সংঘর্ষে স্বামীদের প্ররোচনা দেয়ায় ১৮ নারীর অর্থদণ্ড
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
উইমেননিউজ২৪.কম
প্রকাশিত : ১০:০৮ এএম, ৯ অক্টোবর ২০১৭ সোমবার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে স্বামীদেরকে সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়ার প্ররোচনা ও দাঙ্গায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে ১৮ জন গৃহবধূসহ এক যুবককে অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
রোববার (৮ অক্টোবর) বিকেলে আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিরুল কায়সার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ১৮ নারীকে পাঁচ লাখ ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন। পরে প্রত্যেককে অর্থদণ্ড পরিশোধ করে মুক্ত হয়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, পরকীয়া প্রেমের ঘটনায় থানায় মামলা করার জের ধরে শনিবার দুপুরে উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের নগরহাটি মগল মিয়ার বাড়ি ও মনু মেম্ববারের বাড়ির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের ৩০জন আহত হয় এবং মনু মেম্বরের বাড়ির ১০/১২টি ঘর ভাঙচুর ও দুটি ঘর অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এঘটনার পর এই দুই বাড়ির পুরুষরা পালিয়ে যায়। শনিবার রাতে পুলিশ দূর্গাপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে ১৮ নারী ও এক যুবককে আটক করে। পরে তাদেরকে রবিবার বিকেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুই নারীর প্রত্যেককে এক লাখ টাকা, ১৫ জন নারী ও এক যুবক এর প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা ও একজন নারীকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
এব্যাপারে দুর্গাপুর গ্রামের দু`গ্রুপের নেতা শফিক মিয়া ও মগল মিয়া জানান, বাড়ির নারীরা সংঘর্ষে লিপ্ত ছিলনা। পুলিশ পুরুষদের না পেয়ে ঘরের দরজা ভেঙে নারীদের আটক করেছে। স্বামীর অপরাধে স্ত্রী`র সাজা হয় এই প্রথম দেখলাম। স্থানীয় চেয়ারম্যান মো. সাজু খান বলেন, এই নারীদেরকে বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আটক করা হয়েছে। আমার জানামতে অধিকাংশ নারীই সংঘর্ষে লিপ্ত ছিল না।
উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিরুল কায়সার উইমেননিউজকে জানান, দাঙ্গায় সম্পৃক্ত এবং সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়ার জন্য স্বামীদেরকে প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগে ১৪৭, ১৫৩ ধারায় ১৯ জনকে সাজা দেয়া হয়েছে। এব্যাপারে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. বদরুল আলম তালুকদার জানান, দাঙ্গায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাদেরকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে থানায় কোন মামলা না থাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেয়া হয়েছে।
