আত্মঘাতী বেকার শিক্ষকের চিতায় শুয়ে পড়লেন স্ত্রী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১১:৫১ এএম, ৩ জানুয়ারি ২০২১ রবিবার
আত্মঘাতী বেকার শিক্ষকের চিতায় শুয়ে পড়লেন স্ত্রী
সংসারের অভাব অনটনের কারণে দিশাহারা হয়ে ভারতের দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার চাকরিচ্যুত শিক্ষক উত্তম ত্রিপুরা শনিবার রাতে আত্মহত্যা করেন। আজ রোববার তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করার আগেই চিতার উপরে শুয়ে পড়েন তার স্ত্রী শেফালী ত্রিপুরা।
এ সময় তিনি চিৎকার করে বলতে থাকেন, “আমি এর বিচার চাই। আমাকেও স্বামীর সঙ্গে চিতায় পুড়িয়ে দাও।”
আত্মীয়-স্বজনরা টেনে তাকে চিতা থেকে টেনে তুলে আনতে পারছিলেন না। শেফালী কাতর ভাবে আবেদন করতে থাকেন, স্বামীর আগে যেন তার গায়ে আগুন দেওয়া হয়।
ত্রিপুরায় চাকরি হারানো ১০,৩২৩ জন শিক্ষক চাকরির দাবিতে ৭ ডিসেম্বর থেকে লাগাতার গণবস্থান করছেন। শীতের মধ্যে তারা গত ২৭ দিন ধরে আগরতলার প্যারাডাইস চৌমুহনীতে গণবস্থান করছেন। তাদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবকে অবস্থানস্থলে এসে চাকরির লিখিত প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। এখনও পর্যন্ত সরকারের কোন প্রতিনিধি তাদের সঙ্গে দেখা করে কোনও কথা বলেননি।
ত্রিপুরায় বাম আমলে এই শিক্ষকদের নিয়োগ করা হয়েছিল। কিন্তু আইনি জটিলতায় চাকরি হারান তারা। তবে স্কুল পরিচালনার জন্য সুপ্রিম কোর্ট তাদের অ্যাড হক ভিত্তিতে নিয়োগ করার অনুমতি দেয়। ক্ষমতায় আসার আগে বিজেপি এই শিক্ষকদের সমস্যার স্থায়ী সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু তার পরে তারাও কোনও পদক্ষেপ করেনি বলে অভিযোগ চাকরি হারানো শিক্ষকদের।
এই ১০,৩২৩ জন শিক্ষকের একজন ছিলেন উত্তম ত্রিপুরা (৩২)। দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার তৃষ্ণা গাঁওপঞ্চায়েত এলাকার কমলাকান্ত পাড়ায় এই শিক্ষক তার স্ত্রী, দুই সন্তান এবং মা-বাবা-বোনকে নিয়ে থাকতেন। চাকরি চলে যাওয়ার পর থেকেই অভাব-অনটনে দিন কাটাতে হচ্ছে।
শেফালী জানান, সংসারের এতজনের দ্বায়িত্ব, তার উপরে ব্যাঙ্কের ঋণ, সংসারের খরচ সামলাতে বাইরেও এ-দিক ও-দিক ধারদেনা। প্রায়ই পাওনাদারের তাগাদা এবং ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ মিটিয়ে দেওয়ার জন্য নোটিস। আমার স্বামী দিশাহারা হয়ে পরেছিল।
পুরাতন রাজবাড়ী থানার কর্মকর্তা অর্জন চাকমা জানান, এত দিনেও চাকরি ফিরে পাওয়ার কোনও আশা-ভরসা না পেয়ে ইদানীং হতাশায় ভুগছিলেন। গতকাল রাতে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন উত্তম। রাতেই পরিবারের লোকজনেরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করে। আজ সকালে পুলিশ গিয়ে দেহটি ময়না-তদন্তের জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠিয়ে দেয়। দুপুরে শেষকৃত্য হয়।
