ঢাকা, সোমবার ০৯, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৩:২৬:৪৫ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

বাসে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা: চালকের সহকারীর দায় স্বীকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৬:১৬ পিএম, ২৯ ডিসেম্বর ২০২০ মঙ্গলবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় সিলেট থেকে দিরাইগামী যাত্রীবাহী বাসে কলেজছাত্রীকে (১৭) ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় গ্রেফতার বাস চালকের সহকারী রশিদ আহমেদ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাগীব নুরের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় রশিদ আহমদ। জবানবন্দি শেষে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সুনামগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. আশেক সুজা মামুন জানান, জবানবন্দি দেয়ার পর রশিদ আহমদকে কারাগারে পাঠানো হয়।

রশিদ আহমদ সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার চরমহল্লা ইউনিয়নের কামরাঙ্গিরচর গ্রামের হাবিব আহমদের ছেলে। নির্যাতিতা ছাত্রীর বাড়ি দিরাই পৌর শহরে। তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাসের চালক শহীদ মিয়া এখনও পলাতক রয়েছে। তিনি সিলেটের জালালবাদ থানার মোগলগাঁও ইউনিয়নের মোল্লারগাঁও গ্রামের তৌফিক মিয়ার ছেলে।

প্রসঙ্গত, শনিবার বিকেলে সিলেট থেকে দিরাইর উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা সিলেট জ-১১০৭২৩ নম্বরের একটি যাত্রীবাহী বাসে আত্মীয়ের বাড়ি লামাকাজি থেকে নিজ বাড়িতে আসার জন্য দিরাইগামী বাসে উঠে ওই তরুণী। বাসটি সন্ধ্যায় দিরাই পৌরসভার সুজানগর গ্রামের পাশে আসলে এ সময়ে ওই তরুণী ছাড়া গাড়িতে আর কোনো যাত্রী না থাকার সুযোগে বাসের চালক ও হেলপার মিলে মেয়েটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। মেয়েটি প্রাণ ভয়ে বাস থেকে লাফ দিয়ে সড়কে পড়ে যায়। পরে গ্রামবাসী তাকে আহত অবস্থায় দিরাই হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

এ ঘটনায় সেদিন রাতেই ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে বাসের চালক শহীদ মিয়া ও তার সহকারী রশিদ আহমদকে আসামি করে দিরাই থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন। মামলার দুই দিন পর সোমবার ভোরে সুনামগঞ্জ জেলার গোবিন্দগঞ্জ বাজারের বুঙ্গাইরগাঁও থেকে বাস চালকের সহকারী রশিদ আহমদকে গ্রেফতার করে পিপিআই।

গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রশিদ আহমেদ সেদিনের পুরো ঘটনার বর্ণনা দেন বলে জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খালেদ উজ জামান। তিনি বলেন, সিলেটের লামাকাজি থেকে ওই কলেজ ছাত্রীকে বাসে তুলে দেন তার বোন জামাই। বাসটি সুনামগঞ্জ যাওয়ার কথা ছিলো এবং বাসটিতে বিভিন্ন এলাকার মোট ৪৫ জন যাত্রী ছিলেন। এদের মধ্যে দিরাই যাওয়ার জন্য ছিলেন ছয়জন। দিরাই যাওয়ার রোড ভিন্ন হওয়ায় ছয়জন যাত্রী দিরাই রাস্তার মোড়ে নেমে গেলেও ওই তরুণী সুনামগঞ্জ চলে যান। পরবর্তীতে বাসটি আবার দিরাইয়ের উদ্দেশে আসলে বাসে কোনো যাত্রী তোলা হয়নি।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে বাসে চালক, তার সহকারী এবং গেটকিপার থাকার কথা স্বীকার করেছে এবং প্রাথমিকভাবে ধর্ষণচেষ্টার সত্যতা পাওয়া গেছে। গ্রেফতারের পরই রশিদ আহমেদকে সোমবারই দিরাই থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

-জেডসি