ০৪:৩৬ পিএম, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭ মঙ্গলবার | আপডেট: ১১:৪৭ এএম, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭ বুধবার
আজ মহাষষ্ঠী। মূলত ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়েই শুরু হলো পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসব। আজ থেকে দেশের সবগুলো পূজামণ্ডপ মুখরিত হবে চণ্ডীপাঠ, শাঁখের আওয়াজ, ঢাকের বাজনা, উলুধ্বনি ও নানাবিধ আনন্দ অনুষঙ্গে।
ঢাকা মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির কর্মসূচি অনুযায়ী গতকাল সন্ধ্যায় দেবীর বোধন সম্পন্ন হয়েছে। মহালয়ার মাধ্যমে শুরু হয়েছিল দেবীর আবাহন। আজ মহাষষ্ঠীতে দেবী কৈলাস থেকে মর্ত্যলোকে এলেন।
ষষ্ঠীপূজার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। ষষ্ঠী হলো চান্দ্র মাসের ষষ্ঠ দিন। সে অনুযায়ী প্রতি মাসেই ষষ্ঠী আসে বিভিন্ন তাৎপর্য নিয়ে। যেমন নীলষষ্ঠী, জামাইষষ্ঠী, দুর্গাষষ্ঠী। দুর্গাষষ্ঠীতে বংশধরদের কল্যাণ কামনা করা হয়। মায়েরা দুর্গাপূজা শুরুর এই দিনে সন্তানদের মঙ্গল কামনা করে দেবীকে অঞ্জলি দেন।
জগতের কল্যাণ কামনায় এবার দেবী দুর্গা আসছেন নৌকায়। শ্বশুরবাড়ি কৈলাস থেকে কন্যারূপে তিনি মর্ত্যলোকে আসছেন বাপের বাড়ি বেড়াতে। সঙ্গে আসছেন জ্ঞানের প্রতীক দেবী সরস্বতী; ধন, ঐশ্বর্যের প্রতীক দেবী লক্ষ্মী, সিদ্ধিদাতা গণেশ এবং বলবীর্য ও পৌরুষের প্রতীক কার্তিক। এঁরা মায়ের চার সন্তান।
ওদিকে দেবী দুর্গাকে বরণ করতে ভক্তরাও সমানভাবে উদগ্রীব। তাদের আয়োজনও কম নয়।
সনাতন ধর্মের প্রাচীন আর্য ঋষিরা সর্বশক্তিমান পরমেশ্বরের প্রতীক হিসেবে দেবী দুর্গার প্রসন্নতা ও আশীর্বাদ লাভের জন্য আরাধনা করতেন। এ যুগেও সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তরা হৃদয়ের অর্ঘ্য সাজিয়ে আনন্দময়ী দুর্গার অর্চনা করেন। কারণ তিনি সর্বশক্তির আধার। মাতৃরূপে তিনি সর্বজীবে বিরাজ করে জীবের দুর্গতি নাশ করেন বলেই তাঁর নাম দুর্গা। শত্রু নাশে এ কারণেই তাঁর ১০ হাতে ৯ অথবা ১০ রকম অস্ত্র শোভা পায়। ডান হাতে ত্রিশূল, খড়গ ও চক্র। বাম হাতে শঙ্খ, ঢাল, কুঠার, ঘণ্টা। সত্য প্রতিষ্ঠা, ভক্তের দুর্দশা লাঘবে শত্রুকে তিনি ছাড় দিতে রাজি নন। সব শক্তি একত্রিত করে তিনি সমূলে শত্রু নাশ করতে চান। দুর্গাপূজা এক অর্থে তাই মহাশক্তির প্রতীকী রূপও বটে। পৃথিবীতে অন্যায়-অত্যাচারী, পাপিষ্ঠদের রুখে দিয়ে শোষকের হাত থেকে শোষিতদের উদ্ধার করতে, সত্যকে স্বরূপে প্রতিষ্ঠা করতে আজ এই মহাশক্তির আরাধনা বড় বেশি প্রয়োজন।
এবারের দুর্গোৎসব আনন্দমুখর করে তুলতে দেশজুড়ে ইতিমধ্যেই বর্ণাঢ্য প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের প্রতিটি মণ্ডপের নিরাপত্তায় বিশেষভাবে নিয়োজিত রয়েছেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এর বাইরেও প্রতিটি মণ্ডপে রয়েছে স্বেচ্ছাসেবক দল। দেশের ঐতিহ্যমণ্ডিত পূজা মণ্ডপগুলোয় পূজার পাশাপাশি ভক্তিমূলক সংগীতানুষ্ঠান, প্রসাদ বিতরণ, আরতি প্রতিযোগিতা, স্বেচ্ছা রক্তদান, বস্ত্র প্রদান অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর শনিবার বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান এই ধর্মীয় উৎসব শেষ হবে। সেদিন দেবী দুর্গা কৈলাসে ফিরে যাবেন। পঞ্জিকা অনুযায়ী দেবী এবার বিদায় নেবেন ঘোড়ায় চড়ে। এবার দেশব্যাপী প্রায় ৩০ হাজার মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।
