ঢাকা, শনিবার ২৮, মার্চ ২০২৬ ৪:৩২:৪৯ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

আজ টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৩:২২ পিএম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ শুক্রবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

আজ শুক্রবার করোনার টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ থাকবে। সাপ্তাহিক ছুটির কারণে আজ কোনো কেন্দ্রে টিকা দেওয়া হবে না। শনিবার থেকে যথারীতি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে। এমনকি আগামীতে সরকার ঘোষিত ছুটির দিনেও টিকা দেওয়া হবে না। তবে এ সময় অনলাইনে টিকার নিবন্ধন চালু থাকবে।

মূলত কেন্দ্রগুলোতে বিশৃঙ্খলা এড়াতে শুক্রবার থেকে দেশের সব টিকাদান কেন্দ্রে টিকার নিবন্ধন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এখন থেকে কেউ কেন্দ্রে গিয়ে নতুন করে নিবন্ধন করতে পারবেন না। তবে যারা নিবন্ধন করতে কোনো সমস্যায় পড়বেন কেন্দ্রে নিবন্ধনের ব্যাপারে তাদের সহযোগিতা করা হবে। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কেন্দ্রে নিবন্ধন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, স্পট রেজিস্ট্রেশন বন্ধ রেখেছি। প্রতিদিনই সমস্যা হচ্ছে। খুব ঝামেলা হচ্ছে। যারা রেজিস্ট্রেশন করেছে, তারা টিকা নিতে পারছে না। তাৎক্ষণিকভাবে লোকজন এসে, জোরজবরদস্তি করে রেজিস্ট্রেশন করে টিকা নিয়ে চলে যাচ্ছে। আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না। এ জন্য আপাতত কেন্দ্রে রেজিস্ট্রেশন বন্ধ করে দিয়েছি। তবে কেন্দ্রে রেজিস্ট্রেশনের ব্যাপারে সহযোগিতা করা হবে। কারও যদি রেজিস্ট্রেশনে কোনো সমস্যা দেখা দেয়, কেন্দ্রে সেটুকু সাহায্য করা হবে। আমাদের লোকজন থাকবে। সেক্ষেত্রে ওই ব্যক্তি সেদিনই টিকা পাবেন না। তাকে ক্ষুদেবার্তার মাধ্যমে টিকার তারিখ জানিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু কেন্দ্রে গিয়ে নতুন করে রেজিস্ট্রেশন করে সেদিনই টিকা দেওয়া হবে না।

এর আগে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক টিকা নেওয়ার জন্য টিকাদান কেন্দ্রে গিয়ে নিবন্ধনের সুবিধা আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান। তিনি বলেন, নিবন্ধন না করেও অনেকে টিকা নিতে আসায় বিভিন্ন কেন্দ্রে অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, এ পর্যন্ত ১০ লাখের বেশি মানুষ টিকা নেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন। তিন লাখের বেশি মানুষ ইতিমধ্যে টিকা নিয়েছেন। কিন্তু টিকাদান কার্যক্রম ঠিকভাবে চালাতেই আপাতত ওই সুবিধা বন্ধের সিদ্ধান্ত তারা নিয়েছেন। আমরা চাই সুষ্ঠুভাবে ভ্যাকসিন নেওয়া হোক। আমরা বিভিন্ন রকমের জায়গা তৈরি করে দিয়েছি। এই সুন্দর পরিবেশ আমরা তৈরি করেছি। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে যারা অনস্পট রেজিস্ট্রেশন করছেন, তাদের সংখ্যাই বেশি। আর যারা রেজিস্ট্রেশন করছেন, তারাই ঢzকতে পারছেন না। বয়স্ক লোকেরা যাচ্ছেন, তাদের কষ্ট হচ্ছে। যারা ভ্যাকসিন দিচ্ছেন ডাক্তার, নার্স তাদের কষ্ট হচ্ছে। আমরা এই পরিস্থিতি চলতে দিতে চাই না।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রেজিস্ট্রেশন যেহেতু অনেক সাকসেসফুলি হচ্ছে, ১০ লাখের বেশি হয়ে গেছে, এ কারণে আমরা এখন অনস্পট রেজিস্ট্রেশন আর করব না। এখন থেকে যারা নিবন্ধন করে কেন্দ্রে যাবেন, শুধু তাদেরই টিকা দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে যদি টিকাদান কেন্দ্রে নিবন্ধনের প্রয়োজন পড়ে, তখন আবার জানানো হবে।

প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ, বিশেষ করে যাদের স্মার্টফোন নেই, তাদের জন্য টিকাদান কেন্দ্রে এসে নিবন্ধনের সুযোগ রেখেছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কিন্তু গত কয়েক দিনে রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্রে এ নিয়ে বিশৃ্‌ঙ্খলা হওয়ায় সরকার এ সিদ্ধান্ত নিল।

শুক্রবার টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ থাকার ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, শুক্রবার টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ থাকবে। কারণ সেদিন সব মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সাপ্তাহিক ছুটি। আমাদের ওয়ার্কিং ডে সপ্তাহে ছয় দিন, আর মন্ত্রণালয়ের পাঁচ দিন। তবে নিবন্ধন সব সময় করা যাবে। অ্যাপ চালু থাকবে। এ ছাড়া সরকারি ছুটির দিনও টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ থাকবে।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার লাইন ডিরেক্টর ও মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার দিন আমরা টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ রাখছি। কারণ যেখানে টিকা দেওয়া হয়, সেদিন কেন্দ্রটা জীবাণুমুক্ত করা, স্ট্রেরিলাইজেশন করতে হবে। আর যারা টিকা দিচ্ছে, তারা একদিন ছুটি না পেলে ক্লান্ত হয়ে যাবে। টিকাদান কর্মসূচি টানা ছয় মাস চলবে। এ ছাড়া সরকার ঘোষিত কোনো ছুটির দিনও টিকাদান বন্ধ থাকবে। তবে শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সব হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র খোলা থাকে। সেদিন টিকা দেওয়া হবে।

এই কর্মকর্তা কেন্দ্রে নিবন্ধন বন্ধ রাখার ব্যাপারে বলেন, কেন্দ্রে নিবন্ধন নিয়ে আমাদের কাছে বিভিন্ন অভিযোগ আসছে। হইচই, গণ্ডগোল হচ্ছে। বিশৃঙ্খলা মাত্রাতিরিক্ত হয়ে যাচ্ছে। যারা নিবন্ধন করেছেন, তারা অনিবন্ধিত লোকজনের জন্য টিকা দিতে পারছেন না। সে কারণে বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যে লোকটা এক সপ্তাহ আগে রেজিস্ট্রেশন করেছেন, তিনি যদি নির্দিষ্ট দিনে এসে কেন্দ্রে রেজিস্ট্রেশনের চাপে টিকা নিতে না পারেন, সেটা খুবই দুঃখজনক হবে।

-জেডসি